নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো যদি কোনো ধরনের বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে তাহলে আইন তার সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। 

সোমবার (১০ নভেম্বর)সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূ‌চি‌র প্রতি ইঙ্গিত করে এমন স্ট্যাটাস দেন। 

তিনি লেখেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (বিএএল), তাদের সহযোগী এবং গণহত্যাকারী নেত্রী সম্ভবত ভাবছেন যে, এটি আবারও ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের মতো সময়। তারা কল্পনা করছে- দুপুরবেলা ডজনখানেক মানুষকে হত্যা করে হাজার হাজার সন্ত্রাসীকে ঢাকার কেন্দ্রে পাঠিয়ে রাস্তাগুলো দখল করবে। দুঃখিত, এখন এটি নতুন বাংলাদেশ।”

“জুলাই বিপ্লবীদের ধৈর্য পরীক্ষা করবেন না এবং মনে রাখবেন- এটি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর নয়। এটি জুলাই- চিরদিনের জুলাই” বলেন তিনি। 

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/ইভা 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর

এছাড়াও পড়ুন:

২০০৬ সালে ফুলবাড়ীতে কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল

১৯ বছরেরও বেশি সময় আগে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিদেশি কোম্পানি এশিয়া এনার্জির বিরুদ্ধে এক গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল।

তৎকালীন এশিয়া এনার্জি কোম্পানির (বর্তমানে যা জিসিএম পিএলসি নামে পরিচিত) পরিকল্পনা ছিল ফুলবাড়ী উপজেলার চারটি থানার প্রায় ৬৭ বর্গকিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ করে গভীর গর্ত করে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা এবং উত্তোলিত কয়লা বিদেশে রপ্তানি করা, বিনিময়ে বাংলাদেশকে মাত্র ৬ শতাংশ রয়্যালটি প্রদান করা।

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ ও দেশের স্বার্থবিরোধী এই প্রকল্পকে সেসময় উন্নয়ন প্রকল্প বলে উল্লেখ করে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ফুলবাড়ীর জনগণ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।

ফুলবাড়ীতে এই কয়লাখনি আবিষ্কার করেছিল বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়লা উত্তোলনকারী কোম্পানি অস্ট্রেলিয়ার বিএইচপি। কিন্তু ভূতাত্ত্বিক জটিলতা, কৃষিজমি ও বন্যাপ্রবণ এলাকা, নদী-খালবেষ্টিত ভূপ্রকৃতি এবং ঘনবসতির কারণে এখানে উন্মুক্ত কয়লাখনি করতে গেলে পরিবেশগত ও সামাজিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে—এ রকম অনুধাবন থেকে বিএইচপি নিজে এখানে কয়লা খননের চেষ্টা করেনি। বরং ১৯৯৮ সালে নবগঠিত এশিয়া এনার্জির কাছে লাইসেন্স হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ত্যাগ করে, যে কোম্পানির কয়লাখনি করার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই।

এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ীতে তৎপরতা শুরু করে ২০০৪ সালে, যা ২০০৫ সালে ব্যাপক আকার ধারণ করে। কোম্পানিটি এ সময় ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে ফুলবাড়ী, বিরামপুর, পার্বতীপুর ও নবাবগঞ্জ অঞ্চলে উন্মুক্ত কয়লাখনির পক্ষে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালায়।

কিন্তু কৃষিজমি ও বসতভিটা ধ্বংস করে কয়লা উত্তোলনের ব্যাপারটি স্থানীয় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তা ছাড়া উত্তোলিত কয়লা বিদেশে রপ্তানি করা ও বাংলাদেশের জন্য মাত্র ৬ শতাংশ রয়্যালটির বিষয়টিও ছিল আপত্তিকর। ফলে বসতি, খাদ্যনিরাপত্তা, জ্বালানিনিরাপত্তা, পরিবেশগত ভারসাম্য—সব দিক থেকেই প্রকল্পটি স্থানীয় জনগণের কাছে ভয়ংকর ক্ষতিকর একটি প্রকল্প হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

ফুলবাড়ী কয়লা খনির বিরুদ্ধে আন্দোলন। ফুলবাড়ী, দিনাজপুর ২৬ আগস্ট, ২০০৬

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • গাজীপুরে পিএন কম্পোজিট কারখানা বন্ধের নোটিশ, শ্রমিকদের বিক্ষোভ
  • গাজীপুরে কারখানা বন্ধের নোটিশে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
  • ২০০৬ সালে ফুলবাড়ীতে কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল