ভারতের দিল্লির লাল কেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ। তার নাম মোহাম্মদ উমর, পেশায় চিকিৎসক। সিসিটিভির ফুটেজ থেকে তার ছবি ও তদন্তে পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে দিল্লি পুলিশ। খবর ইন্ডিয়া টুডের। 

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে পুলিশ জানায়, লাল কেল্লার কাছে মেট্রো পার্কিং লটে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানো হুন্দাই আই-টোয়েন্টি মডেলের গাড়িটি ডা.

উমরের। সিসিটিভির দুটো ফুটেজে তার মুখ স্পষ্ট দেখা গেছে। গাড়িটিতে বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে প্রায় তিন ঘণ্টা সেটি লাল কেল্লার কাছের একটি পার্কিংয়ে থামিয়ে রাখেন।

আরো পড়ুন:

পশ্চিমবঙ্গে নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে হাঙর শিকার, প্রকাশ্যে বিক্রি

রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য ‘কূটনৈতিক সৌজন্যের পরিপন্থি’: ঢাকা

পুলিশের তথ্যমতে, ডা. উমর দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা। তিনি ফরিদাবাদের আল ফালাহ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বিস্ফোরণের কয়েকঘণ্টা আগেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘হোয়াইট কলার’ বা নিজস্ব পেশার আড়ালে পরিচালিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালায় জম্মু ও কাশ্মীর এবং হরিয়ানা পুলিশ। ওই অভিযানে ডা. উমরের ঘনিষ্ঠ দুই সহযোগী ডা. আদিল আহমদ রাঠার এবং ডা. মুজাম্মিল শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সন্দেহভাজন হামলাকারী উমর তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে ফরিদাবাদ থেকে পালিয়ে দিল্লিতে অবস্থান নেন। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি আতঙ্কিত হয়ে ওই বিস্ফোরণ ঘটান।

উমরকে এ কাজে আরও দুই সহযোগী সাহায্য করেছে বলে ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশের একটি সূত্র। তিনি জানান, বেশকিছুদিন ধরেই ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় পরিসরে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন উমর। সে উদ্দেশ্যেই তিনি নিজের গাড়িতে ডেটোনেটর বা বিস্ফোরক স্থাপন করেন। ডা. উমার ওই গাড়িটি কেনার আগে বেশ কয়েকবার সেটির মালিকানা পরিবর্তন হয় বলেও জানান তদন্তকারীরা।

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, তারা ডা. উমরের মা শাহিমা বানো এবং ভাই আশিক ও জহরুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবিতে দেখা গেছে, হুন্ডাই গাড়িটি লালকেল্লার পার্কিং লটে প্রবেশ করে বিকেল ৩টা ১৯ মিনিটে। সেটি ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে বেরিয়ে যায়। এরপর ধীর গতিতে সেটি কাছের মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের পাশে ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে যায় এবং মুহূর্তেই বিস্ফোরণ ঘটে।

দিলি পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণটির মাত্রা অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। এসময় আশপাশের অন্তত ২২টি গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা নিশ্চিত জানান, এনআইএ এবং এফএসএলসহ কেন্দ্রীয় এবং ফরেনসিক দল তদন্তে জড়িত। তিনি আরো বলেন, “বহু সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং একটি ব্যাপক তদন্ত চলছে।” 

লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট জানান, বিস্ফোরণের পর ১৫ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজনকে পৌঁছানোর পর মৃত ঘোষণা করা হয়, তিনজনের অবস্থা এখনও গুরুতর এবং একজন রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে, এ ঘটনায় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে হাই সিকিউরিটি অ্যালার্ট জারি করেছে। এ ছাড়া দিল্লির সব বাস, মেট্রো ও রেল স্টেশনে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা/ফিরোজ

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর প রক শ তদন ত

এছাড়াও পড়ুন:

যমুনার কোটিপতি সিবিএ নেতা এয়াকুব কারাগারে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় হওয়া মামলায় যমুনা অয়েল কোম্পানির লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুবকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ভোরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে হওয়া জুলাই আন্দোলনের একটি মামলায় এয়াকুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।

সরকারি তেল কোম্পানি যমুনা অয়েলের আলোচিত কর্মচারী মুহাম্মদ এয়াকুব। জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে যমুনা অয়েল কোম্পানিতে টাইপিস্ট হিসেবে চাকরি পান মোহাম্মদ এয়াকুব। তাঁর বাবা মো. আবুল কাশেম ছিলেন কোম্পানির অফিস সহায়ক। বাবার মৃত্যুর পর এ কোম্পানিতে চাকরি পান তিনি। এরপর ২০০৯ সালে কোম্পানির লেবার ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পান। এক বছর পর হন সাধারণ সম্পাদক। সেই থেকে তিনি এই পদে রয়েছেন। গত দেড় দশক এটি ছিল শ্রমিক লীগের সংগঠন। গত বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি এটিকে শ্রমিক দলের সংগঠন বানিয়েছেন।

যমুনার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, তিন বছর চুক্তিতে কাজ করার পর ১৯৯৭ সালে চাকরি স্থায়ী হওয়ার সময় এয়াকুবের মূল বেতন ছিল ৯৩৫ টাকা। এখন এটি বেড়ে হয়েছে ৩৭ হাজার ৫০৩ টাকা। সব মিলিয়ে বেতন এখন ৮৫ হাজার ১০০ টাকা। তবে এয়াকুব চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকা খুলশীতে চার হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে থাকেন। নামে-বেনামে তাঁর বিনিয়োগ আছে বিভিন্ন ব্যবসায়। চড়েন নিজের মাইক্রোবাসে।

আরও পড়ুন‘তেল চুরি’, ব্রাজিল বাড়ি ও তাঁদের আয়েশি জীবন১৮ অক্টোবর ২০২৫

যমুনা অয়েল সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ২১ লাখ টাকায় ৬ শতাংশ জমি কিনেছেন এয়াকুব। ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ এলাকায় নুরুন নাহার বেগমের সঙ্গে যৌথভাবে ৫০ লাখ টাকায় ৪ শতাংশ জমি কেনেন তাঁর স্ত্রী মরিয়ম বেগম।

দুদক সূত্র বলছে, এয়াকুবের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু সম্পদের তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। বোয়ালখালী উপজেলায় ১৪ শতাংশ, সাড়ে ১১ শতাংশ ও ১২ শতাংশের তিনটি জমি পাওয়া গেছে। আরও কিছু জমি আছে যৌথভাবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকায় খুলশীর দামপাড়ায় ৪ হাজার ২০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট আছে তাঁর। দলিলে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা দাম পাওয়া গেছে ফ্ল্যাটের।

সম্পর্কিত নিবন্ধ