জরায়ু ক্যানসারের ঝুঁকিতে কারা
Published: 11th, November 2025 GMT
জরায়ুর ক্যানসার মানে জরায়ুর ভেতরের দেয়ালের বা এন্ডোমেট্রিয়ামের ক্যানসার। এন্ডোমেট্রিয়াম কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ফলে জরায়ুর ক্যানসার হয়। বিশ্বে নারীদের যত ক্যানসার হয়, তার মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে জরায়ু ক্যানসার। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা গেলে প্রাণঘাতী এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় করা যায়।
ঝুঁকিতে যাঁরা
৬০ বা বেশি বয়সী নারী, যাঁদের মেনোপজ (ঋতুস্রাব বন্ধ) হয়েছে।
প্রজননক্ষম বয়সে যাঁরা পলিস্পিটিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে ভুগেছেন।
অনিয়মিত মাসিক
৪০ বছর বয়সের পর মাসিকের সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তপাত।
বন্ধ্যত্ব।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ আছে এমন রোগী।
অতিরিক্ত ওজন।
ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস যেমন (কোলন, ওভারিয়ান) ক্যানসার ও লিঞ্চ সিনড্রোম।
ইস্ট্রোজেন হরমোন থেরাপি গ্রহণ।
স্তন ক্যানসারের জন্য টেমোক্সিফেন সেবন।
আগে কোনো ক্যানসারের জন্য রেডিওথেরাপি গ্রহণ।
কম বয়সে মাসিক শুরু ও দেরিতে মেনোপজ।
উপসর্গ ও ধাপ
মেনোপজের পর আবার রক্তপাত শুরু হলে।
দুর্গন্ধযুক্ত ঋতুস্রাব।
তলপেটে ব্যথা
ধাপ ১— ক্যানসার জরায়ুর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
ধাপ ২— ক্যানসার জরায়ুমুখ পর্যন্ত যখন ছড়ায়।
ধাপ ৩—ক্যানসার ডিম্বাশয় ও যোনিপথ পর্যন্ত ছড়ানো।
ধাপ ৪—মূত্রথলি ও বৃহদন্ত্র পর্যন্ত ছড়ানো।
শনাক্ত ও চিকিৎসা
ট্রান্স ভ্যাজাইনাল আলট্রাসনোগ্রাম, এন্ডোমেট্রিয়ামের নমুনা সংগ্রহ, ফ্রাকশনাল কিউরেটেজ, হিস্টোরোস্কপি এবং এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে জরায়ু ক্যানসার শনাক্ত করা যায়।
জরায়ু ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু জরায়ু অপসারণ অস্ত্রোপচার করলে চলে। এ ছাড়া কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি, এফএমনেরো থেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপির মতো চিকিৎসা রয়েছে।
ডা.
পবিনা আফরোজ পারভীন, স্ত্রীরোগ, প্রসূতি এবং স্ত্রীরোগ ক্যানসার ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, চেম্বার—আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা
উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত শান্তিরক্ষী জাহাঙ্গীরের বাড়িতে মাতম
সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর একজন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৩০)। তাঁর গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় চলছে স্বজনদের আহাজারি। মিশনে যাওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় জাহাঙ্গীরের এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গতকাল শনিবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশি ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়। এই হামলায় আরও আট শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। হতাহতদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। তাঁরা আবেইর জন্য জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
আরও পড়ুনসুদানে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের নাম-পরিচয় জানাল আইএসপিআর৪ ঘণ্টা আগেআরও পড়ুনসুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় জাতিসংঘ মহাসচিবের তীব্র নিন্দা৬ ঘণ্টা আগেএ হামলায় নিহত জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি উপজেলার জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামে। তাঁর স্ত্রী ও তিন বছর বয়সের একটি শিশুসন্তান রয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রামে শোকাবহ অবস্থা। স্থানীয় লোকজন বাড়িতে এসে ভিড় করছেন। বাড়ির ভেতরে দেখা যায়, ছোট একটি টিনের ঘরে নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী আহাজারি করছেন। এই ঘরেই তাঁরা পরিবারসহ বসবাস করেন।
বাড়ির উঠানে বসে জাহাঙ্গীরের বাবা হজরত আলী কেঁদে কেঁদে লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন। মা পালিমা বেগম ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে কান্না করছেন। আর স্ত্রী রুবাইয়া আক্তার স্বামীর মৃত্যুর খবরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনেরা তাঁকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পাশেই তিন বছর বয়সী ছোট্ট শিশু ইরফান মায়ের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেস ওয়েটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৭ নভেম্বর তিনি শান্তি রক্ষা মিশনে অংশ নিতে সুদানে যান। মিশনে যাওয়ার মাত্র এক মাস সাত দিনের মাথায় তাঁর মৃত্যুর খবরে পুরো পরিবার হতভম্ব হয়ে পড়েছে।
২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম