মালয়েশিয়া–থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে নৌকাডুবিতে মৃত্যু বেড়ে ১১
Published: 10th, November 2025 GMT
থাইল্যান্ড–মালয়েশিয়া সীমান্তের কাছে নৌকাডুবির ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১১ হয়েছে। ওই নৌকায় প্রায় ৭০ আরোহী ছিলেন, যাঁদের প্রায় সবাই মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের।
সেখানে প্রায় ২৩০ যাত্রী বহনকারী আরেকটি নৌকার ঠিক কী হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার কোস্টগার্ডের ধারণা, নৌকাটি দেশটির পর্যটন দ্বীপ লঙ্কাবির কাছে ডুবে গেছে। ওই নৌকার ১৩ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাঁদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা।
থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এর আগে মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (আগে কোস্টগার্ড নাম ছিল) সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।
থাইল্যান্ড কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যে চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে, তার মধ্যে দুই শিশুর বয়স ১২ ও ১০ বছরের বেশি। অন্য মৃতদেহ দুই নারীর। তাঁদের সঙ্গে শরণার্থী কার্ড পাওয়া গেছে। যেখান থেকে নিহত দুই নারী রোহিঙ্গা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য জানাতে লঙ্কাবি দ্বীপে এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির পক্ষ থেকে বলা হয়, জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া উভয় দেশই আকাশ থেকে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
এ বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত ৫ হাজার ১০০–এর বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে অন্যান্য দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।মালয়েশিয়ার কেদাহ ও পার্লিস রাজ্য মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির পরিচালক রোমলি মুস্তফা বলেন, ‘থাইল্যান্ডের সংস্থার (কোস্টগার্ড) সঙ্গে আমাদের খুবই ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের মধ্যে যোগাযোগ খুব ভালো এবং তথ্যের আদান–প্রদানও হচ্ছে।’
ঘটনার পর অন্তত সাত দিন ধরে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলবে বলেও জানান মুস্তফা।
নৌকাডুবির পর মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি লংকাউই দ্বীপের কাছে কোথায় কোথায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে, তা দেখানো হচ্ছে। ১০ নভেম্বর ২০২৫.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
দুর্নীতির লাগাম টানতে ৭ পরিকল্পনার কথা জানালেন তারেক রহমান
দুর্নীতির সর্বব্যাপী বিস্তার রোধে সাত দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসে তিনি বলেন, দুর্নীতি আজও লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দমবন্ধ করে ফেলছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, “দুর্নীতি কীভাবে বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দিচ্ছে- তা বুঝতে দূরে যাওয়ার দরকার নেই। মেধার ভিত্তিতে চাকরি খুঁজতে বের হওয়া একজন গ্র্যাজুয়েটের সঙ্গে কথা বললেই বুঝবেন। মাসের পর মাস ধরে একটি সাধারণ সরকারি সেবা পেতে হিমশিম খাওয়া কৃষকের দিকে তাকান। হাসপাতালে গিয়ে এক তরুণের পরিবার কীভাবে ভোগান্তিতে পড়ে, সেটা শুনুন। অথবা ব্যবসা বাঁচিয়ে রাখতে ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া উদ্যোক্তাদের ভোগান্তি দেখুন। খাবারের দাম কেন বাড়ে, স্কুলে ভালো পড়াশোনা কেন মেলে না, রাস্তায় কেন নিরাপত্তা নেই- সব কিছুর পিছনে সেই একই কারণ: দুর্নীতি। এটা লাখো মানুষের প্রতিদিনের জীবনকে দমবন্ধ করে ফেলেছে।”
তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নতুন নয়, এটা বহু যুগের আলোচনার বিষয়। আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস আমাদের সেই লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, আর মনে করিয়ে দেয় সেই সময়টাও, যখন বাংলাদেশ সত্যিকারের অগ্রগতি করেছিল। আর সেই সময়টা এসেছে মূলত বিএনপির আমলে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো, পরিচ্ছন্ন সরকারি সেবা আর অর্থনীতিকে মুক্ত করার কাজে হাত দিয়েছিলেন- যা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার কমিয়ে দিয়েছিল। তারপর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়ন শুরু হয়; নতুন ক্রয় নীতিমালা, কঠোর আর্থিক আইন, শক্তিশালী অডিট ব্যবস্থা, আর পরিষ্কার নজরদারি।”
তিনি আরো বলেন, “সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ২০০৪ সালে ‘দুদক’ গঠন; একটি স্বাধীন কমিশন, যেখানে সরকার চাইলে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বিশ্বব্যাংক, এডিবি সবাই বলেছিল- এটা বাংলাদেশের জবাবদিহিতার বড় অগ্রগতি। টিআইবি’র জরিপেও দেখা গেছে- ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। মানুষ নিজেরাই বলেছে- দুর্নীতি কমেছে। এটা কোনো গল্প নয়, এটা তখনকার সংস্কারের প্রমাণ।”
যেসব বড় পরিবর্তনের জন্য বিএনপি গর্ব করতে পারে সেসব বিষয়ও ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান। তার মতে বিএনপি ১। শক্তিশালী অর্থ ব্যবস্থাপনা: বাজেট নিয়ন্ত্রণ, অডিট, ব্যাংকিং ও মানি লন্ডারিং-বিরোধী আইন। ২। স্বচ্ছ ক্রয় নীতি: প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, নিয়মের মধ্যে সরকারি ক্রয়- যা পরবর্তীতে দেশের সবচেয়ে বড় স্বচ্ছতার আইনের ভিত্তি তৈরি করে। ৩। উন্মুক্ত বাজার: টেলিকম, মিডিয়া, বিমান পরিবহন; যেখানে প্রতিযোগিতা বাড়ায় দুর্নীতি কমে, সাধারণ মানুষের সুযোগ বাড়ে। ৪। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: প্রশাসন কম জটিল, কম ইচ্ছাধীন, বেশি মানুষের কাছে জবাবদিহিতা।
আগামী দিনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও শক্তভাবে চালাতে বিএনপির পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেগুলো হলো: ১। প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা: আদালত, দুদক, নির্বাচন কমিশন, সরকারি সেবা; কেউই যেন রাজনৈতিক চাপের মধ্যে না থাকে। ২। পুরোপুরি স্বচ্ছতা: উন্মুক্ত দরপত্র ব্যবস্থা, সম্পদ বিবরণী, রিয়েল-টাইম অডিট, শক্তিশালী তথ্য অধিকার আইন। ৩। বিচার ও আইনশৃঙ্খলা সংস্কার: পেশাদার পুলিশিং, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ। ৪। ই-গভর্ন্যান্স: লাইসেন্স, জমি, পেমেন্ট; সব অনলাইনে এনে ঘুষের সুযোগ কমানো (বিশ্বমান অনুযায়ী ৩০–৬০% দুর্নীতি কমতে পারে)। ৫। হুইসলব্লোয়ার সুরক্ষা: অনিয়ম ফাঁস করতে যারা সাহস দেখায়, তাদের নিরাপত্তা প্রদান। ৬। নৈতিক শিক্ষা: স্কুল–কলেজ থেকেই সততার চর্চা পাঠ্যসূচির অন্তর্ভূক্ত করা ও ৭। শক্তিশালী আর্থিক নজরদারি: ডিজিটাল ব্যয় ট্র্যাকিং ও স্বাধীন অডিট, সংসদের কঠোর তদারকি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরো লিখেছেন, বহু বছর অব্যবস্থাপনার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই কঠিন হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসই প্রমাণ করে, যখন সৎ নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও জনগণের সমর্থন একসঙ্গে আসে, তখন পরিবর্তন অসম্ভব নয়। জনগণ যদি দায়িত্ব দেয়-বিএনপি আবারো সেই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
ঢাকা/ইভা