সরকার আরো ১৪ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
আরো পড়ুন:
তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সাক্ষাৎ
সচিবালয়ে ৩ দিনব্যাপী ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচি
নতুন ডিসি পাওয়া জেলাগুলো হলো—ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ, নড়াইল, জামালপুর, মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ ও চাঁদপুর।
এই ১৪ জেলার মধ্যে দুই জেলায় ডিসি বদলি হয়েছে, বাকি ১২ জেলায় নিয়োগ পেয়েছেন নতুন মুখ। নড়াইলের ডিসি শারমিন আক্তার জাহানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবং মেহেরপুরের ডিসি মোহাম্মদ আব্দুল ছালামকে নড়াইলে বদলি করা হয়েছে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো.
এছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন চুয়াডাঙ্গা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী মো. সায়েমুজ্জামান পঞ্চগড়, প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের পরিচালক মো. আল-মামুন মিয়া জয়পুরহাট, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুর রহমান ময়মনসিংহ, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক নাজমুন আরা সুলতানা মানিকগঞ্জ এবং প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার চাঁদপুরের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, আগে এসব জেলায় দায়িত্ব পালন করা ডিসিদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (৮ নভেম্বর) রাতে আরো ১৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। তখন ৬ জনের জেলা পরিবর্তন করা হয় এবং ৯ জনকে নতুনভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জেলা পর্যায়ে ডিসিরা জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তদারকি করে।
ঢাকা/আসাদ/সাইফ
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর র উপসচ ব সরক র
এছাড়াও পড়ুন:
রপ্তানিমুখী এফডিআই বাড়াতে কাজ করতে হবে: নাহিয়ান রহমান
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামে যে বিপুল পরিমাণ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে, তার বেশির ভাগই রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে গেছে। ফলে দেশটির রপ্তানি খাত বড় হয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের উন্নয়নেও ভিয়েতনামের এই এফডিআই মডেলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
নাহিয়ান রহমান বলেন, ভিয়েতনামে যাওয়া প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া, ইন্টেলসহ বড় এফডিআই প্রকল্পগুলো রপ্তানিনির্ভর। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য ভিয়েতনামে উৎপাদিত হয়ে অন্যান্য দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা স্থানান্তর ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশটির শিল্প খাতে সক্ষমতা বেড়েছে।
আজ বুধবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত ‘রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন নাহিয়ান রহমান। গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে প্রথম আলো, সহযোগিতায় ছিল প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রূপালী চৌধুরী, রেনাটার এমডি সৈয়দ এস কায়সার কবির, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুব উর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য সায়েমা হক বিদিশা, এলএফএমইএবির সহসভাপতি মো. নাসির খান, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহজাহান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সামিম আহমেদ।
বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান বলেন, বাংলাদেশে ১৯৮০ সালের দিকে তৈরি পোশাক খাতে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কিছু রপ্তানিমুখী বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল। এর মাধ্যমে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ে, যা পরে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হয়। অন্যান্য খাতেও এভাবে রপ্তানিমুখী বিনিয়োগ অংশীদারত্ব তৈরি করা যেতে পারে।
নাহিয়ান রহমান বলেন, বর্তমান ‘ট্যারিফ ফোবিয়ার’ সময়ে রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ অপরিহার্য। রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হলে তৈরি পোশাক ছাড়াও অন্যান্য খাত থেকে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় আসতে হবে। সে লক্ষ্য অর্জনে তৈরি পোশাকের বাইরের খাতগুলোতে প্রবৃদ্ধি আড়াই গুণ বাড়াতে হবে।
বিডার এই নির্বাহী সদস্য আরও বলেন, একটি ছোট অর্থনীতিতে প্রাথমিকভাবে এক-দুটি খাতে বেশি নজর দেওয়া স্বাভাবিক। যেমন ষাট–সত্তরের দশকে কোরিয়ার তৈরি পোশাক ছিল প্রধান রপ্তানি খাত। পরে তারা অন্যান্য খাতে বিস্তার ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সঠিক খাত চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রাধান্য দেওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ।
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বিডা নিয়মিত কাজ করছে জানিয়ে নাহিয়ান রহমান বলেন, দেশের রপ্তানি খাতের সম্ভাবনাময় শীর্ষ খাতগুলো চিহ্নিত করতে ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েছে বিডা। বিনিয়োগ, দক্ষতা স্থানান্তর ও রপ্তানি সম্ভাবনার আলোকে আটটি খাত নিয়ে একটি হিটম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। বিডায় আটটি খাতের জন্য আলাদা ডেস্ক আছে। ব্যবসায়ীরা এসব খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় তথ্য বিডা থেকে জানতে পারবেন। সরকারও এসব খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি নির্ধারণ করতে পারে।
নাহিয়ান রহমান আরও বলেন, ‘নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার’ (অশুল্ক বাধা) দূর করতে ব্যবসায়ীদের সরাসরি সহযোগিতা প্রয়োজন। বিডা নিয়মিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করছে। ব্যবসায়ীরা সুনির্দিষ্টভাবে সমস্যা, তথ্য ও উদাহরণ দিলে সরকার সহজেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারবে।