চোটজর্জর নেইমারকে এখন খেলতে দেখা যায় কালেভদ্রে। যে কয়েক মিনিট খেলেন, তাতে ফুটবলশৈলীর চেয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েই তিনি বেশি আলোচনায় আসেন।

সম্প্রতি চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমার গত রাতে ব্রাজিলিয়ান লিগে ফ্লামেঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রায় দুই মাস পর সান্তোসের শুরুর একাদশে ফিরেছেন। কিন্তু নিজেকে বিতর্কমুক্ত রাখতে পারেননি।

মারাকানা স্টেডিয়ামে ফ্লামেঙ্গোর কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে সান্তোস। নেইমার না পেয়েছেন গোল, না করেছেন অ্যাসিস্ট। এ হারে অবনমনের শঙ্কা আরও বেড়েছে তাঁর দলের। বিপরীতে পালমেইরাসের সঙ্গে সমান ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বুনছে ফিলিপে লুইসের ফ্লামেঙ্গো।

খুব একটা ভালো খেলতে না পারলেও একাধিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন নেইমার। মাঠে ফ্লামেঙ্গোর খেলোয়াড়েরা তাঁকে বারবার ফাউল করছিলেন আর গ্যালারি থেকে ফ্লামেঙ্গোর সমর্থকেরা দিচ্ছিলেন দুয়োধ্বনি, ‘নেইমার, তুমি গোল্লায় যাও!’ এ নিয়ে রেফারি সাভিও সাম্পাইয়োকে অভিযোগ জানাতে চাইলেও প্রতিকার পাননি। উল্টো সাম্পাইয়ো তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান এবং হুমকি দেন।

পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় ম্যাচের ৮৫ মিনিটে নেইমারকে তুলে নিয়ে বেঞ্জামিন রোলহেইসারকে নামান সান্তোস কোচ হুয়ান পাবলো ভইভোদা। এতে রেগে গিয়ে বেঞ্চের পাশে রাখা পানির বোতলে লাথি মারেন নেইমার। পানি গিয়ে পড়ে কয়েকজন সতীর্থ খেলোয়াড়ের গায়ে। এরপর মন খারাপ করে সোজা মারাকানার ড্রেসিংরুমে চলে যান নেইমার। তাঁকে তুলে নেওয়ার পর সান্তোস দুটি গোল শোধ করতে পারলেও হার এড়াতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে নেইমার রেফারি সাভিও সাম্পাইয়োর বিরুদ্ধে অভিযোগের সুরে বলেন, ‘সম্মান জানিয়েই বলছি, তিনি (রেফারি) খুব খারাপ ও অহংকারী। রেফারিরা সব সময় বলে থাকেন, শুধু দলের অধিনায়ক তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। অন্য কেউ কথা বলতে গেলেই তাঁরা পেছনে ঘুরে যান, হুমকি দেন।’

রেফারির কাছে যাওয়াতেই হলুদ কার্ড দেখেছেন বলে দাবি নেইমারের, ‘আজ (কাল) আমাকে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়েছে কারণ, আমি তাঁর কাছে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, “তুমি যদি আমার কাছে আসো, তাহলে তোমাকে হলুদ কার্ড দেখাব।” আমি জানতে চেয়েছিলাম, কেন? কারণ, আমার মনে হয়েছিল ফ্লামেঙ্গো গোল করার সময় ব্রাজাওকে (সান্তোসের গোলকিপার) ফাউল করা হয়েছিল। এ ধরনের ভুল ব্রাজিলের রেফারিংয়ে বারবার দেখা যায়। আবারও বলছি, এই ম্যাচে রেফারির আচরণ ছিল সত্যিই ভয়ানক।’

ব্রাজিলিয়ান লিগে পয়েন্ট তালিকার ১৭ নম্বরে থাকা সান্তোসের পরের ম্যাচ বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার ভোরে, প্রতিপক্ষ শীর্ষে থাকা পালমেইরাস।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: হল দ ক র ড দ

এছাড়াও পড়ুন:

আমার মেয়ের রক্তক্ষরণ হচ্ছে: বিমানবন্দরে বাবার আকুতি

ইন্ডিগোর ফ্লাইট বিপর্যয়ে কয়েক দিন ধরে ভারতের উড়োজাহাজ পরিবহন পরিষেবায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর একের পর এক ফ্লাইট বিলম্ব অথবা বাতিল হয়েছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। যদিও পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

এর মধ্যে গত ৫ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের একটি বিমানবন্দরের ভেতরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ইন্ডিগোর ‘হেল্প ডেস্কের’ সামনে শতাধিক মানুষ ভিড় করেছেন। তাঁরা ‘হেল্প ডেস্কে’ থাকা ইন্ডিগোর কর্মীদের নানা প্রশ্ন করছেন।

এরই মধ্যে এক ব্যক্তিকে মরিয়া হয়ে মেয়ের জন্য একটি স্যানিটারি প্যাড চাইতে দেখা যাচ্ছে। ওই ব্যক্তির শরীরী ভাষা বলে দিচ্ছে, তিনি চরম হতাশা থেকে বিপর্যস্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন।

ইন্ডিগো ভারতের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ সংস্থা। দেশে-বিদেশে দিনে তাদের ২ হাজার ৩০০টির মতো ফ্লাইট চলাচল করে।

নিউজ১৮–এর বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস বলেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দিল্লি বিমানবন্দরের।

ভিডিওতে বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ফ্লাইট–সংক্রান্ত তথ্যের অভাব ও বিমানবন্দরে জরুরি পণ্যসামগ্রী না পাওয়ার কারণে হতাশা থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।

ভারতের উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা-ডিজিসি সম্প্রতি ফ্লাইট চলাচলে কিছু নতুন নিয়ম জারি করেছে। নতুন নিয়মে বিশেষ করে পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ছুটি দেওয়ার বিষয়ে কিছু বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়েছে।

পাইলট ও কেবিন ক্রুরা যেন পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান, ক্লান্তি ও অবসাদে না ভোগেন এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনা যাতে কমে যায়, সে কারণে ওইসব নিয়ম জারি করা হয়েছে।

কিন্তু নভেম্বরে বাধ্যতামূলকভাবে এই বিধি চালু করতেই ভারতের উড়োজাহাজ চলাচল ব্যবস্থা ধসে পড়ে। বিশেষ করে দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদসহ ভারতের বড় বড় বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর ফ্লাইট চলাচলে বিপর্যয় নেমে আসে।

হাজার হাজার মানুষ বিমানবন্দরগুলোতে আটকা পড়েন। বিমানবন্দরে খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দেয়।

আরও পড়ুনভারতের উড়োজাহাজ চলাচলে বিপর্যয়, ইন্ডিগোকে সাময়িক ছাড় দিল সরকার০৫ ডিসেম্বর ২০২৫

৫ ডিসেম্বর দিল্লি বিমানবন্দরে ধারণ করা ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে ইন্ডিগোর হেল্প ডেস্কে বসে থাকা এক নারীকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘বোন, আমার মেয়ের জন্য একটি (স্যানিটারি) প্যাড চাই...আমাকে একটি প্যাড দিন।’

দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ওই ব্যক্তিকে সে সময় জোরে জোরে ডেস্কে চাপড় দিতে দেখা যায়।

মেয়ের জন্য বাবার এই হাহাকারের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে এক্স ও ইনস্টাগ্রামে।

ভিনা জেইন নামে একটি ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ৫ লাখ ৬১ হাজার মানুষ দেখেছেন (এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত)।

আরও পড়ুনবেহাল ইন্ডিগোতে ভারতে উড়োজাহাজ পরিষেবা বিপর্যস্ত০৪ ডিসেম্বর ২০২৫

সম্পর্কিত নিবন্ধ