১৬৯২ রানের ম্যাচে ৩৩৬ রানে জয় ভারতের
Published: 6th, July 2025 GMT
বার্মিংহ্যাম টেস্টে চার ইনিংসে রেকর্ড ১,৬৯২ রান হয়েছে, যা ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার টেস্ট ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ। আর এই রেকর্ড রানসংবলিত ম্যাচটি ৩৩৬ রানে জিতে নিয়েছে ভারত। এই জয়ের মাধ্যমে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায় সফরকারীরা।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুভমান গিলের ২৬৯, রবীন্দ্র জাদেজার ৮৯ ও যশস্বী জয়সওয়ালের ৮৭ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ৫৮৭ রান করে ভারত। জবাবে ইংল্যান্ড ৮৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসলেও জেমি স্মিথ ও হ্যারি ব্রুকের দুর্দান্ত লড়াইয়ে ৪০৭ রান পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয়। স্মিথ অপরাজিত ১৮৪ ও ব্রুক ১৫৮ রান করেন।
১৮০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে আবার ব্যাট করতে নামে ভারত। এবারও সেঞ্চুরি করেন গিল—১৬১ রান। এছাড়া জাদেজার অপরাজিত ৬৯, ঋষভ পন্থের ৬৫ ও লোকেশ রাহুলের ৫৫ রানের ইনিংসে ভর করে ভারত ৬ উইকেটে ৪২৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় রেকর্ড ৬০৮ রান।
এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রার চাপে চতুর্থ দিনেই দিশেহারা হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। মাত্র ৫০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ৭২ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করে।
পঞ্চম ও শেষ দিনে ভারতের জয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মেঘ ও বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হয় দেরিতে। মাঠ শুকিয়ে খেলা শুরু হলে ইংল্যান্ড দ্রুত দুটি উইকেট হারায়। ৮০ রানে অলি পোপ (২৪) ও ৮৩ রানে ব্রুক (২৩) ফিরে যান।
সেখান থেকে বেন স্টোকস ও জেমি স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ১৫৩ রানে স্টোকস ৩৩ রানে আউট হন। এরপর স্মিথ ও ক্রিস ওকস মিলে স্কোর ১৯৯ রান পর্যন্ত নিয়ে যান। এরপর ওকস ৩২ বলে ৭ রান করে আউট হন।
প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান স্মিথ একপ্রান্ত আগলে লড়াই করলেও ২২৬ রানে তার বিদায়ে ইংল্যান্ডের হার সময়ের ব্যাপারে পরিণত হয়। স্মিথ এবার করেন ৮৮ রান, ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে।
এরপর ২৪৬ রানে জশ টাং (২) ও ২৭১ রানে ব্রাইডন কার্স (৩৮) আউট হলে ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৭১ রানে। ফলে ভারত পায় ৩৩৬ রানের বিশাল জয়।
বল হাতে আকাশদীপ ৯৯ রানে নেন ৬ উইকেট। যা তার ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার। এছাড়া মোহাম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, রবীন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দর নেন ১টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে আকাশদীপ ক্যারিয়ারে প্রথমবার এক ম্যাচে ১০ উইকেট পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া সিরাজ পান মোট ৭ উইকেট।
প্রথম ইনিংসে ২৬৯ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬১ রানের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন শুভমান গিল।
ঢাকা/আমিনুল
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর প রথম ইন ৬ উইক ট
এছাড়াও পড়ুন:
ফ্রিল্যান্সিং করে ২২ বছরের তানিয়ার মাসে আয় লাখ টাকা
অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল তানিয়া খলিলের (২২)। বিয়ের বছরখানেক পরই মা হন তিনি। এরই মধ্যে সংসার আর শিশুসন্তান সামলিয়েই তিনি হয়ে ওঠেন ফ্রিল্যান্সার। নিজে ফ্রিল্যান্সিং শিখে অন্যদেরও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এখন তাঁর মাসে আয় প্রায় এক লাখ টাকা।
তানিয়ার বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার বাজারপাড়া এলাকায়। ২০২১ সালে মাটিরাঙ্গা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় তাঁর বিয়ে হয়। স্বামী ইব্রাহিম খলিল পেশায় ফ্রিল্যান্সার। সেই সুবাদে তানিয়ারও এ জগতে চলা শুরু। ২০২৩ সালের শুরুতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খাগড়াছড়ি সদরে চলে আসেন। সেখানেই এখন দুজন ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালান।
তানিয়া জানান, বিয়ের পর পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এর মধ্যেও ঘরে বসে কিছু করতে চাইতেন। এরপর স্বামী ইব্রাহিম খলিল তাঁকে ফ্রিলান্সিং শেখার জন্য উৎসাহ দিতে থাকেন। তিনিও সে সুযোগ হাতছাড়া করেননি।
প্রথম আয় আমাকে অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। মনে হয়েছিল, সত্যিই কিছু করার সামর্থ্য আছে আমার।—তানিয়া খলিল, ফ্রিল্যান্সারতানিয়া খলিল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি প্রথমে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ শেখা শুরু করি। রং, লে আউট, টাইপোগ্রাফি—সবই আমার কাছে নতুন ছিল। নিজের আগ্রহ থাকায় দ্রুত শিখে ফেলি। কয়েক মাসের মধ্যেই নিজেকে ফ্রিল্যান্সিং বাজারের জন্য তৈরি করে ফেলতে সক্ষম হয়েছি।’
ফ্রিল্যান্সিং শেখার মধ্যেই ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রথম কাজ পেয়েছেন তানিয়া। লোগো ডিজাইন করে সে মাসে তিনি ১৩ ডলার আয় করেছিলেন। এর পর থেকে আর থেমে থাকতে হয়নি তাঁকে। সেই স্মৃতি মনে করে তানিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম আয় আমাকে অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। মনে হয়েছিল সত্যিই কিছু করার সামর্থ্য আছে আমার।’
তানিয়া বলেন, লোগো ডিজাইনের পর ব্র্যান্ড আইডেনটিটি, বিজনেস কার্ড, লেটারহেড তৈরিসহ নানান ধরনের কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। গ্রাহকদের খুশি করতে পারায় দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম বাড়ে তাঁর। এরপর একের পর এক কাজ আসতে থাকে। আয়ও সমানতালেই বাড়তে থাকে। বর্তমানে তিনি ফাইভারের পাশাপাশি আপ ওয়ার্কে ফ্রিল্যান্সের কাজ করেন।
সম্প্রতি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা ভবনের দোতলায় প্রায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের বিশাল কক্ষে সারিবদ্ধভাবে ল্যাপটপ নিয়ে বসে রয়েছেন কয়েকজন তরুণী। তানিয়া তাঁদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। একটু শুনতেই বোঝা গেল তানিয়া তরুণীদের গ্রাফিক ডিজাইন কীভাবে করতে হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।তানিয়ার জন্য এসব কাজ অবশ্য খুব একটা সহজ ছিল না। সময়মতো কাজ জমা দেওয়া, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, সন্তানকে দেখাশোনা—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই ছিল চ্যালেঞ্জের। তানিয়া বলেন, ‘পরিবারের সাপোর্ট না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। আমার স্বামী এখনো আমার সবচেয়ে বড় সহযোগী।’
খাগড়াছড়ি শহরে নারীদের ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তানিয়া খলিল। সম্প্রতি তোলা