যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড ৪০ দিন ধরে চলা সরকারি অচলাবস্থা (শাটডাউন) শিগগির শেষ হতে যাচ্ছে। সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান দলের সদস্যরা কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল চালু রাখার জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এই অচলাবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি কার্যক্রমকে ব্যাহত করছিল।

আজ সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন সিনেটররা সরকারি অচলাবস্থা কাটাতে  একটি স্টপগ্যাপ (কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো অস্থায়ী সমাধান) তহবিল প্যাকেজ এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

আরো পড়ুন:

দক্ষিণ আফ্রিকায় জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক করল উত্তর কোরিয়া

রবিবার অনুষ্ঠিত পদ্ধতিগত ভোটে প্রায় আটজন ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দিয়ে এই উদ্যোগের পক্ষে ভোট দেন। প্রস্তাবটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পুনরায় চালু থাকবে।

দ্বিদলীয় এই চুক্তিতে আগামী বছরের জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি এবং আইনসভা শাখার কার্যক্রমের জন্য তহবিল বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়ায় কিছু ডেমোক্র্যাট ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের মতে, চুক্তিটির পক্ষে যেসব ডেমোক্র্যাট সিনেটর ভোট দিয়েছেন, তারা খুব দ্রুত হার মেনে নিয়েছেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের প্রেস অফিস চুক্তিটিকে ‘দুঃখজনক" বলে অভিহিত করেছে। এক্স-এ একটি পোস্টে বলা হয়, “এটি কোনো চুক্তি নয়। এটি একটি আত্মসমর্পণ। হাঁটু গেড়ে বসবেন না!”

ভারমন্টের একজন স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, যিনি অতীতে ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, তিনি এর আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, চুক্তিটি পাস করে ‘এখনই ট্রাম্পের কাছে আত্মসমর্পণ করা একটি ভয়াবহ ভুল হবে’।

তিনি বলেন, এটি এই দেশের জন্য একটি ট্র্যাজেডি হবে।”

তবে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটরা নিজেদের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেছেন, তারা স্বাস্থ্যসেবার মূল ইস্যুতে ছাড় পেয়েছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে একটি ভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। 

সিনেট যদি সংশোধিত বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাস করে, তবে এটি এখন প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন পেতে হবে। এরপর বিলটি যাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেবিলে, যেখানে তিনি স্বাক্ষর করলে তবেই এটি আইনে পরিণত হবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে, সরকারের অচলাবস্থা শিগগির শেষ হতে যাচ্ছে।” তিনি ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো থেকে সপ্তাহান্তের ছুটি কাটিয়ে হোয়াইট হাউজে ফিরেছেন। 

ঢাকা/ফিরোজ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর য ক তর ষ ট র য ক তর ষ ট র প রস ত ব র জন য সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

ঝালকাঠি পাক হানাদার মুক্ত দিবস আজ 

আজ ৮ ডিসেম্বর, ঝালকাঠি পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এদিন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসররা ঝালকাঠি শহর থেকে পালিয়ে যায়। বিজয়ীর বেশে মুক্তিযোদ্ধারা ঝালকাঠি শহরে প্রবেশ করেন। সর্বত্র আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন স্বাধীনতাকামী জনতা। পাশাপাশি শুরু হয় বিভিন্ন গণকবর আর বধ্যভূমিতে হারানো স্বজনের লাশ খোঁজার পালা। 

১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল ভারী কামান আর মর্টার শেলের গোলা নিক্ষেপ করে পাকিস্তানি বাহিনী ঝালকাঠি শহর দখলে নেয়। পাক বাহিনী তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামসের সহায়তায় ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলা জুড়ে হত্যা, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগসহ নারকীয় নির্যাতন চালায়। 

আরো পড়ুন:

আজ গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস

আজ শত্রুমুক্ত ফেনীতে প্রথম উড়েছিল লাল সবুজের পতাকা

বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন মুক্তিযোদ্ধাসহ নিরীহ বাঙালিদের ধরে এনে পালবাড়ী টর্চার সেলে আটকে রেখে নির্যাতন চালাতো পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসররা। পরে সুগন্ধা তীরবর্তী পৌরসভা খেয়াঘাট এলাকায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করতো তাদের। জেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা ও বাঙালিদের হত্যা করে মাটি চাপা দেয় পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসররা। 

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে ৭ ডিসেম্বর রাতে ঝালকাঠি শহরে কারফিউ জারি করে পাকবাহিনী। পরে তারা ঝালকাঠি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরদিন ৮ ডিসেম্বর স্থানীয়রা ঝালকাঠিকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করে। 

একইদিন পাক হানাদার মুক্ত হয় ঝালকাঠির বর্তমান নলছিটি উপজেলা। নলছিটি থানার তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা সেকান্দার আলী মিয়ার কাছে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন।

এর আগে, ঝালকাঠির রাজাপুর পহানাদার মুক্ত হয়। বরিশাল অঞ্চলে সর্বপ্রথম হানাদার মুক্ত হয় রাজাপুর থানা। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সালের ২৩ নভেম্বর বরিশাল অঞ্চলের মধ্যে সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় রাজাপুরে। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল সাহা বলেন, ‍‍“এ অঞ্চলে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক ও হোসেন আলী নামে দুই মুক্তিযোদ্ধা। আহত হন কমপক্ষে ২০ জন । ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে আক্রমন চালায়। শুরু হয় পাল্টাপাল্টি গুলি। রাতভর যুদ্ধের পরে হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।” 

বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্যবান সেন বলেন, “স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে ৯ নম্বর সাব সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর। কানুদাসকাঠিতে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি তৈরি করেন। রাজাপুর থানায় সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হলে তিনিও এ যুদ্ধে অংশ নেন এবং সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শাহজাহান ওমর বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন।”

ঢাকা/অলোক/মাসুদ

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ৩৬ ঘণ্টার যুদ্ধে শত্রু মুক্ত হয় মাদারীপুর
  • বিজয়ের পরদিনও চলে শিরোমণির ট্যাংকযুদ্ধ
  • ঝালকাঠি পাক হানাদার মুক্ত দিবস আজ