বিহারে চলছে দ্বিতীয় ও শেষ দফার বিধানসভা নির্বাচন
Published: 11th, November 2025 GMT
ভারতের বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় ও শেষ দফায় ১২২ আসনের ভোট গ্রহণ চলছে। ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ৭টায়। ভোট গ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রথম ২ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে শতকরা ১৫ শতাংশ।
রাজ্যের ২৪৩টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় গত ৬ নভেম্বর ১২১ আসনে ভোট নেওয়া হয়।
আরো পড়ুন:
দিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণের সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ
পশ্চিমবঙ্গে নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে হাঙর শিকার, প্রকাশ্যে বিক্রি
দ্বিতীয় দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৭০ লাখ। এরমধ্যে অর্ধেকের বেশি ভোটার (২.
এই দফায় নজর থাকবে রাজ্যের পূর্ব চম্পাহরণ, পশ্চিম চম্পাহরণ, সীতামারি, মধুবনী, সুপৌল, আরারিয়া, কিশানগঞ্জ-এর মতো নেপাল সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে। মুসলিম অধ্যুষিত এই এলাকায় জোর টক্কর হবে রাজ্যটির ক্ষমতাসীন জোট ‘এনডিএ’ এবং বিরোধী জোট ‘মহাগাটবন্ধন’ এর মধ্যে। নির্বাচনী প্রচারণায় অনুপ্রবেশকারীদের বিরোধী জোটের ভোটব্যাংক হিসেবে কটাক্ষ করেছিল এনডিএ নেতারা।
এ দফায় মোট ১৩০২ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। এরমধ্যে রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জেডিইউ প্রার্থী মন্ত্রী সুমিত কুমার সিং (চাকাই), জেডিইউ প্রার্থী মন্ত্রী লেশি সিং (ধামদাহ), বিজেপি প্রার্থী মন্ত্রী নীরজ কুমার সিং (ছাতাপুর), জেডিইউ প্রার্থী মন্ত্রী বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব (সুপৌল), মন্ত্রী জয়ন্ত রাজ (আমারপুর), মন্ত্রী নিতিশ মিশ্র (ঝঞ্ঝারপুর), মন্ত্রী রেনু দেবী (বেতিয়া), বিজেপি প্রার্থী ক্রীড়াবিদ শ্রেয়শী সিং (জামুই), বিজেপি প্রার্থী প্রেম কুমার (গয়া টাউন), সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী তারকিশোর প্রসাদ (কাটিহার) প্রমুখ। অন্যদিকে বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন আরজেডি প্রার্থী উদয়নারায়ণ চৌধুরী (সিকান্দ্র), কংগ্রেস প্রার্থী শাকিল আহমেদ খান (কাদোয়া), সিপিআইএমএল প্রার্থী মেহবুব আলম (কুটুম্বা)।
শেষ দফায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিজেপি, জেডিইউ নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এবং কংগ্রেস, আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাগাটবন্ধন এর মধ্যে। এছাড়াও প্রশান্ত কিশোরের জন সুরজ পার্টি, আসাদুদ্দিন ওয়াইসির অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) মতো আঞ্চলিক দলগুলোও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
শেষ দফার নির্বাচন হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (হ্যাম), বিকাশশীল ইনসান পার্টি (ভিআইপি), রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা (আরএলএম) এবং অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম)-এর মতো ছোট আঞ্চলিক দলগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনী এলাকায় এই দলগুলোর প্রভাব সামগ্রিক ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
জিতেন রাম মাঝির হ্যাম ৪টি আসনে লড়ছে, এনডিএ জোটের শরিক দল বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী মুকেশ সাহনির দল ভিআইপি লড়ছে অন্তত ১৫টি আসনে। ইতিমধ্যেই বিরোধী জোটের তরফে তাকে আগাম প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়েছে, বিরোধী জোট ক্ষমতায় আসলে তাকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হবে। উপেন্দ্র কুশওয়ার দল আরএলএম ৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অন্যদিকে পূর্ণিয়া, কিশানগঞ্জ, আরারিয়া মতো আসনগুলোতে মুসলিম ভোট একত্রিত করে জয়ের স্বপ্ন দেখছে আসাদুদ্দিন ওয়াইসির দল এআইএমআইএম। ২০২০ সালের নির্বাচনে পাঁচটি আসনে জয়লাভ করে তারা। এই নির্বাচনেও গতবারের পাঁচটি আসনে জয়ের ধরা বজায় রাখতে এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের উপর জোর দিয়ে ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় এআইএমআইএম।
দ্বিতীয় দফায় ভোট শুরুর সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী- প্রত্যেকেই গণতন্ত্রের উৎসব ভোট প্রক্রিয়ায় সামিল হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানান।
এর আগে বিহার নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়ে, ভোটের শতকরা হার ছিল ৬৪.৬৬ শতাংশ। ভোট গণনা আগামী ১৪ নভেম্বর।
বিহার বিধানসভার পাশাপাশি গোটা দেশজুড়ে ৭টি রাজ্যের ৮টি বিধানসভার আসনে উপনির্বাচন চলছে। এর মধ্যে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের বুদগাম ও নাগরোটা কেন্দ্র, রাজস্থানের অন্ত, ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলা, তেলেঙ্গানার জুবিলি হিলস, পাঞ্জাবের তর্ন তরণ, মিজোরামের ডাম্পা এবং ওড়িশার নওপাদা কেন্দ্র।
ঢাকা/সুচরিতা/ফিরোজ
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ম খ যমন ত র ব ধ নসভ মন ত র জ ড ইউ এনড এ দলগ ল
এছাড়াও পড়ুন:
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর আগে পাবনায় ঘুরছে ‘পারমাণবিক বাস’
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হতে পারে। এর আগে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পাবনার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছে ‘পারমাণবিক বাস’। এ বাসে করে ঘুরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে বিভ্রান্তি দূর করছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এটি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন রোসাটম যৌথভাবে প্রকল্প এলাকায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিজ্ঞান উৎসব পরিচালনা করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন প্রশ্ন, ভুল ধারণা, উদ্বেগ ও কৌতূহলের সঠিক ও তথ্যভিত্তিক উত্তর প্রদান করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বলছে, চলমান বিজ্ঞান উৎসবের অংশ হিসেবে রোসাটম ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রতিনিধিরা একটি নান্দনিক পারমাণবিক থিমে ব্র্যান্ডিং করা বাসে করে বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণ করছেন। এ বাসের নাম দেওয়া হয়েছে পারমাণবিক বাস। যাত্রাপথে তাঁরা বিভিন্ন জনসমাবেশে অংশ নিয়ে মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। পাবনা জেলার সব উপজেলার মানুষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, পরিবেশগত দিক, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও সামাজিক-অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারছেন।
বিজ্ঞপ্তি বলছে, মাসব্যাপী সচেতনতা কর্মসূচির আওতায় পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিজ্ঞান উৎসব, গম্ভীরা পরিবেশনা এবং উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। টেকসই, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র—এই প্রতিপাদ্যে গম্ভীরা পরিবেশনার মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনায় রূপপুর প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। উঠান বৈঠকের লক্ষ্য হলো, স্থানীয় জনগণকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে জানানো, সরাসরি আলোচনায় যুক্ত করা, তাদের প্রশ্নের সঠিক ও তথ্যভিত্তিক উত্তর প্রদান, উদ্বেগ ও শঙ্কা দূর করা এবং প্রকল্পের পক্ষে ইতিবাচক জনমত গড়ে তোলা।
এ ছাড়া জনগণের আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে এবং দর্শকদের মধ্যে পারমাণবিক থিমের স্মারক সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এর বাইরে সম্প্রতি ঈশ্বরদী পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্র এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগ যৌথভাবে পারমাণবিক প্রযুক্তিবিষয়ক বিতর্ক ও প্রশ্নোত্তরপর্বের আয়োজন করে।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদার হিসেবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট।