এক হাজার কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ
Published: 10th, November 2025 GMT
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় রাতের আঁধারে এক কৃষকের এক হাজার কলাগাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এতে সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হওয়ার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক।
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাতে চারজনের নাম উল্লেখসহ আরো ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে কাপাসিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ক্ষতিগ্রস্ত রুস্তম আলী। তিনি উপজেলার টোক ইউনিয়নের টোকনগর গ্রামের মৃত শহর আলীর ছেলে।
আরো পড়ুন:
মুন্সীগঞ্জে প্রতিপক্ষের গুলিতে যুবক নিহত
জাবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ জাকসুর
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন- টোক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও টোকনগর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে শফিকুল ইসলাম কবির (৫০), একই গ্রামের সোহেল (৩৫), ইসলামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ চৌধুরীর ছেলে ইকবাল চৌধুরী (৫৫) এবং কাশেঁরা গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে বাদল মিয়া (৫৫)।
কৃষক রুস্তম আলীর ভাষ্য, প্রায় ১০ বছর আগে তিনি ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম কবিরের কাছ থেকে দেড় বিঘা জমি কেনেন। কয়েক বছর ধরে অভিযুক্তরা কম দামে জমি ফেরত দিতে তাকে নানা রকমের চাপ ও হুমকি দিতে শুরু করে।
তিনি বলেন, “আমি তাদের বলেছিলাম-জমির সঠিক মূল্য দিলে জমি ফেরত দিতে পারি। তারা রাজি হয়নি। ইউপি সদস্য কবির প্রকাশ্যে বলে বেড়াতেন, যেকোনো সময় জমি দখল করে নেবেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আমি কলাবাগান দেখে বাড়ি ফিরি, শনিবার সকালে গিয়ে দেখি সব গাছ কাটা।”
রুস্তম আলী জানান, তিনি প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে ওই জমিতে কলাবাগান করেছিলেন। এক হাজার কলাগাছের মধ্যে প্রায় ৭০০ গাছে ইতোমধ্যে কলা পাকতে শুরু করেছিল। এক সপ্তাহ পরই তিনি বাজারে কলা বিক্রি শুরু করতেন। এখন সুদের টাকা আর দোকানের বকেয়া মেটাতে হিমশিম খেতে হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম কবিরকে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কৃষকের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে, তবে কারো ফসল কেটে দেওয়ার অধিকার কারো নেই। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা/রফিক/মাসুদ
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর অভ য গ সদস য ইসল ম
এছাড়াও পড়ুন:
জবিতে নিখোঁজ ৩ ছাত্রদল নেতার সন্ধানে মানববন্ধন
২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নিখোঁজ তিন ছাত্রদল নেতার সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ছাত্রদল। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির নেতারাও সংহতি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “ছাত্রদল নেতা মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আসাদুজ্জামান রানা ও আল-আমিনকে নিখোঁজের ১১ বছর পরও উদ্ধার করা যায়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুম-খুন, পেটোয়া বাহিনীর হামলা ও নির্যাতন ছিল নিয়মিত ঘটনা।”
আরো পড়ুন:
ভাইকে তো পাব না, অন্তত বিচার যদি পাই: বিশ্বজিতের ভাই
বিশ্বজিৎ হত্যার দৃশ্যচিত্র আজো দেশের মানুষকে কাঁদায়: অধ্যাপক রইছ
বক্তারা সব নিখোঁজ নাগরিকের সন্ধান নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
জবির ছাত্রদল সমর্থিত জাকসুর প্যানেলের জিএস প্রার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাদিজাতুল কোবরা বলেন, “আজ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বহু মানুষ গুম হয়েছে। স্বাধীন দেশে ভাইদের খুঁজতে রাস্তায় দাঁড়াতে হয়, এটাই আমাদের বেদনা। আমরা এমন দেশ চাই যেখানে কেউ গুম হবে না এবং সবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।”
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “ফ্যাসিস্ট আমলে বহু বিএনপি নেতা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। ছাত্রলীগের হাতে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আমাদের অনেকে ফিরে এলেও জবির তিন ভাইকে এখনো পাইনি। দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা মৃত্যুকে উপেক্ষা করে আন্দোলন করছি। গুম-খুনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই।”
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ্ উদ্দিন বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুন ছিল নৈমিত্তিক ঘটনা। জুলাই আন্দোলনের পরও অনেকের সন্ধান পাইনি। জবির তিন ছাত্রদল নেতা, আমার কাজিন ইলিয়াস আলীসহ বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ। প্রতি ১০ ডিসেম্বর মানববন্ধন করি, পরদিন ভুলে যাই-এটাই দুঃখজনক।”
শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, “অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গুম হওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো জবিতে এখনো হয়নি। আমরা চাই, জবি থেকে গুম হওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।”
ঢাকা/লিমন/জান্নাত