বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম যৌন হয়রানির বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিলে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, এ ধরনের কাজ করে কেউ যেন পার পেয়ে না যান, তা নিশ্চিত করবে সরকার।

আজ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ দলের হয়ে ১৩৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা জাহানারা বৃহস্পতিবার একটি ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলে থাকার সময় যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। জাতীয় নারী দলের সাবেক নির্বাচক মনজুরুল ইসলাম এবং নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদকে দায়ী করে তাঁদের কখনোই ‘ক্ষমা করবেন না’ বলেও মন্তব্য করেন।

জাহানারার সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন উঠলে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আজ কথা বলেন ক্রীড়া উপদেষ্টাও।

জাহানারার সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে জানিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দপ্তর থেকে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি যদি আইনি ব্যবস্থা নিতে চান, এটা যেহেতু ফৌজদারি অপরাধও, এটা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যাঁরা জড়িত, তাঁরা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিটা পান, সেটা আমরা নিশ্চিত করব।’

আরও পড়ুনজাহানারার অভিযোগ গুরুতর—বললেন তামিম, তদন্তে বিসিবি সংশ্লিষ্ট কাউকে চান না৩ ঘণ্টা আগে

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীর প্রতি যৌন হয়রানির প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ধরনের কথা আজকে প্রথম এসেছে, তা নয়, অন্যান্য খেলা থেকেও অনেক সময় (অভিযোগ) আসে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, এ ধরনের কাজ করে কেউ যেন পার পেয়ে না যায়।’

জাহানারার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

দেশের ক্রিকেট ও গোটা ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে প্রতিটি অভিযোগ বিসিবি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে আশা প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘আশা করি, বিসিবির তদন্ত কমিটি পুরোপুরি প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করবে এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে, যেন এসবের পুনরাবৃত্তি আর কখনো না হয়।’

জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি চেয়েছেন। তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কিংবা সরকারি পর্যায়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি করেছেন, যেখানে বিসিবিসংশ্লিষ্ট কেউ থাকবেন না।

আরও পড়ুনজাতীয় দলে যৌন হয়রানির অভিযোগ জাহানারার, তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত বিসিবির১৭ ঘণ্টা আগে.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: য ন হয়র ন র উপদ ষ ট ব যবস থ সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সমঝোতা নয়, শক্তির খেলায় পুতিন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ভ্লাদিমির পুতিন আদৌ কোনো চুক্তি চান না। একটি চুক্তির জন্য তাঁকে যেভাবে তোষামোদ করা হচ্ছে, তা-ও উপভোগ করছেন তিনি। তাই মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টায় বৈঠকের পরও কোনো সমঝোতায় যাননি।

বৈঠক থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাত জ্যারেড কুশনারকে বলতে গেলে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে।

প্রায় চার বছর আগে এই যুদ্ধ রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনই শুরু করেছিলেন। ভেবেছিলেন নিমেষেই ইউক্রেনে জয় পাবেন। কারণ, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে তখন বেশ বিব্রত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে পুতিনের আশা পূরণ হয়নি। কিয়েভের সহায়তার এগিয়ে আসে ওয়াশিংটন ও ন্যাটো। ফলে এক বছর আগে যুদ্ধে ইউক্রেনের কৌশলগত জয়ের মতো অবিশ্বাস্য পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছিল।

তবে সবকিছু বদলে যায় দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পর। যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ থামাতে তৎপর হয়ে ওঠেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়ে দেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের নয়। আর কোনো অর্থ এর পেছনে অপচয় করতে চান না তিনি। এভাবে একটি শান্তিচুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার পেছনে ঘুরবে—এমনটা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি পুতিন। আর যত দিন ধরে যুদ্ধ চলবে, মস্কোরই লাভ হবে।

চুক্তির যে অগ্রগতি, তা আরও সময় নেবে বলেই মনে হচ্ছে। থ্যাংকসগিভিং উৎসবের আগে চুক্তি করার জন্য ট্রাম্প যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তা এখন মরীচিকা। মস্কো আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখন আবার ইউরোপীয়দের সঙ্গে বসবেন, তারপর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যাবেন। এভাবে প্রক্রিয়াটি চলতেই থাকতে পারে।

পুতিন একজন বাস্তববাদী মানুষ। সব ধরনের সুযোগ ও বাধার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন তিনি। আর এই যুদ্ধ ঘিরে নিজের একটি ভূরাজনৈতিক স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেও কাজ করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তা হলো বৈশ্বিক নিরাপত্তার ভারসাম্য নতুন করে সাজিয়ে নেওয়া এবং দশকের পর দশক ধরে চলে আসা মার্কিন আধিপত্যে বদল আনা। ক্ষমতায় টিকে থাকতেও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া একটি কৌশল।

আরও পড়ুনপুতিনের দুই দিনের ভারত সফর নিয়ে এখন পর্যন্ত যা যা জানা গেল৫৩ মিনিট আগে

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ধীরে হলেই ইউক্রেনে সামরিকভাবে অগ্রগতি পাচ্ছেন পুতিন। তিনি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন ইউক্রেনে সেনা ও তহবিল সংকট চলছে। বাড়ছে রাজনৈতিক সংকট। এ থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার যে চুক্তিতে না গেলেও আখেরে রাশিয়ার পূর্ণ বিজয় ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে নিজের ভূরাজনৈতিক স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন পুতিন।

আরও পড়ুনভারতকে ‘নিরবচ্ছিন্নভাবে’ জ্বালানি সরবরাহ দিতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন৭ ঘণ্টা আগেআরও পড়ুননয়াদিল্লির ১৭০ কোটি রুপির নিজামের প্রাসাদে থাকছেন পুতিন, কী আছে এতে৯ ঘণ্টা আগে

সম্পর্কিত নিবন্ধ