নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তান নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ। সফর শেষে আগামী ১২ নভেম্বর তার বাংলাদেশ ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

রবিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সদর দপ্তরে পাকিস্তান নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ এসে পৌঁছালে নৌবাহিনী প্রধান নাজমুল হাসান তাকে স্বাগত জানান।

আরো পড়ুন:

নির্বাচন হলে দেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে: সেনাসদর

‘নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বহাল থাকবে’

এ সময় বাংলাদেশে নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়। তিনি গার্ড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তারা সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর)।

তারা জানায়, সাক্ষাৎকালে উভয় দেশের নৌবাহিনী প্রধান পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। এ সময় দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যকার পেশাগত ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক আরো জোরদার করার লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাতকালে পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রতিনিধিদল, পাকিস্তান হাইকমিশনার, ডিফেন্স অ্যাটাশে, নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসও ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে পাকিস্তান নৌবাহিনী প্রধান শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদৎ বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। 

সেনাপ্রধানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ 
পাকিস্তান নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সেনাসদরে সেনাবাহিনী প্রধানের জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সাক্ষাৎকালে, পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তারা দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা আরো জোরদার এবং পারস্পরিক সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া, যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও পরিদর্শনের মাধ্যমে সামরিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও তাঁরা মতবিনিময় করেন।

অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে করাচি এবং উত্তর আরব সাগরে অনুষ্ঠিত যৌথ অনুশীলন AMAN এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারীদের পেশাদারিত্বের ভুয়সী প্রশংসা করেন।

আইএসপিআর আরো জানায়, পাকিস্তান নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ সফরকালে বিমানবাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, কমান্ড্যান্ট ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ ও চট্টগ্রামের নৌ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

একই সময় পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজ ‘পিএনএস সাইফ’ শুভেচ্ছা সফরে চট্টগ্রামে এসেছে। জাহাজের অধিনায়কসহ অন্য কর্মকর্তা ও নৌ সদস্যরা চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, নৌবাহিনীর ঘাঁটি ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করবেন।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরাও পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজ ‘পিএনএস সাইফ’ পরিদর্শন করবেন। এতে উভয় দেশের নৌ সদস্যরা পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ লাভ করবেন।

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/এসবি 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর স জন য স ক ষ ৎ করব ন

এছাড়াও পড়ুন:

পাঞ্জাবের আইনসভায় ইমরান ও তাঁর দলকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব গৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তাদের নিষিদ্ধ করার দাবিতে পাঞ্জাবের প্রাদেশিক আইনসভায় গতকাল মঙ্গলবার একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

দেশটির বর্তমান শাসক দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ–নওয়াজ (পিএমএল-এন)–এর সঙ্গে পিটিআইয়ের চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এমন একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত আসার কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী নাম উল্লেখ না করে ইমরান খানকে আক্রমণ করে বলেছিলেন, তিনি (ইমরান) সেনাবাহিনীবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন এবং সেনাবাহিনীবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেছিলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য এখন আর রাজনীতির পরিধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এগুলো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছে।’

তার পর থেকে পিএমএল-এন ও পিটিআই নেতাদের মধ্যে কথার লড়াই চলছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ইমরান খান অতীতে কঠিন ভাষায় বিরোধী রাজনীতিকদের সমালোচনা করেছেন। তাই সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রের মন্তব্য নিয়ে আপত্তি তোলার কোনো অধিকার তাঁর নেই।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আইএসপিআরের মহাপরিচালকের মন্তব্যকে পিটিআই ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করে কঠোরভাবে এর নিন্দা জানিয়েছে। পিটিআই জোর দিয়ে বলেছে, ইমরান খান জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি নন।

পিটিআইয়ের আইনপ্রণেতারা এদিন উপস্থিত ছিলেন না।

পাঞ্জাবের প্রাদেশিক আইনসভায় মঙ্গলবার পিএমএল-এন আইনপ্রণেতা তাহির পারভেজ পিটিআইন নেতা ইমরান খান ও তাঁর দলকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবটি আনেন। প্রাদেশিক পরিষদে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। পিটিআইয়ের আইনপ্রণেতারা এদিন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন না।

রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠক নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাঁরা অধিবেশন বর্জন করেন।

পাকিস্তান আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • পাঞ্জাবের আইনসভায় ইমরান ও তাঁর দলকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব গৃহীত