পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীর ক্ষতিপূরণ বিবেচনা করতে পারে সরকার
Published: 6th, November 2025 GMT
পাঁচ ইসলামি ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়ায় পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র শেয়ারধারীদের ভাগ্য নিয়ে বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গতকাল বুধবার বলেছেন, সব শেয়ারের মূল্য শূন্য হয়ে গেছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের মূল্য ঋণাত্মক ৪২০ টাকা পর্যন্ত হয়ে গেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা কিছুই পাবেন না।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেনি এবং একীভূত করার প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আবারও বলেছে, অধ্যাদেশ অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারী/শেয়ারধারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয় বিবেচনার কোনো সুযোগ আপাতত নেই। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী/শেয়ারধারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে তাঁদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।
আলোচ্য পাঁচ ব্যাংক হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের এবং বাকি চারটি ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তাঁরা দুজনেই ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে সংগতি রেখে আইএমএফ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল), বিশ্বব্যাংক, এফসিডিওর কারিগরি সহায়তা ও মতামতসমূহ বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ তৈরি করা হয়েছে। এ রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতাধীন ব্যাংকসমূহের আমানতকারী, শেয়ারহোল্ডারসহ বিবিধ পাওনাদারের অধিকারের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ধারা ১৬ (২) (ট), ২৮ (৫), ৩৭ (২) (গ) এবং ৩৮ (২) অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন টুলস প্রয়োগের সঙ্গে সংগতি রেখে রেজল্যুশনের অধীন তফসিলি ব্যাংকের শেয়ারধারী, দায়ী ব্যক্তি, অ্যাডিশনাল টিয়ার ১ মূলধন ধারক এবং টিয়ার ২ মূলধন ধারক ব্যতীত সাব–অর্ডিনেটেড ডেট হোল্ডারের ওপর লোকসান আরোপ করতে পারবে।
এ ছাড়া ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ধারা ৪০-এ অবসায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রেজল্যুশনের অধীন থাকা ব্যাংককে বিলুপ্ত করা হলে শেয়ারধারীরা যে পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হতেন, তার চেয়ে অধিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে তাঁদের ক্ষতির পরিমাণের পার্থক্যের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ওই ধারা অনুযায়ী, রেজল্যুশনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিযুক্ত কোনো স্বতন্ত্র পেশাদার মূল্যায়নকারী কর্তৃক সম্পাদিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে শেয়ারধারীরা কোনো ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হলে তা দেওয়া যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত একিউআর এবং বিশেষ পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্যগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব ব্যাংক বিশাল লোকসানে রয়েছে এবং তাদের নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় ‘৫টি সংকটাপন্ন ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের রেজ্যুলেশন প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের লোকসানের দায়ভার বহন করতে হবে’ মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণের ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারী বা শেয়ারধারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয় বিবেচনার কোনো সুযোগ আপাতত নেই। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারধারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে তাঁদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: প রক র য় র ব ষয়ট এক ভ ত সরক র ইসল ম
এছাড়াও পড়ুন:
বিইউপিতে এমডিএস-প্রফেশনাল প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এমডিএস-প্রফেশনাল) প্রোগ্রামে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৬ মাস মেয়াদি এমডিএস (প্রফেশনাল) প্রোগ্রামের ১২তম ব্যাচে ভর্তির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ফি এক হাজার টাকা।
ভর্তি আবেদনের যোগ্যতা
আগ্রহী প্রার্থীকে ইউজিসি অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারী হতে হবে।
বিএ–বিএস (পাস) বা সমমান ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা–সদস্য, যাঁদের উপরিউক্ত কোনো ডিগ্রি রয়েছে, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। বিএ–বিএস (পাস) ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের সশস্ত্র বাহিনীতে ৫ (পাঁচ) বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
ন্যূনতম জিপিএ–২.৫০ অথবা দ্বিতীয় শ্রেণি বা বিভাগ থাকতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষা ও ভাইভা
ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের ১০০ নম্বরের একটি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে (লিখিত ৮৫ নম্বর ও ভাইভা ১৫ নম্বর)।
এ পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা ও ব্যাকরণ, গাণিতিক ও তথ্য বিশ্লেষণ দক্ষতা, সাধারণ জ্ঞান ও সমসাময়িক বিষয়াদি সম্পর্কে জ্ঞান মূল্যায়ন করা হবে।
ভাইভার সময় সব মূল একাডেমিক সার্টিফিকেট, মার্কশিট বা ট্রান্সক্রিপ্টস ও অ্যাডমিশন টেস্টের অ্যাডমিট কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে।
লিখিত ভর্তি পরীক্ষা ও ভাইভার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
প্রোগ্রামের খরচ
প্রোগ্রামের মোট খরচ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভর্তি ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি ও সেমিস্টার ফি বাবদ ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা ভর্তির সময় দিতে হবে। এ ছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেমিস্টারে কোর্স ও অন্যান্য ফি বাবদ ২৭ হাজার ৪০০ টাকা করে এবং চতুর্থ সেমিস্টারে কোর্স ও থিসিস বা প্রজেক্ট পেপারস ফি বাবদ ৩৫ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হবে।
আরও পড়ুনবিইউপি ভর্তি আবেদনের সময় বৃদ্ধি০১ ডিসেম্বর ২০২৫জেনে রাখুন
১৬টি কোর্স ও থিসিস বা প্রজেক্ট পেপারসহ মোট ৫২ ক্রেডিট ঘণ্টার বিশেষায়িত পাঠ্যক্রম।
ক্লাস ও পরীক্ষা হবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত (৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে)।
শিক্ষার মাধ্যম: ইংরেজি।
আবেদনপ্রক্রিয়া: ওয়েবলিংক থেকে অনলাইনে ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।
আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ (বর্ধিত)।
লিখিত ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময়: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত।
ভাইবার তারিখ ও সময়: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১০টা থেকে।
ভর্তি কার্যক্রম: ১ থেকে ১২ জানুয়ারি ২০২৬।
ক্লাস শুরু: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে।
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি
আরও পড়ুনবিনা মূল্যে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক কোর্স, আবেদনসহ জেনে নিন সব০২ ডিসেম্বর ২০২৫