বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ
Published: 10th, November 2025 GMT
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সড়ক অবরোধ হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে সেনবাগ উপজেলা সদরে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমানের অনুসারীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। তবে প্রায় ৩০ মিনিট পরই তাঁরা সড়ক ছেড়ে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘আজ বিকেল আনুমানিক সোয়া চারটার দিকে উপজেলা পরিষদ এলাকার দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলের মধ্যে দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। মিছিলে নেতা-কর্মীরা ৩১ দফা প্রচারের পাশাপাশি প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানান। মিছিলটি উপজেলা পরিষদ গেট, সেনবাগ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় এলাকা, প্রেসক্লাব মোড়, থানার মোড় হয়ে শহরের দক্ষিণ বাজার ঘুরে পুনরায় থানার মোড়ে এসে শেষ হয়। সেখানেই সড়ক অবরোধ শুরু হয়। এটিই উপজেলার প্রধান সড়ক।
প্রার্থী পরিবর্তনের দাবির এ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য জহিরুল ইসলাম ওরফে কামাল, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আনোয়ার মিয়াজি, উপজেলা যুব দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান হোসেন ওরফে সুমন, ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া ওরফে টিপু প্রমুখ।
এতে বক্তারা বলেন, সেনবাগে বিগত দিনে সব আন্দোলন–সংগ্রামে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন কাজী মফিজুর রহমান। তাঁকে মনোনয়ন না দিয়ে দেওয়া হয়েছে আরেকজনকে। সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী এলাকার দলীয় নেতা–কর্মীরা এই মনোনয়নের পরিবর্তন চান। তাই অবিলম্বে এই মনোনয়ন পরিবর্তন করতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উপজেলার স্থানীয় সূত্র জানায়, সেনবাগ বিএনপির রাজনীতিতে কাজী মফিজুর রহমান ও জয়নুল আবেদিনের (ফারুক) দ্বন্দ্ব প্রায় দুই দশক ধরে। কাজী মফিজুর রহমান উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। একবার তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। অন্যদিকে জয়নুল আবেদিন নোয়াখালী-২ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।
সমর্থকদের কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী মফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ১৬ বছর আওয়ামী লীগের হামলা-মামলার শিকার দলীয় নেতা–কর্মীদের পাশে ছিলেন। তাঁদের মামলা পরিচালনা, পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করেছেন। আর যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি নেতা–কর্মীদের পাশে ছিলেন না। তাই শুধু দলীয় নেতা–কর্মীরাই নন, সাধারণ মানুষও এই মনোনয়নের পরিবর্তন চান।
কর্মসূচি নিয়ে জানতে চেয়ে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবেদিনের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি নেতা কাজী মফিজুর রহমানের অনুসারীরা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তখন তিনি সেবারহাটে একটি সভায় ছিলেন। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ব এনপ র স নব গ উপজ ল সদস য
এছাড়াও পড়ুন:
সংবাদ প্রকাশের পর সিদ্ধিরগঞ্জের শীর্ষ মাদকের ডিলার কানা আক্তার গ্রেপ্তার
সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী ৭নং ওয়ার্ড কদমতলী এলাকার ঐতিহ্যবাহী সলিমখাঁর বাড়ি এখন মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। এই বাড়িকে কেন্দ্র করে মাদকের রমরমা কারবার চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন পরই, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে শীর্ষ মাদক ডিলার কানা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে। এসময় তার কাজ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ মাদক ডিলার কানা আক্তার ও তার বাহিনী ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটিকে মাদকের পাইকারি ও খুচরা বিক্রির আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিল। সন্ধ্যা নামলেই এখানে মাদকের প্রকাশ্য হাট বসতো এবং রাতভর চলতো মাদক কারবারিদের আনাগোনা।
কদমতলী এলাকাটি স্কুল-কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রকাশ্য মাদক বিক্রির কারণে ছাত্রছাত্রীরা মাদকের দিকে ঝুঁকছিল।
কানা আক্তারের বাহিনীর সদস্য হিসেবে জলিল, আনুর ছেলে আলামিন, চুন্নুর ছেলে সুমন, বাবু, ও নয়নসহ আরও কয়েকজন সরাসরি মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত ছিল বলে জানা যায়।
সাধারণ মানুষ সলিমখাঁর বাড়ির মালিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন, কারণ একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। স্থানীয়দের দাবি ছিল, অবিলম্বে মাদক ডিলার কানা আক্তার, তার সহযোগী ও আশ্রয়দাতা সলিমখাঁসহ সকল মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি শাস্তির আওতায় আনা হোক।
স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জনদাবির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালায় এবং শীর্ষ মাদক ডিলার কানা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয়রা এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।