প্রচণ্ড শব্দে একের পর এক গাড়ি বিস্ফোরণ। তাতে কেঁপে উঠল ভারতের রাজধানী দিল্লির বিশাল এলাকা। দিল্লির লাল কেল্লার কাছে মেট্রো পার্কিং লটে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

দিল্লি প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ২৪ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রাণহানির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন:

শরীয়তপুরে এনসিপি নেতার অফিসে ককটেল হামলা

মেক্সিকোতে সুপারমার্কেটে বিস্ফোরণ, নিহত ২৩

এত বড় গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দিল্লিতে। ভারতীয় প্রশাসন মনে করছে, কোনো উগ্রবাদী সংগঠন এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। এরই মধ্যে হাই সিকিউরিটি অ্যালার্ট জারি হয়েছে দিল্লিজুড়ে।

ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে দিল্লির লালবাগ কেল্লার কাছে বিরাট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছের একটি গাড়িতে প্রথমে বিস্ফোরণ ঘটে। পাশাপাশি থাকা গাড়িগুলোতেও আগুন লেগে যায় এবং সেগুলো বাজির মতো ফুটতে থাকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের আশেপাশের বাড়ি ও দোকানপাটের জানালার কাঁচ ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়েছে, তীব্রতায় ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত মানুষদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যেতে দেখা যায়।

এদিকে, এই বিস্ফোরণের ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই দিল্লির অদূরে ফরিদাবাদ থেকে ৩৬০ কিলোগ্রামের বেশি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করে পুলিশ। কাশ্মীরে ধরা পড়া এক চিকিৎসককে জেরা করে এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকের হদিস পাওয়া যায়।

ঢাকা/সুচরিতা/রাসেল/মেহেদী

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর আহত

এছাড়াও পড়ুন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, জড়িতদের গ্রেপ্তারে আল্টিমেটাম

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারী ও নির্দেশদাতাদের গ্রেপ্তারের সময় বেঁধে দিয়েছে।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ডাকসু, বিকেলে ‘সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পৃথক কর্মসূচি পালন করে।

সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ডাকসু। সমাবেশ থেকে ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার ভেতরে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নির্দেশদাতাদের গ্রেপ্তার করে বিচার কার্যকর করতে হবে।’

ডাকসুর এজিএস আরও বলেন, ‘যারা এ ধরনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত, তাদের যদি এই সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে না পারে, তাহলে এই সরকার জনতার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রমাণিত হবে।’

ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে হুঁশিয়ার করতে চাই—যদি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের শনাক্ত করা না হয় এবং এর পেছনের রাঘববোয়ালদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে বাংলাদেশে দাবানল জ্বলবে।’

এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দর ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এতে সংগঠনের আহ্বায়ক রিয়াদুস জুবাহ ওসমান বলেন, ‘এই হামলার সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করতে হবে। যারা এ ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী, সেই মাস্টারমাইন্ডদেরও দৃশ্যমান আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই এখন একমাত্র পথ।’

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছে। বিকেলে ছাত্রদল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শিববাড়ি ও জগন্নাথ হল এলাকা ঘুরে আবার জরুরি বিভাগের সামনে এসে শেষ হয়।

বিক্ষোভে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নেতা–কর্মীরা ‘হাদিকে গুলি কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘হাদির ওপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘ছাত্রদলের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

ছাত্রদলের নেতারা ওসমান হাদির ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সম্পর্কিত নিবন্ধ