মর্গেও জয়-মারজিয়া দম্পতির খোঁজ পেলেন না স্বজনেরা
Published: 14th, October 2025 GMT
এক সপ্তাহ আগে মিরপুরের শিয়ালবাড়ির একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নিয়েছিলেন জয় মিয়া (২০) ও মারজিয়া সুলতানা (১৮)। সম্পর্কে তাঁরা স্বামী স্ত্রী। মঙ্গলবার শিয়ালবাড়িতে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে দুজনই নিখোঁজ।
শিয়ালবাড়িতে যে দুটি ভবনে আগুন লাগে সেখানকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত পোশাক কারখানায় স্বামী–স্ত্রী কাজ করতেন। জয় মিয়া কাজ করতেন অপারেটর হিসেবে। আর স্ত্রী মারজিয়া সুলতানা ছিলেন হেলপার (সহযোগী)।
অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মারজিয়ার বাবা মো.
রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর মরদেহ শনাক্ত করতে মর্গে প্রবেশ করেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা।
মারজিয়ার বাবা ও জয় মিয়ার বাবা সবুজ মিয়াও সন্তানদের মরদেহ শনাক্ত করতে মর্গে প্রবেশ করেন। তাঁরা সেখানে থাকা ১৮টি মরদেহ দেখেন। কিন্তু সন্তানদের কোনো মরদেহ সেখানে শনাক্ত করতে পারেননি তাঁরা।
এরপর মারজিয়া ও জয়ের ছবি হাতে মর্গ থেকে বেরিয়ে আহাজারি করেন সুলতান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মর্গের সব জায়গা খুঁজেও মেয়ে ও জামাইকে পাওয়া যায়নি। কোনো মরদেহকেই তাদের মতো মনে হয়নি। অনেকগুলো আবার পুড়ে গেছে, চেনা যায় না।
এখন কী করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে মারজিয়ার বাবা প্রথম আলোকে জানান, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখবেন খোঁজ পান কি না। এর আগে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে গিয়েও দেখেছেন, কিন্তু সেখানে পাননি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে ১৬টি মরদেহ আনা হয়েছে। ঢাকা, ১৪ অক্টোবরউৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: মরদ হ
এছাড়াও পড়ুন:
ফ্যাসিবাদী কাঠামো রেখে দিতে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে: ডাকসু ভিপি
পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রেখে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। আজ শনিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ ও জুলাই স্মৃতি: শাবিপ্রবি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শাখা ছাত্রশিবির। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিপ্লব হয়েছিল ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপ করা, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণ করার জন্য। কিন্তু আজকে দেখতে পাচ্ছি, ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রেখে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো বলতে শুরু করেছে যে নির্বাচিত সরকার এলে গণভোট, সংবিধান, সংস্কারগুলো হবে কি হবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, এই জুলাই শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য হয়েছে। সব ফ্যাসিবাদী কাঠামো, ফ্যাসিবাদের দোসর ও খুনি হাসিনার বিচার করা ছাড়া এই প্রজন্ম থামবে না।’
সব ছাত্রসংগঠনকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘সেটা যে-ই হোক, ছাত্রদল হোক বা ছাত্রশিবির—বাংলাদেশপন্থী সবাইকে এক হতে হবে। এখন যারা আমাদের শত্রু, তাদের মোকাবিলা না করে যদি নতুন বাংলাদেশে আবারও স্পেস দেওয়া হয়, তাহলে সামনে আরও বড় ষড়যন্ত্র হবে। জুলাইকে নানা উপায়ে ছোট দেখানোর চেষ্টা চলছে। বলা হচ্ছে, এটা নাকি শুধু একটা আন্দোলন কিংবা ক্ষমতার পালাবদল।’
দলমত-নির্বিশেষে জুলাই বিপ্লব হয়েছে উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘যখন সব রাজনৈতিক দল এককভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে, তখন সব সাধারণ ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দল একত্রে দল ও মতকে ঊর্ধ্বে রেখে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু আজ আমরা সেই মুহূর্তকে ভুলে যাচ্ছি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই আমাদের সবাইকে নতুন বাংলাদেশ গড়তে এক ও একতাবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।’
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি তারেক মনোয়ারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ।