চ্যাম্পিয়নস লিগে মাঝসপ্তাহে লিভারপুলের বিপক্ষে হারের পর নতুন করে জয়ের ছন্দে ফেরার আশায় মাঠে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু শহরের প্রতিবেশী ক্লাব রায়ো ভায়েকানোর মাঠে গিয়ে তাদের ভাগ্যে জুটল কেবলই হতাশা। গোলশূন্য ড্রয়ে পয়েন্ট হারিয়েছে তারা।

বাংলাদেশ সময় রবিবার (০৯ নভেম্বর) রাতে মাদ্রিদের ভায়েকাস স্টেডিয়ামে ম্যাচটা যেন শুরু থেকেই গুমোট। সুযোগ ছিল দুই দলেরই, কিন্তু কেউই শেষ পর্যন্ত গোল খুঁজে পায়নি। পুরো ম্যাচে উজ্জ্বল ছিলেন রায়ো গোলরক্ষক অগুস্তো ব্যাটালা। যিনি ভিনিসিউস জুনিয়র ও জুড বেলিংহ্যামকে একাধিকবার ঠেকিয়ে দেন।

ম্যাচের শুরুটা কিছুটা বিশৃঙ্খলই ছিল। ২১ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ পায় রায়ো। ডিফেন্ডার আন্দ্রে রাটিউ দারুণ দৌড়ে উঠে এসে শট নেন। কিন্তু সরাসরি থিবো কোর্তোয়ার গ্লাভসে। এক মিনিট পরই পাল্টা জবাব দেয় রিয়াল। ভিনিসিউস জুনিয়রের টার্ন থেকে নেওয়া শট চমৎকার রিফ্লেক্সে ঠেকান ব্যাটালা। ফিরতি বলে রাউল আসেনসিওর হেড সামান্য বাইরে চলে যায়। ২৭ মিনিটে ইনজুরিতে পড়ে রায়োকে বদলি আনতে হয়। পেদ্রো দিয়াসের জায়গায় নামেন পাচা এসপিনো।

হাফটাইমের ঠিক আগে ভিনিসিউস আবার আলো ছড়ানোর চেষ্টা করেন। বক্সে কেটে ঢুকে ডান পায়ে বাঁকানো শট নেন। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় তা। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবেই।

বিরতির পর দুই দলই আরও আক্রমণাত্মক হয়ে নামে। রায়োর হোর্হে দে ফ্রুতোস কাছাকাছি থেকে শট নেন, বল লাগে জালের বাইরের পাশে। অপর প্রান্তে তরুণ আরদা গুলার নেন দূরপাল্লার শট, যায় পোস্টের বাইরে। এরপর বেলিংহ্যাম নিজের ক্লাসিক ছোঁয়ায় হুমকি দেন। ডায়াগোনাল পাস ধরে কোণাকুণি শটে লক্ষ্যভেদ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাটালা আবারও দেয়াল হয়ে দাঁড়ান।

ঘণ্টা পেরোতেই এমবাপ্পে তৈরি করেন দারুণ মুহূর্ত। ডান প্রান্ত থেকে বাঁ পায়ে কাটা শট নেন। কিন্তু তা অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে যায়। শেষ ২০ মিনিটে রিয়াল চাপ বাড়িয়ে দেয়। ফেডে ভালভার্দের নিচু শট ফিরিয়ে দেন ব্যাটালা। যার পর থেকেই যেন রিয়াল বুঝে যায় আজ গোল পাওয়া কঠিনই হবে।

রায়ো, যারা আগের আট ম্যাচে ছয়টিতেই জয় পেয়েছিল, এদিন তারা নিজেদের রক্ষণ এতটাই গোছানো রেখেছিল যে রিয়াল কোনোভাবেই ভাঙতে পারেনি তাদের দেয়াল। শেষ মুহূর্তে দানি সেবাইয়োস একবার জোরালো শট নেন, যায় বাইরে। ইনজুরি টাইমে গুলার ডি-বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত ড্রিবল করলেও শেষ মুহূর্তে রক্ষণের চাপ সামলে ফেলেন রায়োর খেলোয়াড়রা।

চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের কাছে ১-০ হারের পর এই ড্র নিঃসন্দেহে রিয়ালের জন্য হতাশাজনক। তবে ১২ ম্যাচ থেকে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার টেবিলে তারা এখনো শীর্ষে।

ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ জানালেন, “আমরা সুযোগ তৈরি করেছি, কিন্তু শেষ মুহূর্তের ছোঁয়াটা পাইনি। ব্যাটালা দারুণ খেলেছে। আজ গোল পাওয়া সত্যিই কঠিন ছিল।”

ঢাকা/আমিনুল

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর শট ন ন

এছাড়াও পড়ুন:

সকালের অ্যালার্ম, না ফোনভীতি? জেন–জিরা কর্মজীবনের চ্যালেঞ্জ জয় করবেন যেভাবে

যদি আপনি একজন মিলেনিয়াল হন, তাহলে হয়তো অফিসের ফোন ধরা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাববেন না। কিন্তু জেনারেশন জেড (জেন জেড)–এর কাছে কর্মক্ষেত্রের এই সাধারণ কাজটিই উদ্বেগের বিশাল কারণ। এই সপ্তাহে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য অনুসারে, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া কর্মজীবীরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আতঙ্কিত, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—খুব সকালে ওঠা, বয়স্ক সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করা কিংবা কর্মক্ষেত্রে সাধারণ আলাপচারিতায় নিজেকে যুক্ত করা।

ট্রিনিটি কলেজ অব লন্ডনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ গবেষণায় মতামত দেন ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ। যুক্তরাজ্যজুড়ে ১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা এই জরিপে অংশ নেন। এতে দেখা যায়, তরুণদের ৩৮ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে ছোটখাটো আলাপচারিতায় ভয় পান। প্রায় ৬০ শতাংশ বলেছেন, বয়স্ক সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে তাঁদের সমস্যা হয়, আর ৩০ শতাংশ তরুণ ফোন ধরতে ভয় পান।

তবে এসব কর্ম–আতঙ্ক কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞরা জেনারেশন জেডের এই উদ্বেগগুলো দূর করার জন্য দিয়েছেন কিছু সহজ পরামর্শ—

গবেষণার তথ্য অনুসারে, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া কর্মজীবীরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আতঙ্কিত, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—খুব সকালে ওঠা, বয়স্ক সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করা কিংবা কর্মক্ষেত্রে সাধারণ আলাপচারিতায় নিজেকে যুক্ত করা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ