নেত্রকোণার বারহাট্টায় অবৈধ পথে আনা বিপুল পরিমাণে ভারতীয় শাড়ি ও থ্রিপিসসহ একটি কাভার্ডভ্যান জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার কাঁকুড়াবাজার এলাকা থেকে চালানটি জব্দ করা হয়। আটককৃতরা হলেন- কাভার্ডভ্যানের চালক ইব্রাহিম (২৫) ও তার সহকারী সাব্বির (২৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, কাভার্ডভ্যানটি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় শাড়ি ও থ্রিপিস ভর্তি করে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। বারহাট্টার কাঁকুড়া এলাকায় পৌঁছালে কাভার্ডভ্যানটি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এ সময় এলাকাবাসী কাভার্ডভ্যানের ভেতরে কী আছে জানতে চাইলে চালক ও তার সহকারী স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে কাভার্ডভ্যান খুলে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রিপিস দেখতে পান। থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাভার্ডভ্যানসহ দুজনকে আটক করে নিয়ে যায়।

আটক চালক ইব্রাহিম বলেন, ‘‘ভোরে সীমান্ত এলাকা থেকে পণ্য বোঝাই করে রওনা হই। পথে বিভিন্ন স্থানে আমাদের সহযোগীরা পথ দেখায়। ঘুমের কারণে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা লাগে। এরপরই এলাকাবাসী আমাদের ধরে ফেলে।’’

বারহাট্টা থানার ওসি মো.

কামরুল হাসান বলেন, ‘‘কাভার্ডভ্যানটি থানায় এনে জব্দ তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলমান। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’’

ঢাকা/ইবাদ/রাজীব

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর

এছাড়াও পড়ুন:

বাফেলোতে মসজিদের সামনে দীর্ঘ সময় আইস পুলিশের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো এলাকায় এক মসজিদের সামনে দুই গাড়ি নিয়ে অভিবাসন পুলিশ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করেছে। পার্ক অ্যাভিনিউর তাকওয়া মসজিদ থেকে জোহর নামাজ শেষে মুসল্লিরা বের হওয়ার পথে সবাইকে ধরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এর মধ্যে ষাটোর্ধ্ব গ্রিনকার্ডধারী একজন বাংলাদেশিও ছিলেন।

৭ ডিসেম্বর বাফেলোয় দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই মসজিদের সামনে অবস্থান করে অভিবাসন পুলিশ। অবশ্য তাকওয়া মসজিদের সামনে থেকে কাউকে ধরে নিয়ে যেতে দেখা যায়নি।

ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কর্নেল ইউনিভার্সিটির ছাত্রী সাদিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের বাসা মসজিদের কাছেই। তুষারপাতে চারপাশ সাদা হয়ে গিয়েছিল। আমি ও আমার কাজিন আদ্রিয়া মাদিনা তুষারপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বের হয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি, মসজিদের কাছে এক বৃদ্ধ বাংলাদেশিকে কয়েকজন ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এর মধ্যে একজনের পোশাকে “পুলিশ” লেখা।’

সাদিয়া বলেন, ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই যা আইস নামে পরিচিত) সাধারণত ফোর্ড গাড়ি ব্যবহার করে। আমি ভিডিও করা শুরু করলে ওরা দ্রুত কথা শেষ করে চলে যায়। পরে আমার এক চাচা গাড়ি দুটিকে দূর থেকে ফলো করেন। তিনি দেখেছেন, গাড়ি দুটি ঘুরেফিরে এই অঞ্চলেই অবস্থান করছে।’

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নামাজে যাওয়ার সময় ওই দুটি গাড়িকে মসজিদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম। মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা অন্যান্য দেশের মুসলিমদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তারা। আমার গ্রিনকার্ড সঙ্গে থাকায় তারা আর কিছু বলেনি।’

তাকওয়া মসজিদে জোহর ও মাগরিবের নামাজ আদায় করা নিয়মিত মুসল্লি ইউনিভার্সিটি অব বাফেলোর ছাত্র আবিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যার সময়ও ওই গাড়ি দুটিকে মসজিদের আশপাশে অবস্থান করতে ও ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। জোহরের নামাজের চেয়ে মাগরিবের নামাজের সময় মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। এ জন্য আইস পুলিশ কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। সন্ধ্যার পর গাড়ি দুটিকে আর দেখা যায়নি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ