নির্বাচনের আর ৮০ থেকে ৯০ দিন বাকি: ইসি আনোয়ারুল
Published: 10th, November 2025 GMT
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, “নির্বাচনের আর মাত্র ৮০ থেকে ৯০ দিন বাকি। এরপরও কারো মনে যদি সন্দেহ থাকে- নির্বাচন হবে না, তাহলে সেটি ভুল ধারণা। নির্বাচন হবেই এবং তা হবে অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ।”
সোমবার (৯ নভেম্বর) কুমিল্লা বার্ডে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জসমূহ নিরুপণ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।
আরো পড়ুন:
নতুন ১৬ পর্যবেক্ষক সংস্থার বিষয়ে দাবি-আপত্তি চেয়ে ইসির গণবিজ্ঞপ্তি
ইসির সামনে অনশনরত তারেকের পাশে রিজভী
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন জিহাদ ঘোষণা করেছে। দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, আসন্ন নির্বাচনে কাউকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা একটি ভালো নির্বাচন। অতীতে আমরা বহুবার কলঙ্কিত হয়েছি, এবার সেই কলঙ্ক মুছে দিতে হবে।”
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্মসচিব মো.
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রতিটি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। ভোটকেন্দ্রই হলো গণতন্ত্রের প্রতিচ্ছবি, তাই সেখানে সঠিক দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা চলবে না।
শেষে প্রধান অতিথি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জনগণের আস্থা অর্জনই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন, দেশ আপনাদের পাশে আছে।”
ঢাকা/রুবেল/মাসুদ
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ইস ইস কর মকর ত
এছাড়াও পড়ুন:
হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে এই মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন, ট্রান্সপোর্ট, চৌরঙ্গী হয়ে উপাচার্য বাসভবন পর্যন্ত যায়। এ সময় জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষকদের দ্রুততম সময়ে বিচারের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মিছিলে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী কাজল মিয়া।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘হাদি ভাইকে গুলি করে, ইন্টেরিম কি করে’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘হাদি ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, সন্ত্রাসীদের বিচার চাই’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “আজ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশে গুলি করা হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং প্রশাসনের গড়িমসির ফলেই এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা হাদি ভাইয়ের সুস্থতা কামনা করি ও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দ্রুততম সময়ে অপরাধীকে শনাক্ত করে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।”
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উপস্থিতিতেই জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝোলানোর ঘোষণা দেন তিনি।
জাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়; অভ্যুত্থানপন্থী সরকার বা প্রশাসন দাবি করলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। আমরা এই প্রশাসনকে ধিক্কার জানাই। স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, যে প্রশাসন রক্তের বিচার করতে পারে না সেই প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কোনো সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকতে পারে না।”
তিনি আরো বলেন, “আজ হাদি ভাইয়ের ওপর গুলি হয়েছে, কাল আমার ওপর হবে, পরশু আপনার ওপর হবে। প্রশাসন চেয়ারে বসে তামাশা দেখবে, তা হতে পারে না। এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও জবাবদিহিতার অভাবের ফল।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিচার যেমন করেছি, শিক্ষকদেরও করব। ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধের ঘটনা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়, আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
ঢাকা/হাবীব/জান্নাত