মন্দ ঋণ কেন এত ভয়ংকর

ঋণ তো ঋণই। ‘মন্দ ঋণ’ কী, আর ‘ভালো ঋণ’ই–বা কী। হ্যাঁ, ঋণ দুই প্রকার—‘ভালো ঋণ’ ও ‘মন্দ ঋণ’। মন্দ ঋণ ভয়ংকর; কারণ, এটি শুধু টাকার বোঝা নয়। এটি মানসিক, শারীরিক ও সামাজিক, সব দিকেই চাপ সৃষ্টি করে। সময়মতো ঋণ শোধ করতে না পারলে দুশ্চিন্তা, ভয় আর লজ্জা বাড়তে থাকে। এতে ঘুম, মনোযোগ, এমনকি স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়ে। অনেক সময় ঋণের চাপ থেকে সম্পর্ক নষ্ট হয়, বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের কাছ থেকেও তৈরি হয় দূরত্ব। কেউ কেউ এই মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন, হতাশায় ভোগেন, এমনকি আত্মহত্যার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেন। তাই মন্দ ঋণকে অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান খোঁজা জরুরি।

১.

সামগ্রিক চিত্রটি বোঝার চেষ্টা করুন

ঋণমুক্ত হতে হলে প্রথমেই নিজের আর্থিক অবস্থার পূর্ণ চিত্র বুঝে নিতে হবে। আপনি ঠিক কত টাকা ঋণ নিয়েছেন, কার কাছে কত দেনা আছে, কোনটিতে কত সুদ দিতে হচ্ছে, সব লিখে ফেলুন।

তারপর মাসিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব করুন, আয় থেকে খরচ বাদ দিলে হাতে কত টাকা থাকে তা দেখুন। সেই টাকায় অন্তত প্রতিটি ঋণের ন্যূনতম কিস্তি পরিশোধ করুন এবং সম্ভব হলে কিছুটা বাড়তি দিন, এতে মোট ঋণ দ্রুত কমবে।

ক্রেডিট কার্ড ঋণ থাকলে শুধু ন্যূনতম টাকা না দিয়ে যতটা পারেন বেশি দিন; কারণ, এতে সুদের হার সবচেয়ে বেশি।

একাধিক ঋণ থাকলে আগে সেই ঋণ শোধ করুন, যেটির সুদ সর্বাধিক। ব্যাংক, এনজিও, দোকান বা আত্মীয়, যেখান থেকেই ঋণ নিয়ে থাকুন না কেন, নিয়মিত কিস্তির রেকর্ড রাখুন। এতে বাড়তি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আসবে, ফলে ধীরে ধীরে ঋণের বোঝা হালকা হবে।

আরও পড়ুনবলিউডের সবচেয়ে ধনী নায়িকাদের চিনে নিন০৬ অক্টোবর ২০২৩২. ভালো ঋণ ও মন্দ ঋণ আলাদা করুন

সব ঋণ খারাপ নয়। যেমন ব্যবসা বাড়াতে বা বাড়ি কিনতে নেওয়া ঋণকে ‘ভালো ঋণ’ বলা যায়। কারণ, এটি ভবিষ্যতে আয় বা সম্পদ তৈরি করতে সাহায্য করে। কিন্তু ক্রেডিট কার্ড, ব্যক্তিগত ঋণ বা ভোক্তা ঋণ হলো ‘মন্দ ঋণ’। এসবের সুদ অনেক বেশি, আয় না বাড়িয়ে খরচই বাড়ায় কেবল। তাই মন্দ ঋণ দ্রুত পরিশোধ করাই প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অতিরিক্ত সঞ্চয় থাকলে সেটি ব্যবহার করে দ্রুত ঋণ পরিশোধ করুন

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: শ ধ কর

এছাড়াও পড়ুন:

গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ 

সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের প্রভাষক লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ছাত্রী। তাদের অভিযোগ, ক্লাসে অশালীন কথা বলা এবং ফেসবুকে আপত্তিকর বার্তা পাঠাতেন ওই শিক্ষক। 

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) উপাচার্যের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন ছাত্রীরা।

আরো পড়ুন:

অবরোধ তুলে নেওয়ার খবর, তবে সড়কে আছেন সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা

পাবিপ্রবির মানবিক অনুষদের ডিন হলেন হুমায়ূন কবীর

ভুক্তভোগী ছাত্রীদের পক্ষ থেকে করা অভিযোগ করা হয়েছে, প্রভাষক লিমন হোসেন বিভিন্নভাবে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করছেন। তিনি তার কক্ষে ছাত্রীদের ডেকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। অনেক সময় তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন বার্তা পাঠান। যেমন, তার স্ত্রী তাকে সুখী করতে পারেন না। তিনি যৌনতার ক্ষেত্রে অনেক একাকিত্বে ভোগেন। এছাড়াও অনেক আপত্তিকর কথা, যা প্রকাশ করার মতো নয়।

অপর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। সেখানে কয়েকটি অভিযোগ করা হয়। বলা হয়, শিক্ষক লিমন হোসেন ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের থানায় গিয়ে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এছাড়া ক্লাসে পড়ানোর ছলে তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয় সকলের সামনে উপস্থাপন করে তাদের হেয় করেন। 

অভিযোগ করা হয়, একজন শিক্ষক হিসেবে লিমন হোসেনের পড়ানোর পদ্ধতি কোনোভাবেই গবেষণা কেন্দ্রিক নয়।  তিনি গলাদ্ধকরণ পদ্ধতিতে বিশ্বাস করেন। যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধাকে বিনষ্ট করে। এছাড়া লিমন হোসেন স্বজনপ্রীতি নীতি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেন, যা পরবর্তীতে বড় অপরাধের জন্ম দেয়।

বিগত দিনে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্রের সঙ্গে, এমনকি সম্প্রতি বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও প্রভাষক লিমন হোসেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং প্রকাশ্যে তাদের মদদ দিয়েছেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। 

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ক্যাম্পাসের একটি মিলনায়তনে শিক্ষার্থীরা লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। সেখানে তারা দ্রুত লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান। 

একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘উনি (লিমন হোসেন) মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহী। যা আমাদের বিব্রত করে। এমনকি, নিজের ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম-বিচ্ছেদের গল্পও বারবার বলে বিব্রত করতে থাকেন। কে কার সঙ্গে মিশবে, না মিশবে— সে ব্যাপারেও তিনি বারবার হস্তক্ষেপ করেন।’’  

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক লিমন হোসেন বলেন, ‘‘অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। এ অভিযোগ ভিত্তিহীন।’’ 

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।’’  

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের প্রধান ড. ওয়াহিদা জামান লস্কর বলেন, ‘‘উপাচার্যের কাছে দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই।’’ 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

ঢাকা/সাব্বির/বকুল 

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • লিভারপুলের চ্যাম্পিয়নস লিগ দল থেকে বাদ সালাহ, আলিসন বললেন, ‘কৃতকর্মের দায় নিতে হবে’
  • গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ