বন্ধুদের সঙ্গে অন্যদের দ্বন্দ্বে খুন হন সামিউর: পুলিশ
Published: 21st, May 2025 GMT
একই জায়গায় মাদক সেবন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটির জেরে রাজধানীর জিগাতলায় খুন হন কলেজছাত্র সামিউর রহমান খান (আলভী)। যদিও এই কথা–কাটাকাটির সময় ছিলেন না তিনি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আজ বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এ কথা জানিয়েছে।
রাজধানীর জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন একটি গলিতে ১৬ মে সামিউর ও তাঁর বন্ধুদের ছুরি ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তদের সংঘবদ্ধ একটি দল। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সামিউরকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম। তিনি বলেন, ১৫ মে রাত ৯টার দিকে সামিউরের তিন বন্ধু আশরাফুল ইসলাম, মো.
মাসুদ আলম বলেন, আশরাফুল ও দৃশ্য খান তাদের ওই এলাকা থেকে সরে যেতে বললে হাসান নামের এক যুবকের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাসানকে চড় দেন আশরাফুল। এ ঘটনায় আশরাফুল ও দৃশ্য খানকে ‘শিক্ষা দেওয়ার’ পরিকল্পনা করে আক্রমণ করেন হাসান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ১৬ মে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিন বন্ধু আশরাফুল, মো. জাকারিয়া ও মো. ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে ধানমন্ডি লেকপাড়ের একটি রেস্টুরেন্টে আড্ডা দিচ্ছিলেন সামিউর। এ সময় হাসানের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁদের ওপর হামলা চালায়। কৌশলে তাঁদের জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন একটি গলির মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানেই সামিউর ও তাঁর বন্ধুদের ছুরি ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।
আরও পড়ুনজিগাতলায় কলেজছাত্র সামিউর হত্যার ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার১৮ মে ২০২৫মাসুদ আলম বলেন, পরে স্থানীয় লোকজন সামিউর ও তাঁর বন্ধুদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর তিন বন্ধু চিকিৎসা নিয়েছেন। সামিউর হাজারীবাগ থানার মনেশ্বর রোডে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তিনি ধানমন্ডির একটি কলেজে স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মো. রায়হান (২০), মো. হাবিবুর রহমান মুন্না (২৬), সমতি পাল (২৩) ও কাউসার (২১)। ধানমন্ডি ও হাজারীবাগের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: বন ধ দ র ধ নমন ড আশর ফ ল ড এমপ ঘটন য়
এছাড়াও পড়ুন:
জয়া চান না তার নাতনি বিয়ে করুক
বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যতম প্রভাবশালী বচ্চন পরিবার। এ পরিবারের নিয়ম-নিষ্ঠা সম্পর্কে সবাই অবগত। নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক অমিতাভ-জয়ার। অনেক ভক্ত রয়েছেন যারা এই পরিবারকে ব্যক্তিগত জীবনে অনুসরণ করেন।
উই দ্য ইউমেন-কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জয়া বচ্চন। এ আলাপচারিতায় জয়া জানান, তিনি চান না তার নাতনি নব্য বিয়ে করুক।
আরো পড়ুন:
দীপিকার বোনের বিয়ের ঘটক রণবীর!
প্রেমের গল্প নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ধানুশ-কৃতি: বক্স অফিসের হালচাল কী?
এ আলাপচারিতায় বিয়ের আইনি ধারণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়া বচ্চন উৎসাহব্যঞ্জক বাক্য ছুড়ে দিয়ে বলেন—“জীবন উপভোগ করুক।” এরপর তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, নব্য যদি আপনার মতো বিয়ের পর ক্যারিয়ার ছেড়ে দেয়, তবে কি জয়া বচ্চন তাতে রাজি থাকবেন? উত্তরে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি চাই না নব্য বিয়ে করুক।”
সঞ্চালক জয়াকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কী মনে করেন বিয়ে একটি সেকেলে প্রতিষ্ঠান। তখন ‘অভিমান’ অভিনেত্রী বলেন, “আজকের প্রজন্ম যে কাউকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।”
বিয়ে প্রসঙ্গে ফিরে জয়া বচ্চন বিয়েকে ‘দিল্লিকা লাড্ডুর’ সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, “আপনি যদি এটি খান তবে বিপদে পড়বেন, আর না খেলেও আফসোস করবেন।”
অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের দুই সন্তান। কন্যা শ্বেতা বচ্চন ও পুত্র অভিষেক বচ্চন। নিখিল নন্দার সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন শ্বেতা বচ্চন। এ দম্পতির মেয়ে নব্য নাভেলি নন্দা। যুক্তরাষ্ট্রের ফোরডাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিজিটাল টেকনোলজি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে নিজের ‘আরা’ নামে স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন তিনি।
অনেকদিন ধরে গুঞ্জন উড়ছে—বলিউডে নাম লেখাতে চান নব্য। তবে এখনো বলিউড সিনেমায় তার অভিষেক ঘটেনি। তবে এর আগে একটি বহুজাতিক সংস্থার বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন নব্য।
স্নাতক সম্পন্ন করার পর কিছু দিন পড়াশোনা থেকে বিরতি নেন নব্য। নিজে পডকাস্ট শুরু করেছিলেন। নানি জয়া বচ্চন ও মা শ্বেতা বচ্চন দু’জনেই তার শোয়ে অতিথি হয়ে এসেছিলেন। নব্যর বাবা নিখিল নন্দা শিল্পপতি। নিখিলের প্রতিষ্ঠানের অন্যতম অংশীদার নব্য।
নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন নব্য। নিজের নামে একটি বেসরকারি সংস্থা গড়ে তুলেছেন। লিঙ্গসাম্য থেকে শুরু করে নারীদের স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষা নিয়ে ভারতজুড়ে কাজ করেছেন নব্য। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এবং লিঙ্গসাম্য নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন নব্য।
গত বছর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউটস অব ম্যানেজমেন্টে (আইআইম) ভর্তি হন নব্য। মুম্বাই, দিল্লি ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসা করেন নব্যর বাবা নিখিল। পড়াশোনা শেষ করে নব্য সেই ব্যবসা সামলানোর পরিকল্পনা করেছন বলেও জানা গেছে।
ঢাকা/শান্ত