মার্কেটিং পেশায় সফল হতে প্রয়োজন বুদ্ধি, গবেষণা ও নৈতিকতার সমন্বয়: সৈয়দ আলমগীর
Published: 9th, November 2025 GMT
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রায়ই তরুণদের দেখা যায় সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে ভুগতে। ফলে অনেক সময় যথেষ্ট মেধা, আগ্রহ ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা ক্যারিয়ারে ভালো করতে পারেন না। তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা জোগাতে প্রথম আলো ডটকম ও প্রাইম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পডকাস্ট শো: লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হকের সঞ্চালনায় দশম পর্বে অতিথি হিসেবে অংশ নেন করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও বিপণন বিশেষজ্ঞ সৈয়দ আলমগীর। আলোচনার বিষয় ছিল ‘উদ্ভাবন, নেতৃত্ব ও নৈতিকতা: আকাশচুম্বী উন্নয়নের পথে সৈয়দ আলমগীরের লিগ্যাসি’।
‘মার্কেটিং সেক্টরে কাজ করতে হলে সৃজনশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ ধরে রাখাও জরুরি।’ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে তরুণদের উদ্দেশে এ পরামর্শ দেন এবারের পডকাস্ট শো: লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচের অতিথি সৈয়দ আলমগীর। পর্বটি গত শনিবার প্রচার হয় প্রথম আলোর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে।
বাংলাদেশে সত্তর থেকে আশির দশকে যখন সৈয়দ আলমগীর পেশাগত যাত্রা শুরু করেন, তখন মার্কেটিংয়ের ধারণাটি খুব একটা স্পষ্ট ছিল না। বিষয়টি উল্লেখ করে পডকাস্টের শুরুতেই সঞ্চালক জানতে চান, আপনি কীভাবে এই পেশায় এলেন?
উত্তরে সৈয়দ আলমগীর বলেন, ‘ছাত্রজীবনে আমি সিভিল সার্ভেন্ট হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার পর বুঝলাম সেটা আমার পথ নয়। পরে আইবিএতে ভর্তি হই। পড়াশোনা শেষ করে প্রথমে ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে কাজ শুরু করি। সেখানেই আমার মার্কেটিংয়ে হাতেখড়ি।’
প্রসঙ্গক্রমে সঞ্চালক জানতে চান, বাংলাদেশে প্রথম আপনি ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটিংয়ে ‘লোকাল প্রিন্টিং’য়ের ধারণা আনলেন। এটি কীভাবে সম্ভব হলো?
সৈয়দ আলমগীর বলেন, ‘সেই সময়ে ফার্মাসিউটিক্যালসে বিদেশ থেকে প্রিন্ট করে আনা হতো। আমি প্রমাণ করলাম বাংলাদেশেও একই মানের প্রিন্টিং সম্ভব। স্থানীয় প্রেসে প্রিন্ট করে তাদের দুটো স্যাম্পল পাঠাই এবং তাদের কপিটি আমার কাছে রেখে দিই। তারা চিনতেই পারেনি কোনটা আসল। ফার্মাসিউটিক্যালে দেশীয় প্রিন্টিং ব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানির আস্থা অর্জন করি, যা প্রমাণ করে দেশেই ভালো কাজ সম্ভব।’
সৈয়দ আলমগীর আরও বলেন, ‘এরপর বড় কিছু করার উদ্দেশ্যে এবং একটি ভালো সুযোগ পেয়ে আমি এফএমসিজির দিকে যাই। যেখানে আগের বেতনের প্রায় ২৫০ শতাংশ বেশি প্রস্তাব পেয়েছিলাম। আমিই প্রথমবার স্থানীয়ভাবে “স্নিকার জুতা” চালু করি, যা আগে বাংলাদেশে ছিল না।’
আপনি বাংলাদেশে ‘হালাল সাবানে’র ধারণা এনেছেন—এই আইডিয়াটি মাথায় কীভাবে এল? জানতে চাইলে সৈয়দ আলমগীর বলেন, ‘আমি সব সময় একটি শক্তিশালী ও আলাদা ইউএসপি তৈরি করতে চেয়েছি। অতীতে আমার ভালো পণ্য—যেমন শিশুদের দুধ “অস্টার মিল্ক” বা মানসম্মত সাবান—প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি, মূলত ভোক্তাদের, বিশেষ করে গৃহিণীদের ঐতিহ্য ও মান নিয়ে দ্বিধার কারণে।’
এ প্রসঙ্গে সৈয়দ আলমগীর বলেন, ‘বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ হিসেবে আমি ভেবে দেখলাম, একটি ভালো সাবানে কী থাকা উচিত—পর্যাপ্ত ফেনা, মনোরম ঘ্রাণ এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারযোগ্যতা। ঠিক তখনই লন্ডনে একটি খাবারের দোকানে “হালাল” লেখা দেখেই আমার মাথায় আসে, যদি সাবান সম্পূর্ণ ভেজিটেবল ফ্যাট থেকে তৈরি হয়, তবে সেটি শতভাগ হালাল সাবান হতে পারে। এ ধারণাটিই আমি দেখি ভোক্তাদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের এক অভিনব উপায় হিসেবে।’
এরপর আপনিই প্রথম ‘শুদ্ধ লবণে’র কনসেপ্ট নিয়ে এলেন। এই ‘সাদা লবণ’ বা ‘বিশুদ্ধ লবণ’–এর ধারণা কীভাবে এল এবং দাম বেশি হওয়া সত্ত্বেও এটি কীভাবে সফল হলো? সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের উত্তরে সৈয়দ আলমগীর বলেন, ‘বিদেশে গিয়ে দেখি “ময়েশ্চার-ফ্রি” পরিষ্কার লবণ। দেশে এনে চেষ্টা করলাম একই ধরনের বানাতে। প্রথমে লস হয়, দাম বেশি ছিল বলে কেউ কিনছিল না। পরে “এসিআই লবণ মেধা বিকাশে সাহায্য করে” এই ধারণা দিই। এবং সেটাই গেমচেঞ্জার হয়ে যায়।’
তাহলে মার্কেটিং পেশায় ক্রিয়েটিভ হওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ? সঞ্চালক জানতে চাইলে সৈয়দ আলমগীর বলেন, ‘এই পেশায় ক্রিয়েটিভিটি হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বিজ্ঞাপনী সংস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। দেশের মানুষ কী চায়, তা বুঝতে হবে এবং বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য জিনিস তুলে ধরতে হবে।’
অনেকেই বলে, মার্কেটিংয়ে নৈতিকতা রক্ষা করা কঠিন। আপনি কীভাবে এটা মেনটেইন করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে সৈয়দ আলমগীর বলেন, ‘আমি সব সময় নৈতিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। হালাল সাবান করার সময় সবাই মানা করেছিল, তবু করেছিলাম। আমি কখনো ওপর থেকে ডিক্টেশন নিইনি। এ জন্য আমি দেশে-বিদেশে নানা সম্মানও পেয়েছি।’
বাংলাদেশে মার্কেটিং পেশায় এখনো মেয়েদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। কীভাবে এটা বাড়ানো যায়—এ প্রসঙ্গে সৈয়দ আলমগীর বলেন, ‘আমি আমার দিক থেকে সব সময় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চেয়েছি। যেখানে দরকার রিক্রুটমেন্টে বলেছি, অন্তত ৫০ শতাংশ নারী থাকতে হবে। মেয়েরা এখন অনেক এগিয়েছে—ডিসি, প্রতিষ্ঠানের এমডি পর্যন্ত হয়েছে। তাঁদের আরও সাহসী হতে হবে, নিজের সিকিউরিটি নিজেরাই তৈরি করতে হবে।’
এরপর সঞ্চালক বলেন, ব্র্যান্ড ম্যানেজার ও ক্রিয়েটিভ এজেন্সির মধ্যে প্রায়ই দূরত্ব দেখা যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশে ব্র্যান্ডগুলোর গবেষণায় ঘাটতি আছে—আপনি এটা কীভাবে দেখেন?
উত্তরে সৈয়দ আলমগীর বলেন, ‘গবেষণা খুব জরুরি। কিন্তু আমাদের মার্কেট ছোট এবং সুরক্ষিত না। আপনি নতুন কিছু আনলে অন্যরা নকল করে। যেমন আমি হালাল সাবান বলার পর ১০০টা হালাল সাবান বেরিয়ে গেছে। তবু আমাদের নিজের ক্রিয়েটিভিটি ধরে রাখতে হবে।’
প্রসঙ্গক্রমে সৈয়দ আলমগীর বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি—যারা মিথ্যা বলে, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা বাজারে বেশি দিন টিকতে পারে না।’
আকিজ ভেঞ্চারে আপনি যেভাবে কাজের নতুন সংস্কৃতি আনলেন—সপ্তাহে দুই দিন ছুটি, ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স—এটা কীভাবে সম্ভব করলেন? সঞ্চালকের প্রশ্নের উত্তরে সৈয়দ আলমগীর বলেন, ‘এই ওয়ার্ক-লাইফ-ব্যালান্স খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম দুই দিন ছুটি দিলে প্রোডাক্টিভিটি বাড়বে। তিনি রাজি হলেন। আজও তারা সেই সিস্টেমে কাজ করছে। দারুণ ফল পাচ্ছে।’
আলোচনার শেষ পর্যায়ে সৈয়দ আলমগীর তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘মার্কেটিং প্রফেশনে সফল হতে হলে কোনো কিছু হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। নিজের বুদ্ধি, গবেষণা আর নৈতিকতা—এই তিনটিই সফলতার মূল।’
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ফ র ম স উট ক য ল প রসঙ গ ন ত কত প রথম
এছাড়াও পড়ুন:
বাস্তবের ‘জীবন নিয়ে খেলা’
সাধারণত এ ধরনের ঘটনা দেখা যায় সিনেমাতে। যেমনটি দেখা গিয়েছিল রঞ্জিত মল্লিক অভিনীত ‘জীবন নিয়ে খেলা’ সিনেমায়। এবার বাস্তবেই ধরা দিল সেই ঘটনা।
পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ‘গরীবের ডাক্তার’ খ্যাত আলমগীর হোসেনের বদলি বাতিল করে বর্তমান কর্মস্থলে বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় মানুষ।
সেই সঙ্গে নানা অনিয়ম, চিকিৎসা বাণিজ্য এবং রোগী হয়রানির অভিযোগে একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুলকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এক্ষেত্রে জীবন নিয়ে খেলা সিনেমার দুটি চরিত্রের কথা মনে পড়ে। রঞ্জিত মল্লিক অভিনয় করেছিলেন ডা. শুভঙ্কর সান্যালের চরিত্রে। আর ডা. নারায়ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মনোজ মিত্র।
যেখানে শুভঙ্কর স্যানালকে পাওয়া যায় রোগ-শোকে আক্রান্ত গরিব, দুঃখী মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে। তার উল্টো চরিত্র ডা. নারায়ণ, যাকে দেখা যায় চিকিৎসকের নামে গরিবের রক্ত চোষা হিসেবে।
পাবনার চাটমোহরেও স্থানীয় মানুষদের মানববন্ধনের মাধ্যমে সামনে এসেছে এমন দুটি চরিত্র। যেখানে আলমগীরকে হাসপাতালে রাখার জন্য রাস্তায় নেমেছে জনতা। সেখানে ডা. ওমর ফারুককে বিতাড়িত করতে দাবি তুলেছে তারা।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সচেতন নাগরিক সমাজ, চাটমোহরের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় দাপ্তরিক কাজে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা পাবনার সিভিল সার্জনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আসাদুজ্জামান লেবু, মোতালেব হোসেন, তানভীর জুয়েল লিখন, শাহীন হোসেন, ফুলচাঁদ হোসেন শামীম, হাসানুজ্জামান সবুজ, ফয়সাল কবীর, সাজেদুর রহমান সেজান, ইমরান হোসেন, হাসিনুর রহমান, জান্নাতুন নাঈম জুঁই প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে পাবনা সদর হাসপাতাল বা রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয়। ভর্তি রোগীরাও সঠিক সেবা পান না। এছাড়া হাসপাতালের অভ্যন্তরে দুর্নীতি, চিকিৎসা বাণিজ্য ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এখন নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠেছে।
তারা বলেন, ডা. আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে গরিব ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তিনি অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা লিখতেন না এবং কোনো কমিশনভিত্তিক সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। যে কারণে গরীবের ডাক্তার হিসেবে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তার এই মানবিক আচরণ ও সততা হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক ও টেস্ট সিন্ডিকেটের স্বার্থে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেই কারণে তাকে মাত্র এক বছরের মাথায় বদলি করা হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আর এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালে থাকায় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার মনমতো না চললে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন। নানা অনিয়মে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন তিনি। তার কারণে ভাল কোনো চিকিৎসক এখানে বেশি দিন থাকতে পারেন না।
বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে ডা. আলমগীর হোসেনের বদলি বাতিল করে বর্তমান কর্মস্থলে বহাল রাখা এবং ডা. ওমর ফারুক বুলবুলকে চাটমোহর থেকে অপসারণেল দাবি জানান।
সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‘তিন কার্যদিবসের মধ্যে ডা. আলমগীর হোসেনকে চাটমোহর হাসপাতাল ফেরানো হবে। একইসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ওমর ফারুক বুলবুলের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।’’
অভিযোগের বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল বলেন, ‘‘সকালে হাসপাতালে ছিলাম না। আমার ডিউটি বিকেলে ছিল। তাই ওই সময়ে কি হয়েছে জানি না। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ বলা হয়েছে তা ঠিক নয়। ডা. আলমগীরকে বদলির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’’
ঢাকা/শাহীন/রাজীব