দেশে যাঁরা এখন ক্ষমতায় যেতে খুবই আগ্রহী, তাঁদের মধ্যে কিছু মৌলবাদী শক্তি রয়েছে। কিন্তু মৌলবাদী শক্তির স্থান এ দেশে হবে না। এ দেশের সাধারণ মানুষ গ্রহণ করবে না। পাকিস্তান অনেক চেষ্টা করেছে এই দেশের ভেতরে মৌলিবাদী শক্তি স্থাপন করার জন্য। কিন্তু তারা তা পারেনি।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেতা আ ফ ম মাহবুবুল হকের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত আলোচনা সভায় দলের নেতারা এ কথা বলেন।

সাধারণ মানুষের দল বা সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি এই সরকারের মধ্যে নেই বলে মন্তব্য করেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশের সাধারণ মানুষ। এই সরকারের আমলে এক লাখ পোশাকশ্রমিকের চাকরি নেই। চা–দোকানগুলো বন্ধ। হোটেল–রেস্তোরাঁয় বেচাবিক্রি কমে গেছে। মানুষ কম খায়। খুবই কম খরচ করে। মানুষের আয়রোজগার কমে গেছে।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভারতের বিরুদ্ধে নয়—এ কথা উল্লেখ করে হারুনুর রশিদ বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত, যাঁরা চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতেন, তাঁরা এখন বিপাকে পড়েছেন। অথচ মন্ত্রী-আমলারা ও উচ্চবিত্তরা চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক কিংবা লন্ডনে যাচ্ছেন নির্দ্বিধায়। তিনি বলেন, ভারতে ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে সরকার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

হারুনুর রশিদ আরও বলেন, রাজনীতিতে সাধারণ মানুষ, গরিব মানুষ ও জনসাধারণের ভূমিকা থাকা উচিত। অথচ এখন কিছু মৌলবাদী শক্তি কেবল ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তিনি আরও বলেন, মৌলবাদী শক্তির এই দেশে কোনো স্থান হবে না—এ দেশের সাধারণ মানুষ তা কখনোই গ্রহণ করবে না। পাকিস্তান অতীতে বহুবার এই মৌলবাদী শক্তিকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সফল হয়নি।

আলোচনা সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, লেখকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে সচিবালয়ের ১৪ কর্মচারী

‘সচিবালয় ভাতা’র দাবিতে আন্দোলনের ঘটনায় গ্রেপ্তার সচিবালয়ের ১৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবির, সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহীন, গোলাম রাব্বানী ও নজরুল ইসলাম রয়েছেন।

আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাদিউল কবির জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, মোহাম্মদ শাহীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং নজরুল ইসলাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক।

অন্যরা হলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোমান গাজী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আবু বেলাল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. তায়েফুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক বিপুল রানা বিপ্লব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক মো. আলিমুজ্জামান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র রায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী ইসলামুল হক ও মো. মহসিন আলী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক ও সংযুক্ত পরিষদের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস সহায়ক নাসিরুল হক নাসি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, আজ তাঁদের আদালতে আনা হয়। শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম রেজাউল করিম তাঁদের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেছিলাম। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’

এর আগে গত বুধবার ‘সচিবালয় ভাতা’র দাবিতে সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে প্রায় সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন সরকারি কর্মচারীরা। পরে পুলিশের সহায়তায় রাত সোয়া আটটার দিকে তিনি বাসায় ফেরেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ