বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে মুক্তিযুদ্ধটাকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৯৭১ হয়নি, আমরা কিছুই করি নাই। দেশটার জন্য কোনো অবদানই রাখি নাই। চব্বিশ যারা করেছে, তারাই সব করেছে, এমন ধারণা এখন মিলছে। ঠিক না?’

একাত্তরকে ভুলে যাওয়া যাবে না মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘একাত্তরকে কি আমরা ভুলতে পারব? একাত্তর না হলে কি বাংলাদেশ হতো? এ কথাটা আমরা কখনো ভুলব না। উই ক্যান নট ফরগেট সেভেনটি ওয়ান। একাত্তরে হাজার হাজার ভাইকে শহীদ করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একাত্তরে লাখ লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। একাত্তরে আমাদের মা-বোনকে অত্যাচার নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল। এই কথাগুলো আমরা ভুলতে পারি না। দীর্ঘ ৯ মাস আমরা শুধুই যুদ্ধ করেছি। পরিবারেরও কেউ খোঁজ নিইনি কে কোথায় আছে। এই দিনগুলির কথা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করলে কি ভোলা যায়? আমার জন্মটাকে কি আমি ভুলতে পারি?’

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে সুপরিকল্পিতভাবে একটি চক্র, একটি মহল, যারা ওই একাত্তর সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এ দেশে মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছিল, তাদের পরিবারকে হত্যা করেছিল, তাদের মেয়েদের তুলে দিয়েছিল খান বাহিনীর হাতে, তাদের সঙ্গে দেশের মানুষ কি আপস করতে পারে? এই কথাগুলো জোর গলায় বলতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের গর্জে উঠতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে আনার পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি এ কথাগুলো বলতে চাইনি, তারপরও বলতে হচ্ছে। কারণ, এরা দেশটাকে গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে। গ্রাস করার চেষ্টা করছে। আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইদের ধর্মীয় অনুভূতি বিক্রি করে তারা ওই কাজগুলো করছে। আমরা এটা হতে দিতে পারি না। আজকে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, সেই চেতনাকে সামনে আনতে হবে।’

হিন্দু-মুসলমান বিভেদ রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে দেবেন না। হিন্দু-মুসলমান ভাগ করতে দিবেন না। আমরা হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই। একসঙ্গে আছি, যুদ্ধও করেছি একসঙ্গে। তাঁদের যেন কেউ ভাগ করতে না পারে।’

নির্বাচনকে বানচালের চেষ্টা চলছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, আজকে নির্বাচনকে বানচাল করে দেওয়ার, নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত ষড়যন্ত্র চলছে। নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া মানে আমাদের সর্বনাশ, এ দেশের সর্বনাশ হওয়া। আমরা চাই অন্তর্বর্তী সরকার কালবিলম্ব না করে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা করবে, একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করবে।’

এ সময় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.

মনসুর আলী সরকার, ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডারের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ম সলম ন ব এনপ র আম দ র

এছাড়াও পড়ুন:

অনলাইনের যেকোনো তথ্য যাচাই করতে হবে

ভুয়া বা ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের এই সময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো—প্রশ্ন করার অভ্যাস ও তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা। পাশাপাশি অনলাইনে পাওয়া যেকোনো কনটেন্ট (আধেয়) শুরুতেই সন্দেহের চোখে দেখতে হবে; প্রথম দেখাতেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যাবে না।

অনলাইনে দ্রুত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কৌশল শেখাতে প্রথম আলো বন্ধুসভার বিশেষ কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা। আজ শুক্রবার ‘কোয়েশ্চেন এভরিথিং ইউ সি অনলাইন: ট্রেইনিং অন কুইক ফ্যাক্ট-চেকিং অ্যান্ড ভেরিফিকেশন (অনলাইনে যা দেখবেন, প্রশ্ন করবেন: তথ্য যাচাই পদ্ধতিবিষয়ক প্রশিক্ষণ)’ শিরোনামে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ও ডিসমিসল্যাবের সহযোগিতায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে কর্মশালা চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মল্লিকের সঞ্চালনায় প্রথম সেশনে ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বিষয়ে আলোচনা করেন ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কোনো ভুল তথ্যকে যদি সঙ্গে সঙ্গে সঠিক না করেন তাহলে এই তথ্যকে একসময় মানুষ সত্যি মনে করবে। এখন সেই ব্যবসা তত বড়, যে ব্যবসায় তথ্য বেশি। যাদের কাছে তথ্য বেশি তারা এগিয়ে যায়। যাচাই করার সক্ষমতা বর্তমানে অনেক বেশি জরুরি হয়ে গেছে। যেকোনো তথ্যে দেখবেন সূত্র উল্লেখ আছে কি না। সূত্র না থাকলে তথ্য সঠিক মনে করা যাবে না।’

স্বাগত বক্তব্যে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রশ্ন করতে হবে। তথ্য সত্য কি না, যাচাই করতে হবে। জগৎটা এখন অনেক বেশি তথ্যের।’

তথ্যের সত্যতা যাচাই, ছবি যাচাই এবং অনলাইন আর্কাইভিং বিষয়ে আলোচনা করেন ডিসমিসল্যাবের গবেষণা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম। কীভাবে মুহূর্তেই নির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য, ছবি, ভিডিও, তথ্য প্রকাশের তারিখ ও ডকুমেন্ট ফাইল খুঁজে বের করতে হবে; মোবাইলে রিভার্স ইমেজ সার্চ, ছবির মেটা ডেটা যাচাই কীভাবে করা যাবে এবং এ–সংক্রান্ত বিভিন্ন এআই টুলের ব্যবহার বিষয়ে হাতে–কলমে সেশন পরিচালনা করেন তিনি।

আর এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ছবি ও ভিডিও কীভাবে যাচাই করা যাবে; কোনটা এআই ভিডিও, কোনটা বাস্তব—কীভাবে শনাক্ত করা যাবে এবং এআই চিহিৃতকরণ কয়েকটি টুলের ব্যবহার দেখান ডিসমিসল্যাবের আরেকজন গবেষণা কর্মকর্তা আহমেদ ইয়াসীর আবরার।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের উপদেষ্টা উত্তম রায় বলেন, ‘অনলাইনে কোনো কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই রিঅ্যাক্ট করা যাবে না। যাচাই করতে হবে, সময় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।’

ডিসমিসল্যাব ও দেশি-ফুডসকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, ‘আমাদের একটি বড় সমস্যা হলো জেনে না জেনে অপতথ্যের প্রচার করা। অনেকের মধ্যেই ডিজিটাল শিক্ষা খুবই কম। এর কারণ হলো প্রযুক্তি অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। কোনটা এআই, কোনটা সত্য—তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। তাই অনলাইনে যা কিছুই দেখবেন, সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করবেন।’

দেশি-ফুডসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজের রহমান ও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা রুপা খাতুন। বন্ধুসভার সঙ্গে থাকতে পেরে প্রথম আলো ও বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানান মাহফুজের রহমান। অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।

দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পারসোনাল ব্র্যান্ডিং’, ‘আইইএলটিএস ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা’, ‘গ্রাফিক ডিজাইন’সহ এ নিয়ে চারটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হলো। পুরো আয়োজনের সমন্বয় করেছেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের প্রশিক্ষণ সম্পাদক সামছুদ্দোহা সাফায়েত। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ