লেভানদোভস্কির হ্যাটট্রিক, দারুণ জয়ে রিয়ালের সাথে ব্যবধান কমাল বার
Published: 10th, November 2025 GMT
রিয়াল মাদ্রিদের ড্রয়ের সুযোগটা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে বার্সেলোনা। রবার্ট লেভানদোভস্কির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে কাতালানরা রবিবার রাতে (০৯ নভেম্বর) ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে সেল্টা ভিগোকে। আর এই জয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে তারা মাদ্রিদের ঠিক পরেই অবস্থান নিয়েছে। পয়েন্ট ব্যবধান কমে হয়েছে মাত্র তিন।
এক মাসের ইনজুরির বিরতি শেষে গত সপ্তাহেই বদলি হিসেবে মাঠে ফিরেছিলেন লেভানদোভস্কি। আর এই ম্যাচেই যেন জানিয়ে দিলেন- তিনি ফিরে এসেছেন নিজের পুরোনো ছন্দে। সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম গোল পেলেন, তাও একসঙ্গে তিনটি!
তার প্রথম গোল আসে ম্যাচের ১০ মিনিটেই। ফেরমিন লোপেজের শটে হাত ছোঁয়ান মার্কোস আলোনসো, পেনাল্টি পায় বার্সা। রাদু ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু লেভানদোভস্কির জোরালো শট ঠেকানো অসম্ভব ছিল।
পেনাল্টির এক মিনিটেরও কম সময় পরই র্যাশফোর্ডের পা থেকে আরেকটি সুযোগ আসে। কিন্তু তার শট ফিরিয়ে দেন রাদু। আর মাত্র ১৯ সেকেন্ড পরই সেই সুযোগ কাজে লাগায় সেল্টা। বার্সার উচ্চ রক্ষণভাগ পেরিয়ে বোরহা ইগলেসিয়াসের থ্রু পাসে এগিয়ে গিয়ে গোল করেন সের্হিও কারেইরা। কিন্তু ৩৭ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় বার্সা। ডান দিক থেকে র্যাশফোর্ডের নিখুঁত ক্রসে গোলমুখে দাঁড়িয়ে থাকা লেভানদোভস্কি শুধু ছোঁয়াটুকু দেন, বল জড়িয়ে যায় জালে।
তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আবারও সমতায় ফেরে সেল্টা। এবার বক্সের বাইরে থেকে ইগলেসিয়াসের নেওয়া শটে কোনোভাবেই হাত লাগাতে পারেননি বার্সার গোলরক্ষক শেজনি। কিন্তু হাফটাইমের আগেই আবার এগিয়ে যায় বার্সা। র্যাশফোর্ডের ক্রস ডিফ্লেক্ট হয়ে যায় ইয়ামালের সামনে। আর ১৭ বছর বয়সী এই বিস্ময়বালক ঠান্ডা মাথায় বল পাঠিয়ে দেন জালের ভেতর।
বিরতির পর র্যাশফোর্ড ও দানি ওলমো- দু’জনেই চেষ্টা চালিয়ে যান। অবশেষে ৭৩ মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত। র্যাশফোর্ডের ইনসুইং কর্নারে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান লেভানদোভস্কি। পূর্ণ করেন নিজের হ্যাটট্রিক।
এই মৌসুমে এটাই তার নবম গোল, আর বার্সার জার্সিতে এক বছরেরও বেশি সময় পর প্রথম হ্যাটট্রিক। ইংলিশ তারকা র্যাশফোর্ডের এটি ছিল মৌসুমের ষষ্ঠ অ্যাসিস্ট। লা লিগায় ইয়ামাল বা ভিনিসিউস জুনিয়রের চেয়েও ভালো রেকর্ড।
ম্যাচের একদম শেষ দিকে ফ্রেংকি ডি ইয়ং দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, যা বার্সার এই দুর্দান্ত জয়ের একমাত্র দুঃখের দিক। তবুও দিনের শেষ হাসিটা বার্সেলোনারই। মাদ্রিদের হোঁচট, লেভার জাদু আর র্যাশফোর্ডের ছোঁয়ায় কাতালানরা যেন ঘোষণা দিল- লা লিগার লড়াই জমিয়ে তুলেছে তারা।
ঢাকা/আমিনুল
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
কারিশমার সঙ্গে অক্ষয় খান্নার বিয়ে কেন ভেঙেছিল?
চলতি মাসে মুক্তি পেয়েছে আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’ সিনেমা। রণবীর সিং অভিনীত এ সিনেমা বক্স অফিসে সাড়া ফেলেছে। সিনেমাটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দাপুটে অভিনেতা অক্ষয় খান্না। তার পারফরম্যান্স বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই অভিনেতা।
পঞ্চাশ বছরের অক্ষয় খান্না ব্যক্তিগত জীবনে এখনো অবিবাহিত। তবে রুপালি জগতে কাজ করতে গিয়ে বলিউডের তারকা অভিনেত্রীদের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে তার। এ তালিকায় রয়েছেন—কারিশমা কাপুর, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, তারা শর্মা, ঊর্বশী শর্মা প্রমুখ। যদিও কখনো প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি অক্ষয় খান্না।
আরো পড়ুন:
পাঁচ দিনে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার আয় ৩০৬ কোটি টাকা
ফিরেই ভক্তদের ঘুম উড়ালেন কিয়ারা
সম্পর্কের কথা স্বীকার না করলেও কারিশমা কাপুরের সঙ্গে অক্ষয়ের সম্পর্ক বহুদূর এগিয়েছিল। কেবল তাই নয়, তাদের বিয়েও প্রায় ঠিক হয়েছিল। সর্বশেষ সেই বিয়ে ভেঙে যায়। কিন্তু কেন ভেঙেছিল অক্ষয়-কারিশমার বিয়ে?
টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নব্বই দশকে কারিশমা ও অক্ষয় খান্না একসঙ্গে একটি ফটোশুট করেছিলেন। তারপর তারা ডেট শুরু করেন। কারিশমা তখন সদ্যই অজয় দেবগনের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। ফলে অক্ষয়ের কাছে মানসিক শান্তি খুঁজে পান।
অক্ষয়ের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কে খুশি ছিলেন কারিশমার বাবা রণধীর কাপুরও। কেবল তাই নয়, অক্ষয়ের বাবা বিনোদ খান্নার কাছে বিয়ের প্রস্তাবও পাঠিয়েছিলেন তিনি। বিয়ের সবকিছু প্রায় ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কারিশমার মা ববিতা কাপুর বিয়েতে বাধা দেন। তখন কারিশমার ক্যারিয়ার শিখরে ছিল। ববিতা চাইতেন, মেয়ে ক্যারিয়ারে মনোযোগী হোক। পাশাপাশি অক্ষয়ের ক্যারিয়ার গ্রাফ নিয়েও সন্তুষ্ট ছিলেন না কারিশমার মা।
অক্ষয়ের সঙ্গে প্রেম-বিয়ে ভাঙার পর কারিশমা বিয়ে করেছিলেন। সেই সংসারও ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু অক্ষয় কখনো বিয়ে করেননি। কেন বিয়ে করেননি এ নিয়ে ২০১২ সালের শুরুতে বলিউড হাঙ্গামাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ‘বর্ডার’ তারকা। এ আলাপচারিতায় জানতে চাওয়া হয়, আপনি কি বিয়েতে বিশ্বাস করেন? জবাবে অক্ষয় খান্না বলেন, “অবশ্যই বিশ্বাস করি।”
এরপর বিয়ে না করার কারণ ব্যাখ্যা করে অক্ষয় খান্না বলেন, “আমি কারো দায়িত্ব নিতে পছন্দ করি না। বিয়ে মানেই স্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া। স্ত্রী ও পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া অনেক বড় ব্যাপার। আমি কারো দায়িত্ব নিতে চাই না। একা জীবনে আমি ভালো আছি। আমার কোনো দায়িত্ব নেই। আমার দায়িত্ব নেওয়ারও কেউ নেই।”
পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জার্নিটা অসাধারণ। এ তথ্য উল্লেখ করে অক্ষয় খান্না বলেন, “আমার জন্য চিন্তা করার কেউ নেই। আমাকে নিজের জন্য কেবল চিন্তা করতে হবে। এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটা অসাধারণ একটা জার্নি। এটা দারুণ অভিজ্ঞতা!”
নব্বই দশকের শেষ লগ্নে বলিউডে পা রাখেন অভিনেতা অক্ষয় খান্না। ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘হাঙ্গামা’, ‘রেস’-এর মতো সিনেমা উপহার দিয়েছেন।
ঢাকা/শান্ত