কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের নতুন সংস্করণ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। শিগগিরই চালু হবে পরবর্তী প্রজন্মের ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল জিপিটি ৫.১। এই সিরিজে থাকবে তিনটি সংস্করণ—জিপিটি ৫.১ বেস, জিপিটি ৫.১ রিজনিং ও জিপিটি ৫.১ প্রো। জিপিটি ৫.১ প্রো মাসে ২০০ ডলার ফির বিনিময়ে পাওয়া যাবে।

জানা গেছে, নতুন মডেল এরই মধ্যে মাইক্রোসফটের অ্যাজুর ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। খুব শিগগির জিপিটি ৫.

১ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। ওপেনএআই সাধারণত তিন থেকে চার মাস বিরতিতে নতুন সংস্করণ প্রকাশ করে। গত ৭ আগস্ট সর্বশেষ জিপিটি ৫ উন্মুক্ত হয়। নতুন জিপিটি ৫.১ সংস্করণে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না বলে জানা গেছে। নতুন সংস্করণে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থায় উন্নতি, মডেলের গতি ও কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে জানা গেছে।

ওপেনএআই সম্প্রতি কোড লেখার সহায়ক জনপ্রিয় মডেল কোডেক্সের নতুন সংস্করণ উন্মোচন করেছে। নতুন সংস্করণটির নাম জিপিটি ৫ কোডেক্স মিনি। এটি তুলনামূলক কম খরচে ব্যবহারযোগ্য হলেও কার্যকারিতায় প্রায় কোডেক্স হাইয়ের সমমানের। একই সঙ্গে এই সংস্করণে ব্যবহারকারীরা পাবেন ৫০ শতাংশ বেশি রেট লিমিট–সুবিধা। ওপেনএআই জানিয়েছে, জিপিটি ৫ কোডেক্স মিনি মূলত সহজ বা স্বল্প জটিলতার কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা যখন নির্ধারিত সীমার প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলবেন, তখন কোডেক্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিনি সংস্করণ ব্যবহারের পরামর্শ দেবে, যেন কাজের গতি ব্যাহত না হয়।

ওপেনএআই বলছে, জিপিটি ৫ কোডেক্স মিনিতে প্রায় চার গুণ বেশি ব্যবহারসীমা থাকবে। যদিও এটি তুলনামূলক ছোট মডেল হওয়ায় সক্ষমতায় সামান্য পার্থক্য রয়েছে। নতুন আপডেটের ফলে চ্যাটজিপিটি প্লাস, বিজনেস ও এডু ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি রেট লিমিট–সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে প্রো ও এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকেরা পাবেন অগ্রাধিকারভিত্তিক দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সুবিধা। সব মিলিয়ে আসন্ন জিপিটি ৫.১ প্রকাশের পর কোডেক্স মডেলের কার্যক্ষমতা ও পারফরম্যান্সের সীমা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

নতুন মডেল উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় ওপেনএআই ছাড়া গুগল জেমিনি ৩ প্রো মডেলের পরীক্ষামূলক সংস্করণ চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি অ্যানথ্রোপিকও তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ক্লড মডেল উন্নয়নে কাজ করছে।

সূত্র: ব্লিপিংকম্পিউটার

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ব যবহ র

এছাড়াও পড়ুন:

তিউনিসিয়ার গুপ্তহত্যা, ওসমান হাদিকে গুলি ও বিপজ্জনক রাজনীতি

গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী তিউনিসিয়ায় প্রথম নির্বাচন হয় ২০১১ সালে। নির্বাচনের পরে, বেশ অস্থিতিশীল একটা সরকারের সময়, কয়েক মাসের ব্যবধানে চকরি বেলাইদ ও মোহামেদ ব্রাহিমি ‘মোটরসাইকেলে চড়ে আসা’ আততায়ীর গুলিতে গুপ্তহত্যার শিকার হন। আজ এটা স্বীকৃত যে, আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে এই দুটি হত্যাকাণ্ড তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্রের যে স্বপ্ন ছিল, সেটি যে আজ প্রায় ধ্বংসের পথে, তার জন্য দায়ী।

টার্গেট শরিফ ওসমান হাদি হবেন কি না সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছিল না, কিন্তু এ ধরনের ঘটনা যে ঘটবে, সেটার যৌক্তিক অনুমান করা যাচ্ছিল। এর প্রাথমিক কারণ, দেশে-বিদেশে থাকা কিছু শক্তি চায় না বাংলাদেশ একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাক।

এটাও আমরা জানি, একটা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয় যদি সেই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সততা এবং পেশাদারির সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করে যায়। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষতার স্বাক্ষর তো রাখতে পারেইনি, খুব সাধারণ পারফরম্যান্সও দেখাতে পারেনি। কিছুদিন আগে প্রথম আলোর মাধ্যমে পরিচালিত জনমত জরিপেও দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের ওপরে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ অসন্তুষ্ট।

গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের গতিপথ তিউনিসিয়ার সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই মেলে। সে কারণেই আমাদের সুযোগ ছিল তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের ভুলগুলো এড়িয়ে যাওয়ার। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা পারিনি সেটা।

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো হবে, এটা প্রত্যাশা আমরা করিনি। শেখ হাসিনার অপশাসনের ফলে প্রায় পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত পুলিশ বাহিনী তার মনোবল ফিরে পেতে সংগ্রাম করেছে। কিন্তু এই বাস্তবতা মেনে নেওয়ার পরও বলতে হবে, আইনশৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, বিশেষ করে এমন একটা সময়ে যখন সেনাবাহিনীও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে মাঠে আছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল, এমনটিও মনে হয়নি অনেক সময়।  

দীর্ঘকাল স্বৈরাচারী শাসনের প্রতিক্রিয়ায় কোনো দেশে গণ-অভ্যুত্থান হলেই অভ্যুত্থানকারীরা সফল হবেনই এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক দেশে এ ধরনের গণ-অভ্যুত্থান গড়ে ওঠার সময়টায় (আরব বসন্ত) অন্তত তিনটি দেশ (সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন) দীর্ঘমেয়াদি গৃহযুদ্ধের মধ্যে ঢুকে পড়ে।

আরও পড়ুনওসমান হাদিকে হামলা: গুলির লক্ষ্য একজন না, লক্ষ্য নির্বাচন?১৮ ঘণ্টা আগে

আর কর্তৃত্ববাদী শাসকের পতন ঘটানোর সাফল্য এসেছিল যে দেশগুলোতে (তিউনিসিয়া, মিসর) সেগুলো গেছে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে। একটা স্বৈরাচারী সরকার তার ক্ষমতায় থাকাকে নিশ্চিত করার জন্য ভেঙে ফেলে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান, ফলে স্বৈরশাসকের অনুপস্থিতিতে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো সেই অর্থে ক্রিয়াশীল থাকে না।

এমন প্রেক্ষাপটে অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর সবচেয়ে জরুরি কাজ অত্যন্ত কঠিন হলেও নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সংঘাতকে খুব খারাপ পর্যায়ে নিয়ে না যাওয়া। বিশেষ করে নিজেদের মধ্যে মতাদর্শগত বিভেদ যতটা সম্ভব এড়ানো।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে চিন্তা, কর্মসূচি এবং মতাদর্শগত পার্থক্য থাকবেই এবং সেটা নিয়ে বিতর্ক তো বটেই ঝগড়াবিবাদও হতে পারে। কিন্তু দল এবং শক্তিগুলো পরস্পরের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হয়ে ওঠা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি তৈরি করে।

আর গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী প্রায় ভেঙে পড়া রাষ্ট্রব্যবস্থায় এমন প্রবণতা ভয়াবহ বিপদের কারণ হতে পারে, যা এমনকি গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদি। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • প্রথম আলোর জরিপ: সংখ্যার ভেতর চমক ও শঙ্কা
  • চালু হলো চ্যাটজিপিটির নতুন সংস্করণ
  • তিউনিসিয়ার গুপ্তহত্যা, ওসমান হাদিকে গুলি ও বিপজ্জনক রাজনীতি
  • সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সব কার্যক্রম স্থগিত