নির্বাচন সামনে রেখে দু্ই দিনে ২৯ জেলায় নতুন ডিসি
Published: 9th, November 2025 GMT
দুই দিনে দেশের ২৯ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে আজ রোববার ১৪ জেলায় এবং আগের দিন গতকাল শনিবার রাতে আরও ১৫ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। বদলি ও রদবদলের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে বড় ধরনের এই রদবদল করা হলো। জাতীয় নির্বাচনে ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
আজ যে ১৪ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে নড়াইলের বর্তমান ডিসি শারমিন আক্তার জাহানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো.
এর আগে গতকাল শনিবার রাতে ঢাকা, খুলনা, গাজীপুর, বগুড়া, নোয়াখালীসহ ১৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছয়জন ডিসিকে অন্য জেলায় বদলি এবং নয়জন কর্মকর্তাকে নয়টি জেলায় ডিসির দায়িত্ব দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এর মধ্যে বরগুনার ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আলমকে ঢাকায়, বাগেরহাটের ডিসি আহমেদ কামরুল হাসানকে নোয়াখালীতে, কুষ্টিয়ার আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনকে হবিগঞ্জে, ভোলার মো. আজাদ জাহানকে গাজীপুরে, সিরাজগঞ্জের মুহাম্মদ নজরুল ইসলামকে গাইবান্ধায় এবং খুলনার মো. তৌফিকুর রহমানকে বগুড়ার ডিসি করা হয়।
এ ছাড়া সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহকে বরগুনার, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সচিব (উপসচিব) মো. আমিনুল ইসলামকে সিরাজগঞ্জের, বাণিজ্য উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে মাগুরার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবু সাঈদকে পিরোজপুরের, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পাবনা জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আফরোজা আখতারকে সাতক্ষীরার, স্থানীয় সরকার ফেনীর উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মো. বাতেনকে বাগেরহাটের, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) একান্ত সচিব স. ম. জামশেদ খোন্দকারকে খুলনার, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনকে কুষ্টিয়ার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব শামীম রহমানকে ভোলার জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অপরদিকে যেসব জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয় সেসব জেলার ডিসিদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: জ ল য় নত ন ড স উপদ ষ ট র কর মকর ত ম হ ম মদ মন ত র সরক র
এছাড়াও পড়ুন:
পেছনে ফিরে দেখেন ছেলে নেই, গর্তের ভেতর থেকে ডাকছে ‘মা, মা’ বলে
রাজশাহীর তানোরে ৩০-৩৫ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। খননযন্ত্র দিয়ে মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে অক্সিজেন সরবরাহও অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বুধবার বেলা একটার দিকে তানোরে সাজিদ নামের দুই বছর বয়সী শিশুটি গভীর গর্তে পড়ে যায়। শিশুটি তার মায়ের হাত ধরে কেটে নেওয়া ধানের খেতে হাটছিল। হঠাৎ সে গর্তে পড়ে যায়। সাজিদ উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিবের ছেলে। রাকিব ঢাকায় একটি জুট মিলের ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন। তিনি এখনো বাড়িতে পৌঁছাতে পারেননি।
আরও পড়ুনরাজশাহীতে দুই বছরের শিশু ৩০ ফুট গভীর গর্তে, ফায়ার সার্ভিস অক্সিজেন দিচ্ছে২ ঘণ্টা আগেশিশুটির মা রুনা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, বেলা একটার দিকে মেজ ছেলে সাজিদের হাত ধরে তিনি বাড়ির পাশে মাঠে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর ছোট একটি সন্তান কোলে ছিল। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ মা বলে ডেকে ওঠে। তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখেন, ছেলে নেই, গর্তের ভেতর থেকে ‘মা, মা’ বলে ডাকছে। গর্তটির ওপরে খড় বিছানো ছিল। ওখানে যে গর্ত ছিল, সেটা তিনিও বুঝতে পারেননি, ছেলেও। ওই জায়গায় পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলে গর্তের ভেতর পড়ে গেছে। লোকজনকে ডাকতে ডাকতেই ছেলে গর্তের নিচে চলে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, শিশুটি গর্তে পড়ে যাওয়ার খবর তাঁরা পেয়েছেন বেলা আড়াইটার দিকে। এসে দেখেন, স্থানীয় লোকজন চেষ্টা করতে গিয়ে গর্তের ভেতরে কিছু মাটি ফেলেছেন। বিকেল চারটা পর্যন্ত শিশুটির সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল। পরে মানুষের হট্টগোলের কারণে আর সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
উদ্ধারপ্রক্রিয়া নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা বলেন, ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় ও নিরাপদে উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা চলছে। বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে ওই গর্তের পাশে এক্সকাভেটর দিয়ে আরেকটি গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত খোঁড়া হয়েছে। মাটি সরানোর কাজে লাগানো হয়েছে দুটি ট্রাক্টর। খননকাজ শেষ হতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে।
স্থানীয় লোকজন জানান, রাজশাহীর তানোর উপজেলার পচন্দর ইউনিয়নের এই গ্রামে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এ এলাকায় এখন গভীর নলকূপ বসানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। এ অবস্থার মধ্যে কোয়েলহাট গ্রামের এক ব্যক্তি তাঁর জমিতে পানির স্তর পাওয়া যায় কি না, সেটা যাচাই করার জন্য গর্তটি খনন করেছিলেন। সেই গর্ত ভরাটও করেছিলেন, কিন্তু বর্ষায় মাটি বসে গিয়ে নতুন করে গর্ত হয়। সেই গর্তেই শিশুটি পড়ে যায়।
উদ্ধারকাজ দেখার জন্য এলাকার শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। রাত সোয়া আটটার দিকে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দড়ি টানিয়ে ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে।