ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরেই সংবর্ধনা পাচ্ছে নারী ফুটবল দল
Published: 6th, July 2025 GMT
বাংলাদেশ নারী ফুটবলের জন্য এ এক নতুন ভোরের পূর্বাভাস। প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের মূলপর্বে জায়গা করে নেওয়ার গৌরবময় অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে আজ রোববার (০৬ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর হাতিরঝিল এম্ফিথিয়েটারে আয়োজন করা হচ্ছে এক ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এমন অভিনব আয়োজনে প্রস্তুত দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।
মিয়ানমারে বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স শেষে বাংলাদেশ নারী দল রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় সময় রওনা দেবে। থাইল্যান্ড হয়ে মধ্যরাত দেড়টার দিকে ঢাকায় পৌঁছাবে তারা। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সোজা যাবে হাতিরঝিলে, যেখানে অপেক্ষায় থাকবে জাতির অভিনন্দন আর ভালোবাসা।
এই রাত হতে যাচ্ছে একসাথে বরণ, সম্মান ও বিদায়ের অভূতপূর্ব উপলক্ষ। কেননা দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা ও মনিকা চাকমা পরদিনই ভুটান লিগে খেলতে ঢাকা ছাড়বেন। আরও তিনজন ফুটবলার যাত্রা করবেন দুই দিন পর। ফলে পুরো দল একসাথে থাকছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। সেই সময়টাকেই রঙিন করে তুলতে এই মধ্যরাতের আয়োজন।
আরো পড়ুন:
মেসির জোড়া গোলে জিতলো মায়ামি
৯ জন নিয়ে খেলেও সেমিফাইনালে পিএসজি
ফুটবলারদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে, বিষয়টা আনন্দের। তবে আনন্দের মাঝেও থেকে গেছে এক প্রশ্নচিহ্ন। এখনো পর্যন্ত বাফুফে এই ইতিহাস গড়া দলের জন্য কোনো অর্থনৈতিক পুরস্কার ঘোষণা করেনি। স্মরণ করিয়ে দিতে হয়, ২০২২ সালের সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ফুটবলারদের দেড় কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ফেডারেশন। কিন্তু দীর্ঘ সাত মাস পেরিয়ে গেলেও সেই অর্থ এখনো পুরোপুরি হাতে পৌঁছায়নি। তাই এবার অনেকেই চাচ্ছেন, এই অর্জন শুধু সংবর্ধনার শব্দে সীমাবদ্ধ না থেকে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও প্রেরণার মাধ্যম হয়ে উঠুক।
ঢাকা/আমিনুল
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ফ টবল ফ টবল র
এছাড়াও পড়ুন:
বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন বন্ধ্যাত্বে ভুগছেন: ডব্লিউএইচও
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রথমবারের মতো বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ, সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা উন্নত করার জন্য গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। ডব্লিউএইচও তাদের প্রতিবেদনটি শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) প্রকাশ করেছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফিপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মালয় টাইমস।
আরো পড়ুন:
পুতুলকে নিয়ে ভাবমূর্তি সংকটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
কোভিড-১৯ এর টিকার নতুন সুপারিশমালা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
ডব্লিউএইচও’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন তাদের জীবদ্দশায় বন্ধ্যাত্বের সম্মুখীন হয়ে থাকে। এই অবস্থা সব অঞ্চল এবং আয়ের স্তরের ব্যক্তি এবং দম্পতিদের প্রভাবিত করে। কিন্তু তারপরও নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই কম।
ডব্লিউএইচও’র যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান প্যাসকেল অ্যালোটি সাংবাদিকদের বলেন, বন্ধ্যাত্বের বিষয়টি ‘অনেক দিন ধরে’ অবহেলিত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নতুন গাইডলাইনটি একীভূত ও প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করবে যাতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিরাপদ, কার্যকর ও সকলের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য হয়।
ডব্লিউএইচও-এর মতে, বন্ধ্যাত্ব হলো পুরুষ ও নারী প্রজনন ব্যবস্থার একটি অবস্থা, যা ১২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত অরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরে গর্ভধারণ করতে অক্ষমতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এই পরিস্থিতি বড় ধরনের দুর্দশা, কলঙ্ক ও আর্থিক সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ডব্লিউএইচও বলেছে, বেশ কয়েকটি দেশে বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষা ও চিকিৎসার বেশিরভাগ খরচ রোগীদের বহন করতে হয়, যা প্রায়শই ‘বিপর্যয়কর আর্থিক ব্যয়’ ডেকে আনে। কিছু পরিস্থিতিতে, এমনকি ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) এর একটি রাউন্ডের খরচও গড় বার্ষিক পরিবারের আয়ের দ্বিগুণ হতে পারে।
বন্ধ্যাত্বের ওপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শুক্রবার প্রকাশিত প্রথম গাইডলাইনে ৪০টি সুপারিশ রয়েছে। যা বন্ধ্যাত্বের সাধারণ কারণ খুঁজে বের করার জন্য নির্দিষ্ট রোগ বা অবস্থা জানার জন্য একটি যত্ন, নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য প্রমাণ-ভিত্তিক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কে বয়সের ব্যবধান, যৌন সংক্রমণ সম্পর্কিত বিষয়ে অসচেতনতা, দ্বন্দ্ব, দুর্দশা এবং আর্থিক কষ্টের কারণ বন্ধ্যাত্ব বাড়ছে বলে প্রতিবেদেন উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের সেবা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে আরো বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাদ্য, শারীরিক কার্যকলাপ এবং তামাক ব্যবহার বন্ধের মতো জীবনধারার ব্যবস্থাগুলো সুপারিশ করা হয়েছে।
ঢাকা/ফিরোজ