‘দাঁড়ালে দুয়ারে’, ‘নিঠুর মনোহর’, ‘জেনে নিয়ো’ থেকে ‘গুলবাহার’—একের পর এক সাড়া জাগানো গানে পরিচিতি পেয়েছেন সংগীতশিল্পী ঈশান মজুমদার। গায়কি আর ব্যতিক্রমী পরিবেশনায় আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি।
মাস পাঁচেক আগে প্রকাশিত ‘গুলবাহার’ গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ছড়িয়ে পড়েছিল। ইউটিউবে গানটির ভিডিও ২ কোটি ৮০ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। গানটি এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে।
‘গুলবাহার’ প্রকাশের পাঁচ মাস পরও ঈশানের কোনো গান আসেনি। গান পেতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন অনুরাগীরা।
ঈশান মজুমদার প্রথম আলোকে জানালেন, অনুরাগীদের আর খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না। এই মাসেই তাঁর গাওয়া ‘যাব যাব মন’ শিরোনামে ফোক ঘরানার গানটি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। বর্তমানে গানটির পোস্টপ্রোডাকশনের কাজ চলছে। গানের কথা লিখেছেন যশ নমুদার, যুগ্মভাবে সংগীতায়োজন করেছেন ঈশান ও দীপ্র আহমেদ।
গত বছর জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গানের ভিডিও চিত্রে দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। মডেল হিসেবে আবদুল্লাহ আল সেন্টু ও মার্শিয়াকে দেখা যাবে। ঈশান মজুমদার বলেন, ‘সাঁতাও সিনেমায় সেন্টু ভাই খুব ভালো অভিনয় করেছেন। সিনেমাটি দেখে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করি, তাঁর সঙ্গে মার্শিয়াকে নেওয়া হয়।’
ক্যারিয়ারে অল্প কয়েকটি গান করেছেন ঈশান, বেশির ভাগ গানই মেলোডি–নির্ভর। প্রায় প্রতিটি গানই শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। বিষয়টি নিয়ে ঈশান বলেন, ‘আমার গান এত মানুষ শুনছে, এটা স্বপ্নের মতো। আমি যে রকম লিখতে পারি, গাইতে পারি, সেভাবেই গান বানাই। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব হয়, আমার আর্টওয়ার্ক সেভাবেই মানুষের সামনে উপস্থাপন করি। মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা আমাকে প্রচুর উৎসাহ ও সাহস দিয়েছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে এত মানুষের মধ্যে আমার গান তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন।’
আরও পড়ুনগুলবাহার হতে অনেকেই তেমন আগ্রহ দেখায়নি১০ জুলাই ২০২৫‘যাব যাব মন’ ছাড়াও আরও দু–তিনটি গান রেকর্ড করেছেন ঈশান। শিগগিরই ভিডিও চিত্রের কাজ করবেন, ধারাবাহিকভাবে একে একে গানের ভিডিও প্রকাশ করবেন। এর বাইরে আরও কয়েকটি গান লেখা রয়েছে তাঁর।
২০২৩ সালে কোক স্টুডিও বাংলায় ‘দাঁড়ালে দুয়ারে’ গেয়ে পরিচিতি পান ঈশান। ঈশানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
অনলাইনের যেকোনো তথ্য যাচাই করতে হবে
ভুয়া বা ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের এই সময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো—প্রশ্ন করার অভ্যাস ও তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা। পাশাপাশি অনলাইনে পাওয়া যেকোনো কনটেন্ট (আধেয়) শুরুতেই সন্দেহের চোখে দেখতে হবে; প্রথম দেখাতেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যাবে না।
অনলাইনে দ্রুত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কৌশল শেখাতে প্রথম আলো বন্ধুসভার বিশেষ কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা। আজ শুক্রবার ‘কোয়েশ্চেন এভরিথিং ইউ সি অনলাইন: ট্রেইনিং অন কুইক ফ্যাক্ট-চেকিং অ্যান্ড ভেরিফিকেশন (অনলাইনে যা দেখবেন, প্রশ্ন করবেন: তথ্য যাচাই পদ্ধতিবিষয়ক প্রশিক্ষণ)’ শিরোনামে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ও ডিসমিসল্যাবের সহযোগিতায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে কর্মশালা চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মল্লিকের সঞ্চালনায় প্রথম সেশনে ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বিষয়ে আলোচনা করেন ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কোনো ভুল তথ্যকে যদি সঙ্গে সঙ্গে সঠিক না করেন তাহলে এই তথ্যকে একসময় মানুষ সত্যি মনে করবে। এখন সেই ব্যবসা তত বড়, যে ব্যবসায় তথ্য বেশি। যাদের কাছে তথ্য বেশি তারা এগিয়ে যায়। যাচাই করার সক্ষমতা বর্তমানে অনেক বেশি জরুরি হয়ে গেছে। যেকোনো তথ্যে দেখবেন সূত্র উল্লেখ আছে কি না। সূত্র না থাকলে তথ্য সঠিক মনে করা যাবে না।’
স্বাগত বক্তব্যে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রশ্ন করতে হবে। তথ্য সত্য কি না, যাচাই করতে হবে। জগৎটা এখন অনেক বেশি তথ্যের।’
তথ্যের সত্যতা যাচাই, ছবি যাচাই এবং অনলাইন আর্কাইভিং বিষয়ে আলোচনা করেন ডিসমিসল্যাবের গবেষণা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম। কীভাবে মুহূর্তেই নির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য, ছবি, ভিডিও, তথ্য প্রকাশের তারিখ ও ডকুমেন্ট ফাইল খুঁজে বের করতে হবে; মোবাইলে রিভার্স ইমেজ সার্চ, ছবির মেটা ডেটা যাচাই কীভাবে করা যাবে এবং এ–সংক্রান্ত বিভিন্ন এআই টুলের ব্যবহার বিষয়ে হাতে–কলমে সেশন পরিচালনা করেন তিনি।
আর এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ছবি ও ভিডিও কীভাবে যাচাই করা যাবে; কোনটা এআই ভিডিও, কোনটা বাস্তব—কীভাবে শনাক্ত করা যাবে এবং এআই চিহিৃতকরণ কয়েকটি টুলের ব্যবহার দেখান ডিসমিসল্যাবের আরেকজন গবেষণা কর্মকর্তা আহমেদ ইয়াসীর আবরার।
অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের উপদেষ্টা উত্তম রায় বলেন, ‘অনলাইনে কোনো কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই রিঅ্যাক্ট করা যাবে না। যাচাই করতে হবে, সময় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।’
ডিসমিসল্যাব ও দেশি-ফুডসকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, ‘আমাদের একটি বড় সমস্যা হলো জেনে না জেনে অপতথ্যের প্রচার করা। অনেকের মধ্যেই ডিজিটাল শিক্ষা খুবই কম। এর কারণ হলো প্রযুক্তি অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। কোনটা এআই, কোনটা সত্য—তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। তাই অনলাইনে যা কিছুই দেখবেন, সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করবেন।’
দেশি-ফুডসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজের রহমান ও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা রুপা খাতুন। বন্ধুসভার সঙ্গে থাকতে পেরে প্রথম আলো ও বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানান মাহফুজের রহমান। অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।
দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পারসোনাল ব্র্যান্ডিং’, ‘আইইএলটিএস ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা’, ‘গ্রাফিক ডিজাইন’সহ এ নিয়ে চারটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হলো। পুরো আয়োজনের সমন্বয় করেছেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের প্রশিক্ষণ সম্পাদক সামছুদ্দোহা সাফায়েত। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হয়।