ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম রয়েছে নিষিদ্ধ। কিন্তু অনলাইনে দলটির পক্ষে প্রচার থেমে নেই। তার মধ্যে পুরোনো কর্মসূচির ভিডিও নতুন দাবি করে ছড়ানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিন্ন ধরনের কর্মসূচিকেও আওয়ামী লীগের বলে প্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর নজিরও দেখা যাচ্ছে।

৭ নভেম্বর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে অসংখ্য মানুষ মশাল হাতে সমবেত হয়েছেন।

ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘আরেকটি যুদ্ধ হবে, স্বাধীন হবে মাতৃভূমি বাংলাদেশ। ১৩ তারিখ লকডাউন সফল করতে ঢাকার পথে রওনা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয়তু দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা।’

ভিডিওটি ঘিরে অনেকেই দাবি করছেন, এটি আওয়ামী লীগের ডাকে আসন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীমুখী মশালমিছিলের দৃশ্য।

লিংক: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ভিডিওটি মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের কারও কারও মাথায় ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ লেখা হেডব্যান্ড পরা আছে, যা ভিডিওর শুরু ও শেষ অংশে অস্পষ্টভাবে হলেও দৃশ্যমান।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক সময়ে এমন মশালমিছিলের কোনো কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যায়নি। দলটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ বা কোনো মূলধারার গণমাধ্যমেও এ ধরনের কোনো অনুষ্ঠানের সংবাদ বা ছবি নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা—এই পাঁচ জেলায় একযোগে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে মশাল প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এটা প্রথম আলোসহ একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই কর্মসূচির ছবি–ভিডিও এসেছিল।

লিংক: এখানে, এখানে, এখানে

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ছাত্র ও যুবসমাজের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন। তাঁদের মূল স্লোগান ছিল—‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই, তিস্তার ন্যায্য হিস্যা চাই’।

সুতরাং এই মশাল–সমাবেশ আসলে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ আন্দোলনের অংশ, এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার দাবিটি ঠিক নয়।

জামায়াতের মিছিলকেও আওয়ামী লীগের বলে প্রচার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত ৩১ অক্টোবর একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির বর্ণনায় দাবি করা হয়, এটি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পদত্যাগ দাবিতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল।

ভিডিওতে দেখা যায়, অসংখ্য মোটরসাইকেল আরোহী দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তায় শোভাযাত্রা করছেন এবং স্লোগান দিচ্ছেন।

লিংক: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে ইনভিড টুলস ব্যবহার করে ফ্রেম বাই ফ্রেম করে গুগল লেন্সে সার্চ করা হলে স্পষ্ট হয়, এটি উল্লিখিত দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে ঢাকা-১১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আতিকুর রহমানের সমর্থনে অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।

লিংক: এখানে

এ তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে ‘মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা’ কিওয়ার্ডে অনুসন্ধান করে একুশে টেলিভিশনের ফেসবুক পেজে গত ৩১ অক্টোবর সরাসরি সম্প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল ‘ঢাকা-১১ আসনে জামায়াতের মোটরযাত্রা, সরাসরি…’। ওই ভিডিওর ভিজ্যুয়াল ফ্রেম ও ভাইরাল ভিডিওর দৃশ্যের মধ্যে স্পষ্ট মিল পাওয়া যায় রাস্তাঘাট, পরিবহন, মোটরসাইকেলের অবস্থান ও অংশগ্রহণকারীদের পোশাকে।

লিংক: এখানে

এ ছাড়া অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও ৩১ অক্টোবর শেয়ার করা হয়েছে একই মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিও। ওই পোস্টে উল্লেখ ছিল, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মালিবাগ মোড় হয়ে নতুন বাজার পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

লিংক: এখানে

সব তথ্য বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভিডিওটি অন্তর্বর্তী সরকারের পদত্যাগ দাবির কর্মসূচির নয়; বরং এটি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারের।  

পুরোনো ভিডিও নতুন দাবি করে প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একদল মানুষ ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। ভিডিওর বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে, এটি আওয়ামী লীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শাহবাগমুখী ঝটিকা মিছিল। কেউ কেউ আবার বলছেন, এটি আগারগাঁওয়ের দৃশ্য।

লিংক: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ভিডিওটি প্রথম ১ নভেম্বর কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়, যেখানে লেখা ছিল ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শাহবাগ অভিমুখে হাজারো মানুষের জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত ক্যাম্পাস। যমুনা কিন্তু বেশি দূরে নয়!’

লিংক: এখানে

আবার অন্য এক পোস্টে লেখা হয়, ‘ভয়কে করো জয়, মরণপণে কিসের ভয়! আগারগাঁও, পিকচার আভি বাকি।’

তবে ভিডিওটি ফ্রেম বাই ফ্রেম বিশ্লেষণ করে গুগল লেন্সে সার্চ দিলে স্পষ্ট হয়, এটি নতুন নয়। একই ভিডিও গত ২৫ অক্টোবর ফেসবুকে ‘রাজধানীর প্রতিটি রাস্তায়, প্রতিটি অলি-গলিতে আজ একটাই নাম শেখ হাসিনা’ শিরোনামে পোস্ট করা হয়েছিল।

লিংক: এখানে, এখানে

তারও আগে ২২ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হয়, ‘ব্রেকিং নিউজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আওয়ামী লীগের বিশাল মিছিল’।

লিংক: এখানে

আরও পেছনে গেলে দেখা যায়, এক মাস আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর একই ভিডিও এক ফেসবুক ব্যবহারকারী পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘লীগের আজকের দৌড়মিছিল, এক জায়গায় বলে “জয়”, আরেক জায়গায় গিয়ে বলে “বাংলা”’।

লিংক: এখানে

আর সবচেয়ে পুরোনো পাওয়া পোস্টটি ৭ সেপ্টেম্বরের, যেখানে ভিডিওটির ক্যাপশন ছিল ‘আজকের বিজয় সরণিতে জয় বাংলার স্লোগানে মুখরিত’।

লিংক: এখানে, এখানে

দাবি করা ভিডিওর বিভিন্ন সময়ের পোস্ট বিশ্লেষণ ও ভিজ্যুয়াল ক্লু মিলিয়ে দেখা যায়, ঘটনাটি আসলে ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিজয় সরণিতেই ঘটে।

ভিডিওটির জিওলোকেশন ও ফ্রেম বিশ্লেষণে মেট্রোরেল পিলারে লেখা ‘বাংলা ব্লকেড’, পাশে ‘শিকড়’ ও ‘বিকল্প অটো সার্ভিস’ লেখা বাস দেখা যায়। মেট্রোরেলের স্তম্ভগুলোয় দৃশ্যমান জুলাই গণ–অভ্যুত্থানবিষয়ক চিত্রকর্ম ও স্টেশনের নাম ‘বিজয় সরণি’ দৃশ্যমান, যা নিশ্চিত করে ভিডিওটির অবস্থান।

ঘটনাটি যে ৭ সেপ্টেম্বরের, তা মিলে যায় বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনেও। জাতীয় দৈনিকগুলো জানায়, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই আওয়ামী লীগের একদল নেতা–কর্মী ৭ সেপ্টেম্বর বিজয় সরণিতে ঝটিকা মিছিল করেন, যেখান থেকে পুলিশ ১৩ জনকে আটক করে।

প্রকাশিত সংবাদের লিংক: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোয় বলা হয়, সেদিন বেলা পৌনে দুইটার দিকে বিজয় সরণি মেট্রোস্টেশনের নিচ থেকে একদল যুবক মিছিল শুরু করেন, সংসদ ভবনের রাস্তা ধরে খামারবাড়ি গিয়ে শেষ হয় মিছিলটি।

সুতরাং মিছিলটি আওয়ামী লীগের সমর্থনে হলেও তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আগারগাঁও বা অন্য কোনো স্থানের নয়।

২০২১ সালের ভিডিওকেও সাম্প্রতিক বলে প্রচার

‘রাজপথে নেমে গেছে জয় বাংলার কর্মীরা, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু জয় শেখ হাসিনা’—এই শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওটির বর্ণনা অনুযায়ী, এটি সাম্প্রতিক সময়ে কার্যক্রম–নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের মিছিলের দৃশ্য। ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে ব্যানার–প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় মিছিল করছেন একদল মানুষ।

লিংক: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

তবে যাচাই–বাছাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি নতুন নয়; এটি ২০২১ সালের একটি শোভাযাত্রার দৃশ্য।

ভিডিওটি বিশ্লেষণের শুরুতে ভাইরাল ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানারে স্পষ্ট দেখা যায়—‘আজমেরী ওসমানের আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, নারায়ণগঞ্জ’।

‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’ ও ‘আজমেরী ওসমানের আহ্বানে র‌্যালি’ কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে সময় টিভির একটি সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়, যেখানে ২০২১ সালের ২৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত শোভাযাত্রার খবরটি ছিল।

লিংক: এখানে

এরপর ইউটিউবে ‘আজমেরী ওসমানের আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‌্যালি’ কিওয়ার্ডে সার্চ করা হলে ‘City News BD’ নামকের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০২১ সালের ২৬ মার্চের একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যেখানে অন্য কোণ থেকে ধারণ করা একই শোভাযাত্রার দৃশ্য দেখা যায়। ভাইরাল ভিডিওটির ফ্রেমের সঙ্গে ইউটিউব ভিডিওটির মানুষ, রাস্তার অবস্থান ও পারিপার্শ্বিক মিল রয়েছে।

লিংক: এখানে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘Raashid Chowdhury’ নামের আইডি থেকেও ২০২১ সালের ২৬ মার্চ এই শোভাযাত্রার ছবি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে উল্লেখ ছিল, ‘এটি মহান স্বাধীনতা দিবস ও মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে আজমেরী ওসমানের আহ্বানে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির চিত্র’।

লিংক: এখানে

সুতরাং সব তথ্যে এটা স্পষ্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি চার বছর আগের।

২০২৪ সালের পুরোনো ভিডিও

‘শেখ হাসিনার ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই। চলছে লড়াই চলবে। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ১৪/১০/২০২৫’ ক্যাপশনে আওয়ামী লীগের মিছিল দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘মুজিব সেনারা মরতে শিখে গেছে। মরার জন্য প্রস্তুত হও রাজাকাররা’।

লিংক: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ভিডিও যাচাই করে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ে আয়োজিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোনো মিছিলের দৃশ্য নয়। প্রকৃতপক্ষে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিওকে সাম্প্রতিক দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটি গত ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন করে প্রচার করা হয়েছে এবং এটিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সেদিনের আয়োজিত মিছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর সূত্র ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে ওই তারিখের পোস্টগুলো যাচাই করে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো পোস্ট বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আরও অনুসন্ধানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ‘চট্টগ্রাম-এ ছাত্র জনতার মিছিল–আমার দেশ আমার মা পাকিস্তান, আফগানিস্তান হবে না’ শিরোনামের একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর দৃশ্যাবলির সঙ্গে এখন ছড়ানো ভিডিওটির দৃশ্যাবলির মিল রয়েছে।

‘চট্টগ্রাম-এ ছাত্র জনতার মিছিল-আমার দেশ আমার মা পাকিস্তান, আফগানিস্তান হবে না’—এ বাক্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সার্চ করা হলে ‘Gazi Hafizur Rahman Liku’ নামের আইডি থেকে আরেকটি ভিডিও পাওয়া যায়, যার সঙ্গে এখন ছড়ানো ভিডিওর সাদৃশ্য রয়েছে।

লিংক: এখানে, এখানে

সুতরাং এখনকার মিছিল বলে যে ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে, তা আসলে ২০২৪ সালের ৩ আগস্টে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের মিছিলের।

সম্রাটের পুরোনো ভিডিও এখনকার বলে প্রচার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ‘আওয়ামী যুবলীগ তাদের বহিষ্কৃত সব নেতা–কর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে, আর সেই সিদ্ধান্তের পর যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট এখন ঢাকা দক্ষিণের রাজপথ দখলে নিয়ে মাঠে নেমেছেন।’

ভিডিওতে দেখা যায়, গুলিস্তান এলাকায় বিপুলসংখ্যক লোকজনকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যাচ্ছে সম্রাটকে।

লিংক: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

তবে যাচাই করে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বর্তমান সময়ের নয়। আলোচিত ভিডিওর একাধিক ফ্রেম গুগল লেন্সে সার্চ করে দেখা যায়, ভিডিওটি মূলত ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা ভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ‘আন্দোলনের মাঠে যুবলীগ নেতা সম্রাট’ শিরোনামের ভিডিও থেকে নেওয়া। ৩ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির দৃশ্য, ব্যানার ও ভিজ্যুয়াল ফ্রেমের পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়।

পরবর্তীকালে ‘আন্দোলনের মাঠে সম্রাট’ ও ‘যুবলীগ নেতা সম্রাটের আন্দোলন’—এ দুই কিওয়ার্ডে অনুসন্ধান চালিয়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দিন রাজধানীর গুলিস্তানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধে অবস্থান নেন তৎকালীন বহিষ্কৃত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট।

সুতরাং এখন প্রচারিত ভিডিওটি আসলে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ৭ স প ট ম বর ২০২১ স ল র ২০২৪ স ল র ফ সব ক প জ র ক য পশন ল দ শ আওয য চ ই কর প স ট কর স র চ কর প রক শ ত অবস থ ন র কর ম ভ ড ওর য বল গ উল ল খ অন ষ ঠ আজম র র একট আওয় ম

এছাড়াও পড়ুন:

গুচ্ছ ভর্তিতে আবেদন শুরু, দ্বিতীয়বার পরীক্ষা–ভুলে নম্বর কাটাসহ দেখুন বিস্তারিত

গুচ্ছ (জিএসটি) পদ্ধতিতে ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু হয়েছে আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর ২০২৫) থেকে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় দ্বিতীয়বারও ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’—তিন ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন আগ্রহী শিক্ষার্থীরা।

গত শনিবার (৭ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিখিত ভর্তি পরীক্ষা তিনটি ইউনিটে অনুষ্ঠিত হবে—‘এ’ (বিজ্ঞান), ‘বি’ (মানবিক) ও ‘সি’ (ব্যবসায় শিক্ষা)। ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের এসএসসি/সমমান এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তিতে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

পাস নম্বর কত—

১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ৩০। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। প্রতি চারটি ভুল উত্তরের জন্য ১ নম্বর কাটা যাবে।

ভর্তি বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুয়ায়ী, প্রতিটি ইউনিটের ফলাফল জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।  শুধু উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরাই জিএসটি গুচ্ছভুক্ত স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে পারবে।

পরীক্ষার সময়সূচি

—ইউনিট C (বাণিজ্য): ২৭-০৩-২০২৬ (শুক্রবার)। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।
—ইউনিট B (মানবিক): ০৩-০৪-২০২৬ (শুক্রবার), বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।
—ইউনিট A (বিজ্ঞান): ১০-০৪-২০২৬ (শুক্রবার), বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।
—আর্কিটেকচার ব্যবহারিক (ড্রয়িং) পরীক্ষা: ১০/০৪/২০২৬ (শুক্রবার), বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

গুচ্ছের বাইরে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়—

এবারও গুচ্ছের বাইরেই থাকছে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়। আগের মতোই এ প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ভর্তি পরীক্ষা নেবে এসব বিশ্ববিদ্যালয়। বেরিয়ে যাওয়া পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয় হলো—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। গুচ্ছ–প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া নিয়ে তাদের সঙ্গে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ইউজিসির সঙ্গে বৈঠক হলেও তারা রাজি হয়নি। ফলে ১৯ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েই এবার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা হবে।

আরও পড়ুনকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, আবেদন শুরু ২৭ নভেম্বর, দ্বিতীয়বারের সুযোগ২৬ নভেম্বর ২০২৫

গুচ্ছভুক্ত ১৯ বিশ্ববিদ্যালয় হলো—

১. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ২. মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইল ৩. পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী ৪, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী ৫. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ ৬. যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর ৭. পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা ৮. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ৯. গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ ১০, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল ১১. রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ১২. রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ, সিরাজগঞ্জ ১৩. ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ, গাজীপুর ১৪ নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোণা ১৫. জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর ১৬. চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর ১৭. কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ ১৮. সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ ও ১৯. পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর।

আরও পড়ুনএমবিবিএস ও বিডিএস পরীক্ষা শুক্রবার, ১৫ মিনিটে বেশি পাবেন শিক্ষার্থীরা২ ঘণ্টা আগে

ওই পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়কে গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে নানা আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে এবারেও বাইরেই থাকছে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় বেরিয়ে যায় পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়।

পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সভায় নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও তারিখ চূড়ান্ত করেছে।

গত বছর গুচ্ছের তালিকায় থাকা ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েই এই বছরও গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নতুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এখনো যুক্ত হয়নি।

আরও পড়ুনরুয়েটের ভর্তিতে বিজ্ঞপ্তি, আসন ১২৩৫, পদ্ধতিসহ জেনে নিন বিস্তারিত৩০ নভেম্বর ২০২৫আরও পড়ুনশিক্ষক-কর্মচারীরা আইন পেশা, সাংবাদিকতাসহ একই সঙ্গে অন্য চাকরি করতে পারবেন না, নীতিমালা জারি১৯ ঘণ্টা আগে

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • সেমিনার: ১৫ বছরে গুম শিবিরের ২৫৫ জন, সাতজন ফেরেননি এখনো
  • ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে নির্বিচার পাখির মতো গুলি করা হয়: মামুনুল হক
  • গুচ্ছ ভর্তিতে আবেদন শুরু, দ্বিতীয়বার পরীক্ষা–ভুলে নম্বর কাটাসহ দেখুন বিস্তারিত
  • মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের টিকে থাকা নিয়ে নিরীক্ষকের শঙ্কা
  • দেশে মানবাধিকার কমিশন এখনো অকার্যকর
  • বেগম রোকেয়া: মৃত্যুর প্রায় এক শ বছর পরেও কেন প্রাসঙ্গিক
  • ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা ১১ ডিসেম্বর
  • যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ইসরায়েলের
  • আমাদের কেউ ম্যান্ডেট দেয়নি, কত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে: সাখাওয়াত হোসেন
  • ঢাকার সাত কলেজ নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়