সাত লাখ বছর নীরব থাকার পর জেগে উঠছে এক আগ্নেয়গিরি
Published: 7th, November 2025 GMT
দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের একটি আগ্নেয়গিরি ভূপৃষ্ঠ গত ১০ মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৫ ইঞ্চি বা ৯ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে এসেছে। এই বৃদ্ধি সামান্য মনে হতে পারে কিন্তু এর তাৎপর্য অনেক। একটি নতুন গবেষণায় উপগ্রহের তথ্য ব্যবহার করে এই পরিবর্তন লক্ষ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, সেখানে আগ্নেয়গিরির চূড়ার কাছাকাছি চাপ তৈরি হচ্ছে।
আগ্নেয়গিরিটির নাম তাফতান। মানুষের আবির্ভাবের পরের যে ইতিহাস, সেখানে এটি কখনো বিস্ফোরিত হয়নি। নতুন সংকেত বলছে, আগ্নেয়গিরির সিস্টেম সক্রিয় হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা ইনএসএআর পদ্ধতি ব্যবহার করে ভূমি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এটি একটি রাডার–নির্ভর পদ্ধতি, যা মহাকাশ থেকে মাটির গতিবিধি পরিমাপ করে। তাঁরা সেন্টিনেল-১ উপগ্রহ ব্যবহার করেছেন তথ্য সংগ্রহের জন্য।
তাফতান আগ্নেয়গিরির উত্থান ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। উত্থানের কেন্দ্র ছিল চূড়ার কাছাকাছি। এই উত্থান আবার নিচে নেমে যায়নি বলে চাপ এখনো প্রশমিত হয়নি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। স্প্যানিশ ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারাল প্রোডাক্টস অ্যান্ড অ্যাগ্রোবায়োলজির গবেষক পাবলো জে গঞ্জালেজ জানান, তাফতান একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। সেখানে ক্রমাগত জিপিএস রিসিভারের মতো স্থলভিত্তিক যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজের সুযোগ নেই। এ কারণে মহাকাশ রাডার দিয়ে নজর রাখা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০ ফুট বা ৪৯০ থেকে ৬৩০ মিটার নিচে চাপের তথ্য পেয়েছেন। এই অগভীর স্তর থেকে জানা যায়, সেখানে একটি হাইড্রোথার্মাল সিস্টেমে আগ্নেয়গিরির নিচে গরম পানি ও গ্যাস সঞ্চালিত হয়ে ভেতরে চলাচল করছে ও জমা হচ্ছে। তাফতান আগ্নেয়গিরির গভীরে ম্যাগমা আধার অবস্থিত। এটি দুই মাইলের বেশি নিচে। সেখানে সম্ভবত তাজা ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে ওপরের গ্যাসের কারণে আসছে। এই প্যাটার্ন একটি ধীরগতির চাপের মতো দেখাচ্ছে। প্রথমে ভূমি ওপরে ওঠে আর এরপর নতুন ফাটল তৈরি হয়। এতে কিছু গ্যাস বের হওয়ার পথ খুঁজে পাওয়ায় উত্থানের গতি স্থির হয়ে গেছে।
তাফতান আগ্নেয়গিরি একটি ১২ হাজার ৯২৭ ফুট উচ্চতার স্ট্র্যাটোভলকানো। এটি লাভা ও ছাইয়ের স্তর দিয়ে গঠিত একটি খাড়া আগ্নেয়গিরি। এটি চূড়ার ফিউমারোল বা যেখান থেকে আগ্নেয় গ্যাস নির্গত হয়, সেই সিস্টেম এখনো সক্রিয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বিভিন্ন আগ্নেয়গিরি দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার পর কয়েক মাসের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা শুধু ছাইয়ের মেঘকে প্রাথমিক সতর্কীকরণ চিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করেন না। তাঁরা গ্যাস, তাপ ও মাটির গতিবিধির দিকেও মনোযোগ দেন।
তাফতান আগ্নেয়গিরির ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। গ্যাসের বিস্ফোরণ স্বল্প সময়ের জন্য নিচের দিকে বাতাস প্রবাহিত অঞ্চলের মানুষের চোখ, ফুসফুস ও ফসলের ক্ষতি করতে পারে। আগ্নেয়গিরির কাছের খোশ শহরটি প্রায় ৩১ মাইল। বাতাস অনুকূলে থাকলে সেখান থেকে গন্ধ পাওয়া যাবে। বিজ্ঞানী গঞ্জালেজ বলেন, ভবিষ্যতে এটি কোনো না কোনোভাবে বের হতে বাধ্য।
সূত্র: আর্থ ডটকম
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: আগ ন য গ র র
এছাড়াও পড়ুন:
ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে হেগসেথের চাপেই কি পদত্যাগ করছেন লাতিন অঞ্চলের শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার
লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দায়িত্বে থাকা নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল অ্যালভিন হোলসি স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার সকালে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। নির্ধারিত মেয়াদের দুই বছর আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
এমন একসময়ে হোলসির পদত্যাগের ঘোষণা এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমিরকার দেশ ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বুধবার ভেনেজুয়েলার একটি তেল ট্যাংকার জব্দের পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির একাধিক নৌযানে ২০টি বেশি হামলা চালিয়েছেন মার্কিন সেনারা।
তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের চাপের কারণে অ্যাডমিরাল অ্যালভিন হোলসি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
দুই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম ও পরিকল্পনায় শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সময়ে দক্ষিণ কমান্ডের কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন হেগসেথ।
এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হোলসিকে বরখাস্ত করা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন হেগসেথ।
কেন আগাম অবসরের ঘোষণা দিলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি হোলসি। কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, ক্যারিবীয় অঞ্চলের সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে হামলার বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।
কিন্তু গত মঙ্গলবার কিছু জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতার সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে হোলসি জোর দিয়ে বলেছেন, তাঁর সিদ্ধান্তের সঙ্গে কমান্ডের কার্যক্রমের সম্পর্ক নেই। সংবাদমাধ্যম পলিটিকোতে রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতা মাইক রজার্স এ মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে একটি অনুষ্ঠানে নিজের সহকারী বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইভান পেটাসের কাছে কমান্ডের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে যাচ্ছেন হোলসি। পেটাস যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিষয়টি সম্পর্কে জানে এমন একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের ভাইস কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফ্র্যাঙ্ক ডোনোভানকেই সম্ভবত হোলসির উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করবেন। তবে মনোনয়ন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি এবং তা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।