Prothomalo:
2025-12-10@15:35:37 GMT

কোনো এক ঝুমকোলতার কথা 

Published: 10th, November 2025 GMT

ময়মনসিংহে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রায় ২৪ একর জায়গাজুড়ে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের সংগ্রহ নিয়ে ১৯৬৩ সালে বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এই বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়েছিলাম চলতি বছরের ১০ মে। প্রকৃতিতে তখন বৈশাখের শেষ। খুব গরম পড়েছিল সেদিন। তারপরও নতুন কোনো উদ্ভিদের সন্ধান পাই কি না, কোনো উদ্ভিদে ফুল ফুটল কি না, তা দেখার কৌতূহলের কারণেই যাওয়া।

বাগানের বিভিন্ন পথ দিয়ে হাঁটছিলাম আর দুই পাশের উদ্ভিদ দেখছিলাম। হঠাৎ হাঁটাপথের এক জায়গায় গ্রিলের প্রবেশপথের গায়ে দেখা পেলাম উজ্জ্বল লাল রঙের আকর্ষণীয় একধরনের ঝুমকোলতা ফুলের। গ্রিলের পেছনে এক দেবদারুগাছের ডালপালা ঝুলে আছে। লতার গা আলো করে ফুটে আছে প্যাশন ফ্লাওয়ার। খুব ভালো লাগল। গরম আর ক্লান্তি গেলাম ভুলে। এই উদ্ভিদের ফুল এই প্রথম দেখলাম। ছবি তুলে ফেললাম ঝটপট। সুগন্ধ আছে এ ফুলের। তাই ইংরেজিতে এই ফুল পারফিউমড প্যাশন ফ্লাওয়ার নামে পরিচিত। আর এর পাতা আঙুরের পাতার মতো বলে আরেক নাম গ্রেপ লিভড প্যাশন ফ্রুট। এই উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম Passiflora vitifolia, এটি Passifloraceae পরিবারের লতানো উদ্ভিদ। প্যাসিফ্লোরা গণে ৫০০-৫৫০টি প্রজাতি রয়েছে। এর বেশির ভাগই লতানো উদ্ভিদ। প্যাসিফ্লোরা এডুলিসের ফল প্যাশন ফ্রুট হিসেবে জনপ্রিয় এবং বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা হয়।

গ্রেপ লিভড প্যাশন ফ্রুট উদ্ভিদের কাণ্ড সরু। উদ্ভিদের পাতার গোড়ায় একজোড়া গ্রন্থি থাকে। পাতা চকচকে, চামড়ার মতো, গাঢ় সবুজ, তিনটি খণ্ডযুক্ত। এটি শক্তিশালী এক লতা। গ্রীষ্মের শুরু থেকে শরৎ পর্যন্ত এতে উজ্জ্বল লাল ফুল ফোটে। ফুল ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত প্রশস্ত হয়। ফুলে লাল, সাদা বা হলুদ ফিলামেন্ট থাকে। এর ফুলের গঠন এমনভাবে তৈরি যে এটি হামিংবার্ড বা প্রজাপতির মাধ্যমে পরাগায়িত হয়।

কচি অবস্থায় নলাকার এই লতা লাল-বাদামি লোমে ঢাকা থাকে। পাতাগুলো তিন খণ্ডযুক্ত, ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এবং ১৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চওড়া। ফুলগুলো অত্যাশ্চর্য, উজ্জ্বল লাল, ব্যাস ৯ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। ফুল কুঁড়ি অবস্থায় লাল শিরাসহ তিনটি উজ্জ্বল গেরুয়া রঙের ব্র্যাক্ট দিয়ে আবৃত থাকে। প্রস্ফুটিত হওয়ার পর তীব্র উজ্জ্বল লাল রঙের বৃতি ও পাপড়ি দেখা যায়। বৃত্যংশগুলোর একটি সূক্ষ্ম শীর্ষ থাকে। পরাগদণ্ড ও গর্ভদণ্ডগুলো লাল রঙের হয়।

ফল হলদে সবুজ। ফল ৫ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৩ সেন্টিমিটার চওড়া হয়। এই ফল সামান্য পাতলা লোমসহ সবুজ মাংসযুক্ত। ফলের মধ্যে অসংখ্য বীজ থাকে। এ ছাড়া ফলের গায়ে সাদা বিন্দু থাকে। ফল দেখতে ডিমের মতো।

এই উদ্ভিদের বহুবর্ষজীবী মূল রয়েছে। কাণ্ড বর্ষজীবী থেকে বহুবর্ষজীবী। উদ্ভিদ ৫-২০ মিটার লম্বা, মাঝেমধ্যে ৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এরা মাটির ওপর হামাগুড়ি দিয়ে চলে এবং অন্য গাছপালা বা গ্রিলকে আঁকশির সাহায্যে আঁকড়ে ধরে ওপরে উঠে যায়।

এই উদ্ভিদের ফুল যেমন বাগানের শোভা বাড়িয়ে দেয়, তেমনি এর ফলও খাওয়া যায়। এর আদি নিবাস দক্ষিণ–মধ্য আমেরিকা (কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, পানামা) এবং উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ আমেরিকা (ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু)। এসব অঞ্চলে এর ভোজ্য ফলটি মাঝেমধ্যে বন থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং স্থানীয়ভাবে খাওয়া হয়। যদিও এই ফল ব্যাপকভাবে সমাদৃত নয়।

কাণ্ডের কাটিং এবং বীজ থেকে উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি করা হয়। লতার গায়ে উদারভাবে ফুল ফোটায় কাটিং থেকে তৈরি উদ্ভিদ। বীজ থেকে উৎপন্ন গাছে ফুল ফোটার নিশ্চয়তা নেই। তাই কাটিং পদ্ধতিই জনপ্রিয়।

গাছ থেকে পড়ে গেলে এর ফল টক হয়। এক মাস সময় নিয়ে পাকলে স্বাদ স্ট্রবেরির মতো হয়। সুগন্ধি ফলের কারণে ক্যারিবীয় অঞ্চলে ছোট আকারে এই উদ্ভিদের চাষ করা হয়।

চয়ন বিকাশ ভদ্র: অধ্যাপক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

শিরোপা উদযাপনে বগুড়ায় থেকে গিয়েছিলেন আকবররা

মধ‌ুর সম‌স‌্যা যাকে বলে সেটাই হয়েছে আকবর আলীদের সঙ্গে। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে নিজেদের শেষ চারদিনের ম‌্যাচ তিনদিনেই তারা জিতে নিয়েছে। খুলনা বিভাগকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগে শিরোপা জয়ের কাজটা করে রেখেছে। 

শিরোপা নিশ্চিত হতে তাদের অপেক্ষা করতে হবে আরো একদিন। সচরাচর যেটা হয়, ম‌্যাচের পর ক্রিকেটাররা যার যার মতো করে বাসায় ফিরে যান। জাতীয় ক্রিকেট লিগের লম্বা টুর্নামেন্ট খেলে ক্রিকেটাররা ছিলেন ক্লান্ত। কিন্তু রংপুরের শিরোপা জয়ের সুযোগ থাকায় আকবরদের বাড়তি একদিন অপেক্ষা করতে হয় বগুড়ায়। 

আরো পড়ুন:

টি-টোয়েন্টির পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও চ‌্যাম্পিয়ন রংপুর

জাতীয় ক্রিকেট লিগ: শেষ রাউন্ডে শিরোপার ফয়সালা

সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হোটেলে কাটিয়েছেন তারা। শেষ বিকেলে ফিরেছেন মাঠে? গায়ে সাদা জার্সি, মাথায় ক‌্যাপ, পায়ে কেডস পরে আবার মাঠে নেমেছিলেন। কেন? শিরোপা উদযাপনে।

রাইজিংবিডিকে সেই গল্প শোনালেন আকবর, ‘‘আমরা কালকে জয়ের পর বগুড়ায় থেকে গিয়েছিলাম। আমাদের টুর্নামেন্ট জেতার সুযোগ আছে বলে আমরা অপেক্ষায় ছিলাম। পুরো দলই আজ শিরোপার জন‌্য অপেক্ষা করছিল। এটা দারুণ। এরকমটা আগে হয়নি। আগে তো খেলা শেষেই চলে যেতাম।’’ - আকবর বলছিলেন আর হাসছিলেন। 

আকবরদের শিরোপা জয়ের বাঁধা হয়ে ছিল দুই দল। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ। মঙ্গলবার সাত সকালেই সিলেটে ময়মনসিংহ বিভাগ হেরে যায় রাজশাহী বিভাগের কাছে। আকবরদের সামনে তখন কেবল সিলেটের বাঁধা। যদি রাজশাহীতে সিলেট বরিশালকে হারাতে পারে তাহলে তারা শিরোপা জিতবে। আকবররা হবে রানার্সআপ।

সকালের সেশনের পরপরই রংপুর বুঝে গিয়েছিল শিরোপা তাদের হতে চলছে। কেননা বরিশালের ওপেনার ইফতির সেঞ্চুরিতে তখন লিড তিনশ পেরিয়ে। শেষ দুই সেশনে সিলেট এই রান তাড়া করতে পারবে না ধরেই নেওয়া হচ্ছিল। সেভাবেই শুরু হয় আয়োজকদের প্রস্তুতি। রংপুরেরও অপেক্ষা ফুরানোর পালা।

বিকেল ৪টা ৬ মিনিটে সিলেট ও বরিশালের ম‌্যাচ ড্র হয়। সিলেট ২৮ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ। ৩১ পয়েন্ট নিয়ে চ‌্যাম্পিয়ন রংপুর। রংপুর শিরোপা উল্লাস করে চ‌্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে। রাজশাহীতে মুশফিকুর-জাকিরদের হাতে রানার্সআপ ট্রফি।

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • অশ্রুসিক্ত ক্যামেরায় সম্ভ্রমহারার ছবি
  • শিরোপা উদযাপনে বগুড়ায় থেকে গিয়েছিলেন আকবররা
  • খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রাজশাহীর মানুষ
  • গাজীপুরের মহাসড়কে নরকের সাজা কমানোর কেউ নেই?