স্বাস্থ্য ও জলবায়ু নীতিতে তরুণদের সংযুক্তিতে ‘ইয়ুথ ক্যাটালিস্ট’ প্রকল্প উদ্বোধন
Published: 22nd, May 2025 GMT
জাতীয় পর্যায়ে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার এবং জলবায়ু সহনশীলতা সংশ্লিষ্ট নীতিতে তরুণ জনগোষ্ঠীর মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষে শুরু হয়েছে ‘ইয়ুথ ক্যাটালিস্ট প্রজেক্ট’। এটি একটি যুব-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ। গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের এই প্রকল্পটি সুইডিশ উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা সিডা’র অর্থায়নে এবং সিরাক-বাংলাদেশ এর নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটি বিশেষভাবে প্রান্তিক ও জলবায়ু-সংবেদনশীল তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও জলবায়ু সহনশীলতা সংশ্লিষ্ট জাতীয় নীতিমালায় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা.
বক্তব্যে ডা. বারী- স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু ও সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে যুব-কেন্দ্রিক ও আন্তঃখাত নীতিগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি সংস্কারের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এখনই সময়, তরুণদের সক্রিয়ভাবে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার। তাদের কণ্ঠ, চাহিদা ও স্বপ্নকে নীতিমালার কেন্দ্রে রাখতে হবে। কারণ যুবশক্তিকে ক্ষমতায়ন মানেই ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি।’
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমেদ বাল্য বিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণের সমস্যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, সকল শ্রেণি ও জনগোষ্ঠীর তরুণদের কাছে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সঠিক ও সহজলভ্য তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের চিফ অব হেলথ ড. ভিভাবেন্দ্র সিং রঘুবংশী প্রকল্পটির সূচনা প্রক্রিয়ার বিবরণ দেন এবং সরকারের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ও সিডা-র দৃঢ় অংশীদারিত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিভাগীয়, জেলা এবং জাতীয় পর্যায়ে পরামর্শমূলক সভার মাধ্যমে একটি জাতীয় যুব পজিশন পেপার তৈরি করা হবে।
সুইডেন দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি ফেলিক্স হেলগেসন বলেন, এসআরএইচআর এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে যুব নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই প্রকল্পের লক্ষ্য সুইডেনের পররাষ্ট্র নীতি ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক যুব আন্দোলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. হালিদা হানুম আখতার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সিসিএইচপিইউ এর প্রফেসর ড. ইকবাল কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সুলতান আহম্মেদ।
সভায় সিরাক-বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত প্রকল্পের রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন এবং তৃণমূলের যুব কণ্ঠস্বর ও জাতীয় অঙ্গীকারসমূহের মধ্যে শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরির বিষয়ে এ প্রকল্পটি কাজ করবে বলে জানান।
ইউএনএফপিএ-র এসআএইচআর বিশেষজ্ঞ ডা. এএসএম হাসান বলেন, ‘নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুব অংশগ্রহণ আর ঐচ্ছিক নয়; বরং এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যত-নির্ভর স্বাস্থ্য ও জলবায়ু অভিযোজন প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।’
এসময় অন্যান্য বক্তারা যুব-সংশ্লিষ্ট, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ হেলথ অ্যাকশন নেটওয়ার্ক' এবং 'ইয়ুথ কোয়ালিশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ নামে দুটি জাতীয় যুব অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করা হয়। এই দুটি প্ল্যাটফর্ম তরুণদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা এবং নেতৃত্বকে আরও সুসংগঠিত ও প্রভাব বিস্তারকারী করে তুলবে। বিশেষ করে, জাতীয় জনসংখ্যা নীতি, পরিবার পরিকল্পনা কৌশল পরিকল্পনা (২০২৪-২০৩০), জাতীয় কিশোর স্বাস্থ্য কৌশল (২০১৭-২০৩০), এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (২০২৩-২০৫০)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালায় যুবদের অবদানকে দ্রুততর ও কার্যকর করতে এই প্ল্যাটফর্মগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিনিয়র সহকারী সচিব সাইনী আজিজ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত সংলাপ-এ সারা দেশে থেকে আসা যুব প্রতিনিধিরা নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেন। যেমন পোশাক খাতে মাসিক স্বাস্থ্যসুরক্ষা, দুর্যোগকালে সেবা বিঘ্নতা, প্রতিবন্ধী যুবদের প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তি, ও আশ্রয়কেন্দ্রে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ইত্যাদি। এই আলোচনার ফলাফলসমূহ জাতীয়, যুব-নেতৃত্বাধীন একটি পজিশন পেপার তৈরিতে প্রতিফলিত হবে, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও জলবায়ু সহনশীলতা নীতিতে যুব-নীতি সংলাপের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: প রকল প প রজনন স ব স থ য ন শ চ ত কর প রকল প ও জলব য পর ব র পর চ ল অন ষ ঠ প রক র গ রহণ
এছাড়াও পড়ুন:
বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন বন্ধ্যাত্বে ভুগছেন: ডব্লিউএইচও
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রথমবারের মতো বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ, সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা উন্নত করার জন্য গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। ডব্লিউএইচও তাদের প্রতিবেদনটি শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) প্রকাশ করেছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফিপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মালয় টাইমস।
আরো পড়ুন:
পুতুলকে নিয়ে ভাবমূর্তি সংকটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
কোভিড-১৯ এর টিকার নতুন সুপারিশমালা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
ডব্লিউএইচও’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন তাদের জীবদ্দশায় বন্ধ্যাত্বের সম্মুখীন হয়ে থাকে। এই অবস্থা সব অঞ্চল এবং আয়ের স্তরের ব্যক্তি এবং দম্পতিদের প্রভাবিত করে। কিন্তু তারপরও নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই কম।
ডব্লিউএইচও’র যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান প্যাসকেল অ্যালোটি সাংবাদিকদের বলেন, বন্ধ্যাত্বের বিষয়টি ‘অনেক দিন ধরে’ অবহেলিত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নতুন গাইডলাইনটি একীভূত ও প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করবে যাতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিরাপদ, কার্যকর ও সকলের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য হয়।
ডব্লিউএইচও-এর মতে, বন্ধ্যাত্ব হলো পুরুষ ও নারী প্রজনন ব্যবস্থার একটি অবস্থা, যা ১২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত অরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরে গর্ভধারণ করতে অক্ষমতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এই পরিস্থিতি বড় ধরনের দুর্দশা, কলঙ্ক ও আর্থিক সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ডব্লিউএইচও বলেছে, বেশ কয়েকটি দেশে বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষা ও চিকিৎসার বেশিরভাগ খরচ রোগীদের বহন করতে হয়, যা প্রায়শই ‘বিপর্যয়কর আর্থিক ব্যয়’ ডেকে আনে। কিছু পরিস্থিতিতে, এমনকি ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) এর একটি রাউন্ডের খরচও গড় বার্ষিক পরিবারের আয়ের দ্বিগুণ হতে পারে।
বন্ধ্যাত্বের ওপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শুক্রবার প্রকাশিত প্রথম গাইডলাইনে ৪০টি সুপারিশ রয়েছে। যা বন্ধ্যাত্বের সাধারণ কারণ খুঁজে বের করার জন্য নির্দিষ্ট রোগ বা অবস্থা জানার জন্য একটি যত্ন, নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য প্রমাণ-ভিত্তিক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কে বয়সের ব্যবধান, যৌন সংক্রমণ সম্পর্কিত বিষয়ে অসচেতনতা, দ্বন্দ্ব, দুর্দশা এবং আর্থিক কষ্টের কারণ বন্ধ্যাত্ব বাড়ছে বলে প্রতিবেদেন উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের সেবা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে আরো বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাদ্য, শারীরিক কার্যকলাপ এবং তামাক ব্যবহার বন্ধের মতো জীবনধারার ব্যবস্থাগুলো সুপারিশ করা হয়েছে।
ঢাকা/ফিরোজ