পক্ষপাত ও সম্পাদকীয় অনিয়মের অভিযোগে বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি ও সংবাদ বিভাগের প্রধান ডেবোরাহ টারনেস পদত্যাগ করেছেন। বিবিসির ইতিহাসে একই দিনে মহাপরিচালক ও সংবাদপ্রধান—দুজনের একসঙ্গে পদত্যাগ নজিরবিহীন ঘটনা।

সম্প্রতি বিবিসির সংবাদ পরিবেশনে ‘গুরুতর ও সামগ্রিক পদ্ধতিগত পক্ষপাতিত্ব’ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা ও ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকারের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে বিবিসির কাভারেজ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর তারা দুইজন পদত্যাগ করেছেন। 

বিবিসির এডিটরিয়াল গাইডলাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস কমিটির (ইজিএসসি) সাবেক পরামর্শক মাইকেল প্রেসকট পক্ষপাতিত্বের এই অভিযোগ তোলেন।

গত পাঁচ বছর ধরে দায়িত্বে থাকা ডেভি সাম্প্রতিক সময়ে বিবিসির পক্ষপাত ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে ছিলেন। দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফাঁস হওয়া বিবিসির একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, প্যানোরামা অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ভাষণের দুটি আলাদা অংশ সম্পাদনা করে এমনভাবে একত্র করা হয় যাতে মনে হয় তিনি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় সরাসরি উৎসাহ দিয়েছেন। বাস্তবে ওই দুই বক্তব্য ছিল ৫০ মিনিটেরও বেশি ব্যবধানে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর হোয়াইট হাউস বিবিসিকে ‘শতভাগ ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ বলে মন্তব্য করে।

রবিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে টিম ডেভি বলেন, “সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বিবিসিও নিখুঁত নয়। তবে আমাদের সবসময় খোলা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক থাকতে হবে। বর্তমান বিতর্ক আমার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে, যদিও এটিই একমাত্র কারণ নয়।” 

অন্যদিকে টারনেস বলেন, “প্যানোরামা ইস্যুটি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা বিবিসির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর দায় আমারই।” 

তিনি আরো স্পষ্ট করে বলেণ, “বিবিসি নিউজ প্রতিষ্ঠানগতভাবে পক্ষপাতদুষ্ট—এই অভিযোগগুলো সত্য নয়।”

সম্প্রতি বিবিসি আরো বেশ কিছু ইস্যুতে বিতর্কের মুখে পড়ে।

টিম ডেভি ২০২০ সালে লর্ড হল-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ১৭তম মহাপরিচালক হয়েছিলেন। ডেবোরা আগে আইটিএন ও এনবিসি নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ঢাকা/ইভা 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর পদত য গ

এছাড়াও পড়ুন:

হিমাদ্রির বোনাস লভ্যাংশ প্রদানে বিএসইসির অসম্মতি

পুঁজিবাজারে এসএমই প্ল্যাটফর্মে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিমাদ্রি লিমিটেডের ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের প্রদানে অসম্মতি জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইবি)।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, হিমাদ্রি লিমিটেড ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী বিএসইসির অনুমতি ছাড়া কোনো কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারে না। বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে তা শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরণের অনুমতি চেয়ে বিএসইসিতে আবেদন করে কোম্পানিটি। কিন্তু বিএসইসি হিমাদ্রি লিমিটেডের বোনাস লভ্যাংশ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রকাশিত কোম্পানির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাবপত্রে অদৃশ্য সম্পদ, কর দায় এবং মূলধন সংরক্ষণী- সংক্রান্ত বিষয়ে নিরীক্ষকের আপত্তি বা শর্তযুক্ত মন্তব্য রয়েছে। এসব ঝুঁকি দূর না হওয়া পর্যন্ত বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

এর ফলে হিমাদ্রি লিমিটেডের ঘোষিত ১০০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড আপাতত আটকে গেল। সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আর্থিক বিবরণীর অসঙ্গতি দূর করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে কোম্পানির মূলধন কাঠামো আরো ঝুঁকিতে পড়বে।

হিমাদ্রি লিমিটেড জানিয়েছে, নিরীক্ষকের আপত্তিগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।

ঢাকা/এনটি/ইভা 

সম্পর্কিত নিবন্ধ