দাবি পূরণ না হওয়ায় এবার অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটরা। গতকাল বুধবার রাত ১১টায় ৫ জন আন্দোলনকারী রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশন শুরু করেন। গত ১৯ অক্টোবর থেকে একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন তাঁরা।

১৯ অক্টোবর থেকে বেশ কয়েকবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেন আন্দোলনকারীরা। প্রতিবারই শাহবাগে পুলিশি বাধার মুখে আটকে যেতে হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় আবারও যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করলে শাহবাগে আটকে দেয় পুলিশ। তাঁরা সেখানেই রাস্তায় বসে পড়েন। পরে অনশনকারীরাও তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন।

অনশনকারীদের একজন ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘আমরা ১৯ দিন ধরে রাস্তায়। রোদে পুড়ি, বৃষ্টিতে ভিজি, কেউ আমাদের কথা ভাবে না। মারও খেয়েছি। আমাদের আর কিছু হারানোর নেই। আমরা মরে গেলেও সরকার আমাদের কথা ভাববে কি না, জানি না। আমরা অনশন চালিয়ে যাব।’

আরও পড়ুনকাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে বড় নিয়োগ, পদসংখ্যা ৯৯২৫ অক্টোবর ২০২৫

প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদের পাঁচ দফা দাবি হলো প্রধান উপদেষ্টার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রতি দুই বছর পরপর বিশেষ নিয়োগের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা, বিদ্যমান অভিন্ন জাতীয় শ্রুতলেখক নীতিমালা সংশোধন করা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ব্রেইল পদ্ধতিতে পাঠদানসংক্রান্ত সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম ও পিএইচটি সেন্টারগুলোর শূন্য পদগুলো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সংরক্ষণ করে বিশেষ নিয়োগের ব্যবস্থা করা এবং সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আবেদনযোগ্য বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা।

আরও পড়ুনসোনালী-অগ্রণী-কৃষি-রূপালীসহ ১১ ব্যাংক নেবে সিনিয়র অফিসার, পদ ১০১৭০৮ অক্টোবর ২০২৫আরও পড়ুনকানাডায় পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট, যে ১০ ভুলে বাতিল হয় আবেদন ১২ ঘণ্টা আগে.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে জামায়াতের কর্মী নিহত

রাজশাহী নগরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ওমর ফারুক (২৬) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নগরের আলীগঞ্জ পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ওমর ফারুক ওরফে শান্ত জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে মহানগর জামায়াত। দলটি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওমর ফারুকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ওমর ফারুক নামের ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামী এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে মহানগর জামায়াতের আমির কেরামত আলী ও সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল অভিযোগ করেন, কাশিয়াডাঙ্গা থানার আলীগঞ্জ এলাকায় সুদের কারবারি স্থানীয় যুবলীগ কর্মী নয়ন, রুবেল ও রিপনের সঙ্গে হালিম নামের এক ব্যক্তির সুদের টাকা নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় তর্ক চলছিল। এ সময় জামায়াত কর্মী ওমর ফারুক তাঁদের থামাতে যান। তখন সুদের কারবারিরা তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন।

বিবৃতিতে জামায়াত নেতারা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তাঁরা।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, তাঁরা প্রাথমিকভাবে দুটি বিষয় জানতে পেরেছেন। একটি হলো সুদের টাকার বিরোধে ওমর ফারুক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গিয়েছিলেন। অন্যটি জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটনা। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ