বাবার নির্বাচনি প্রচারে নেহা শর্মা
Published: 10th, November 2025 GMT
বাবার নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন বলিউড অভিনেত্রী নেহা শর্মা। রবিবার (১০ নভেম্বর) বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিন ছিল। এতে বাবা অজিত শর্মার সঙ্গে রোড শোয়ে অংশ নেন ‘ব্যাড নিউজ’খ্যাত এই অভিনেত্রী।
নির্বাচনি প্রচারের বেশ কিছু ভিডিও অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ। ছাদখোলা একটি গাড়িতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন নেহা ও তার বাবা অজিত শর্মা। মানুষ এতটাই ভিড় জমিয়েছে যে, নেহাকে বহনকারী গাড়িটি কচ্ছপের গতিতে চলছে। নেহা ও তার বাবা উপস্থিত মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।
আরো পড়ুন:
ভাইয়ের অপেক্ষায় নিদ্রাহীন সেলিনা জেটলি
‘স্ত্রীর চেয়ে নায়িকাদের সঙ্গেই বেশি সময় কাটিয়েছে গোবিন্দ’
মিড ডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনে ভাগলপুর আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন অজিত শর্মা। ছাদখোলা জিপ নিয়ে রোডশোয়ে অংশ নেন নেহা শর্মা ও তার বাবা অজিত। এসময় কংগ্রেসের হাজার হাজার সমর্থক পতাকা উড়াতে থাকেন। ‘অজিত শর্মা জিন্দাবাদ’, ‘কংগ্রেস পার্টি জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। বিভিন্ন স্থানে মহিলা ও তরুণ–তরুণীরা নেহাকে ফুল ও মালা দিয়ে স্বাগত জানান।
বাবার জন্য ভোট চেয়ে নেহা শর্মা বলেন, “আমার বাবা ও আপনাদের নেতা শহরের উন্নতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। ভাগলপুরের আরো অগ্রগতি প্রাপ্য; অনুগ্রহ করে তাকে আবারো সমর্থন করুন।”
দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে নেহা বলেন, “ভাগলপুরের মানুষ সবসময় আমার বাবাকে ভালোবাসা ও আশীর্বাদে ভরিয়ে দিয়েছেন। তিনি এই এলাকার সেবায় কোনো ঘাটতি রাখেননি। ভাগলপুরের কন্যা হিসেবে আমি আপনাদের কাছে আবেদন করছি, তাকে আবারো আশীর্বাদ দিন যাতে তিনি জয়ী হন।”
রোড শোয়ে অংশ নেওয়ার আগে নেহা ও অজিত শর্মা বুধনাথ মন্দিরে পূজা দেন। তাদের শোভাযাত্রা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা—নয়া বাজার, সারাই, নার্গা চক, চম্পা নগর, মেদিনি নগর ও টাটারপুর পেরিয়ে রেলস্টেশনের কাছে গিয়ে শেষ হয়।
অজিত শর্মা, টানা তৃতীয়বারের মতো পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে নেমেছেন। তার বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন বিজেপির রোহিত পান্ডে। এর আগেও বাবার নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন নেহা শর্মা।
ঢাকা/শান্ত
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর চলচ চ ত র ভ গলপ র
এছাড়াও পড়ুন:
অনলাইনের যেকোনো তথ্য যাচাই করতে হবে
ভুয়া বা ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের এই সময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো—প্রশ্ন করার অভ্যাস ও তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা। পাশাপাশি অনলাইনে পাওয়া যেকোনো কনটেন্ট (আধেয়) শুরুতেই সন্দেহের চোখে দেখতে হবে; প্রথম দেখাতেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যাবে না।
অনলাইনে দ্রুত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কৌশল শেখাতে প্রথম আলো বন্ধুসভার বিশেষ কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা। আজ শুক্রবার ‘কোয়েশ্চেন এভরিথিং ইউ সি অনলাইন: ট্রেইনিং অন কুইক ফ্যাক্ট-চেকিং অ্যান্ড ভেরিফিকেশন (অনলাইনে যা দেখবেন, প্রশ্ন করবেন: তথ্য যাচাই পদ্ধতিবিষয়ক প্রশিক্ষণ)’ শিরোনামে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ও ডিসমিসল্যাবের সহযোগিতায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে কর্মশালা চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মল্লিকের সঞ্চালনায় প্রথম সেশনে ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বিষয়ে আলোচনা করেন ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কোনো ভুল তথ্যকে যদি সঙ্গে সঙ্গে সঠিক না করেন তাহলে এই তথ্যকে একসময় মানুষ সত্যি মনে করবে। এখন সেই ব্যবসা তত বড়, যে ব্যবসায় তথ্য বেশি। যাদের কাছে তথ্য বেশি তারা এগিয়ে যায়। যাচাই করার সক্ষমতা বর্তমানে অনেক বেশি জরুরি হয়ে গেছে। যেকোনো তথ্যে দেখবেন সূত্র উল্লেখ আছে কি না। সূত্র না থাকলে তথ্য সঠিক মনে করা যাবে না।’
স্বাগত বক্তব্যে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রশ্ন করতে হবে। তথ্য সত্য কি না, যাচাই করতে হবে। জগৎটা এখন অনেক বেশি তথ্যের।’
তথ্যের সত্যতা যাচাই, ছবি যাচাই এবং অনলাইন আর্কাইভিং বিষয়ে আলোচনা করেন ডিসমিসল্যাবের গবেষণা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম। কীভাবে মুহূর্তেই নির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য, ছবি, ভিডিও, তথ্য প্রকাশের তারিখ ও ডকুমেন্ট ফাইল খুঁজে বের করতে হবে; মোবাইলে রিভার্স ইমেজ সার্চ, ছবির মেটা ডেটা যাচাই কীভাবে করা যাবে এবং এ–সংক্রান্ত বিভিন্ন এআই টুলের ব্যবহার বিষয়ে হাতে–কলমে সেশন পরিচালনা করেন তিনি।
আর এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ছবি ও ভিডিও কীভাবে যাচাই করা যাবে; কোনটা এআই ভিডিও, কোনটা বাস্তব—কীভাবে শনাক্ত করা যাবে এবং এআই চিহিৃতকরণ কয়েকটি টুলের ব্যবহার দেখান ডিসমিসল্যাবের আরেকজন গবেষণা কর্মকর্তা আহমেদ ইয়াসীর আবরার।
অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের উপদেষ্টা উত্তম রায় বলেন, ‘অনলাইনে কোনো কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই রিঅ্যাক্ট করা যাবে না। যাচাই করতে হবে, সময় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।’
ডিসমিসল্যাব ও দেশি-ফুডসকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, ‘আমাদের একটি বড় সমস্যা হলো জেনে না জেনে অপতথ্যের প্রচার করা। অনেকের মধ্যেই ডিজিটাল শিক্ষা খুবই কম। এর কারণ হলো প্রযুক্তি অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। কোনটা এআই, কোনটা সত্য—তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। তাই অনলাইনে যা কিছুই দেখবেন, সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করবেন।’
দেশি-ফুডসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজের রহমান ও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা রুপা খাতুন। বন্ধুসভার সঙ্গে থাকতে পেরে প্রথম আলো ও বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানান মাহফুজের রহমান। অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।
দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পারসোনাল ব্র্যান্ডিং’, ‘আইইএলটিএস ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা’, ‘গ্রাফিক ডিজাইন’সহ এ নিয়ে চারটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হলো। পুরো আয়োজনের সমন্বয় করেছেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের প্রশিক্ষণ সম্পাদক সামছুদ্দোহা সাফায়েত। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হয়।