চাঁদাবাজির বাণিজ্য কায়েমকারীদের সঙ্গে জোটের চেয়ে মরে যাওয়া ভালো: হাসনাত আবদুল্লাহ
Published: 10th, November 2025 GMT
জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে যাদের ঘাড়-কোমড় চাঁদাবাজির টাকায় এখন ভারী হয়ে আছে; মামলা-বাণিজ্যের প্রেসারে যাঁরা এলাকায় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছেন ইতিমধ্যে, যাদের ইমেজ সংকটে রয়েছে... এলাকায় এলাকায় রিকশাওয়ালাদের জিজ্ঞেস করেন, তাঁরা কী পরিমাণ বিরক্ত! ৫০ টাকা ইনকাম করে ৫ টাকা চাঁদা দিয়ে দিতে হয়। প্রতি পাড়া, জেলা, মহল্লায় চাঁদাবাজির রমরমা বাণিজ্য যারা কায়েম করেছে, তাদের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনের চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।’
আজ সোমবার (১০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টি আয়োজিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাইব্রিড নেতারা বিএনপিকে হাইজ্যাক করে নিয়ে গেছেন উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে অনেক ত্যাগী মানুষ আছে, যারা বাংলাদেশ পন্থায় বিশ্বাস করে। যারা এখনো বিক্রি হয়ে যায় নাই, চাঁদাবাজিতে জড়িত হয় নাই, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমরা তাদের আমাদের দলে নিয়ে নেব ইনশা আল্লাহ।’
বিএনপি মূল রাজনীতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে শত শত মাইল দূরে সরে গেছে বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সভায় তিনি বলেন, ‘যে মানুষ শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাস করে, এই মানুষের হাতে জীবনে চাঁদা উঠতে পারে না। শহীদ জিয়ার আদর্শে যে বিশ্বাস করে, এই দল কখনো দলীয় কোন্দলে গোলাগুলি করে হত্যা করতে পারে না। সে জন্য আমরা বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মী যাঁরা আছেন, তাঁদের আমরা আহ্বান জানাব।’
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, নির্বাচনের পূর্বে অবশ্যই জুলাই সনদের আদেশ বাস্তবায়ন হতে হবে। এটি কোনো অর্ধ–আদেশ বা অধ্যাদেশ, কোনো প্রজ্ঞাপন নয়। এটি হতে হবে আদেশ এবং এই আদেশ অবশ্যই ড.
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই এনসিপি সরকার গঠন করবে, জনাব নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বেই সরকার গঠন করবে। আপনে মনে করতে পারেন পাঁচজন মানুষ, দশজন মানুষ—সৎপথে পাঁচজন মানুষই আমাদের যথেষ্ট।’
এনসিপির চাঁদপুর জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মো. মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্, মো. মাহবুব আলম, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ তালুকদার, যুগ্ম সদস্যসচিব মো. মিরাজ মিয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দলটির চাঁদপুর জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
জাবির প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের তালা
জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে অনির্দিষ্টকালের জন্য তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নেতৃত্বে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়। এ সময় জাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষকদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিচার শেষ হলেও শিক্ষকদের বিচার এখনো চলমান এবং ধীরগতির। এর মধ্যে শুক্রবার ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ উসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। মিছিল শেষে তারা উপাচার্যের কাছে দ্রুত বিচারের দাবি জানান। কিন্তু, উপাচার্য কোনো সুনির্দিষ্ট সময় না জানালে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে জাকসুর সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের সব চেয়ে বড় দাবি ছিল জুলাইয়ের হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার। প্রশাসন একই প্রমাণের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিচার করতে পারলেও, কোনো এক অজানা কারণে সেই প্রমাণ দিয়ে শিক্ষকদের বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি।”
“প্রশাসন বারবার সময়ক্ষেপণ করছে। আজকে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রগামী যোদ্ধা ওসমান হাদি ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে, যা জুলাই অভ্যুত্থানকেই গুলি করার শামিল,”বলেন তিনি।
জাকসুর সমাজসেবা-বিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় অভ্যুত্থানপন্থি সরকার বা প্রশাসন দাবি করলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি।”
“আমরা এই প্রশাসনকে ধিক্কার জানাই। স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই—যে প্রশাসন রক্তের বিচার করতে পারে না, সেই প্রশাসনের সাথে আমাদের কোনো সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকতে পারে না।”
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “আজকে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ উসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে। আমরা মনে করি, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা এই আস্ফালনের সুযোগ পাচ্ছে। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো স্বৈরাচারের দোসররা বসে আছে। যার ফলে ছাত্রলীগ এসে ক্যাম্পাসে ব্যানার টানানোর সাহস পায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গোপন তথ্য তাদের কাছে পৌঁছে যায়।”
হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যত দিন পর্যন্ত হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার সম্পন্ন না হবে, তত দিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিচার সম্পন্ন করেছি। ৫৪ বছরের জঞ্জাল সরাতে প্রশাসন দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। ১৯ জন শিক্ষককে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে এবং ৯ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকালও (১১ ডিসেম্বর) আমরা সারা দিন এ নিয়ে কাজ করেছি। শিক্ষকদের বিচার প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে,” বলেন তিনি।
ঢাকা/হাবীব/জান্নাত