আ. লীগের ডাকা ‘লকডাউন’ কর্মসূচিতে কেউ মাঠে নামলেই গ্রেপ্তারের নির্দেশ
Published: 9th, November 2025 GMT
কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ডাকা ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। লকডাউনের কর্মসূচিতে কেউ মাঠে নামলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেওয়া হয় বৈঠকে। পাশাপাশি আগামী কয়েক দিন ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভা থেকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আইন শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভাটি হওয়ার কথা ছিল আগামী মঙ্গলবার। আজ হঠাৎ করে এ বৈঠক ডাকা হয় মূলত আওয়ামী লীগের কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা করতে। বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদেশে বসে আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির একাধিক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে যে প্রচার চালাচ্ছে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এমনকি আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বরগুনা, বরিশাল, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুর থেকে বেশ কিছু নেতা–কর্মী ঢাকায় এসেছেন বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে চেক পোস্ট বসানোর প্রস্তাব দেন একটি বাহিনীর প্রতিনিধি। পরে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগের বরিশাল অঞ্চলের দুই নেতার নাম উল্লেখ করে তাঁদের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। এই দুই নেতা বিদেশ বসে আবারও অতীতের মতো কোনো কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারেন বলে আভাস দেওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা একটি সূত্র জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। আপাতত সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঠ থেকে না সরিয়ে আরও কিছুদিন রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কারণ মূলত আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে মাথায় রেখে।
এদিকে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.
মোতায়েন করা সেনাবাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্য সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সেনাবাহিনী আগের মতোই মাঠে থাকবে। মাঠ থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে না।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: স বর ষ ট র আওয় ম
এছাড়াও পড়ুন:
রাজবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত কবরস্থানে আগুনের ঘটনায় জিডি
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার তারাপুর কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত অংশে আগুনের ঘটনায় পাংশা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সবুজ হোসেন বাদী হয়ে জিডি করেন।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাংশা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় কবরস্থানে আগুনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। অবিলম্বে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধাসহ বক্তারা।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক। ইউএনও মো. রিফাতুল হক ও পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মইনুল ইসলাম দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ আহম্মেদ।
সভায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বিজয়ের মাসে কারা এমন ঔদ্ধত্য দেখান? তাঁরা কি স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেন না? না হলে বিজয়ের মাসে এমন জঘন্যতম কাজটি করতে পারতেন না।’
কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সবুজ হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত কবরস্থানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আমি বাদী হয়ে রোববার রাতে থানায় জিডি করেছি। আশা করি, পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, গতকাল রোববার ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে তারাপুর জামে মসজিদে আসার সময় মুসল্লিরা পাশে অবস্থিত তারাপুর কবরস্থানে আগুন দেখতে পান। মসজিদের মুয়াজ্জিন ও কবরস্থান দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. শহিদুল ইসলাম তাৎক্ষণিক মসজিদের মাইকে আগুন লাগার খবর প্রচার করেন।
এ সময় মুসল্লিসহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মিলে দ্রুত আগুন নেভান। আগুনে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত কবরস্থানের বাঁশ ও প্লাস্টিকের বেড়া পুড়ে যায়। আগুন লাগার স্থানে পেট্রল ও কেরোসিনের গন্ধ পাওয়া যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ইউএনও, পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।
আজ দুপুরে কবরস্থান পরিদর্শনকালে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মইনুল ইসলাম বলেন, ‘রোববার রাতে থানায় যোগদান করে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা জানতে পারি। এ ঘটনায় রোববার রাতেই থানায় জিডি হয়েছে। আমি নিজে বিষয়টি তদন্ত করছি। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।’
ইউএনও মো. রিফাতুল হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত কবরস্থানে আগুন লাগার ঘটনার দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে কবরস্থানটি ঘিরে দিতে অনুরোধ করেছি।’