আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার রাস্তায় মহড়া দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত ঢাকা–৪ আসনের প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন ও ঢাকা–১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব। এতে রাজধানীর শ্যামপুর, কদমতলী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা, শেরেবাংলা নগর, হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

আজ সোমবার বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এই মহড়া চলে। ফলে বিকেলের পর থেকেই এসব এলাকায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়।

বেলা তিনটার দিকে ঢাকা–৪ আসনের (শ্যামপুর, কদমতলী) প্রার্থী তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে শ্যামপুরের লাল মসজিদ এলাকা থেকে নির্বাচনী মহড়া শুরু হয়। মহড়াটি পোস্তগোলা, জুরাইন, দোলাইরপাড়, শনির আখড়া, জিয়া সরণি, জুরাইন চেয়ারম্যানবাড়ি হয়ে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পোস্তগোলায় এসে শেষ হয়। শ্যামপুর, কদমতলী থানা বিএনপির কয়েক হাজার নেতা–কর্মী এতে অংশ নেন। এ সময় তানভীর আহমেদ রবিন এই এলাকার ভোটারদের কাছে ধানের শীষের প্রতীকে ভোট চান। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচিত হলে মাদক নির্মূল, রাস্তাঘাট সংস্কার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় এসব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার আজাদ রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনী মিছিল হলে সড়কে কিছুটা প্রভাব তো পড়েই। তবে বিকেলের তুলনায় রাতে যান চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে।’

এ ছাড়া আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ঢাকা–১২ আসনের (তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলা নগর আংশিক, হাতিরঝিল) বিএনপির প্রার্থী সাইফুল আলমের নেতৃত্বে আরেকটি নির্বাচনী মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয়ে খামারবাড়ি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, মগবাজার হয়ে নির্বাচনী এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এতে এই এলাকার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফার্মগেট থেকে শাহবাগমুখী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

নেতা–কর্মীরা সাইফুল আলমের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলে ধানের শীষ প্রতীকসহ জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও সাইফুল আলমের ছবি প্রদর্শন করা হয়। ঢাকা–১২ আসনে সাইফুল আলম নীরবকে প্রার্থী ঘোষণা করায় দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

মিছিল উপলক্ষে দুপুরের পর থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে রাজধানী স্কুলের সামনে জড়ো হন তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপির নেতা–কর্মীরা। মিছিল শুরুর আগে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। সমাবেশে সাইফুল আলম নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এ সময় খামারবাড়ি হয়ে আসাদগেটের দিকের সড়কের এক পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

যানজটের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ট্রাফিক) মো.

রফিকুল ইসলাম সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল থেকে এই এলাকায় নির্বাচনী মিছিল ছিল। অনেক লোকের সমাগম হয়েছে, ফলে গাড়ি ধীরগতিতে চলছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়িও নষ্ট হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা যানজট নিরসনে কাজ করছেন।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: য নজট র ব এনপ র আসন র

এছাড়াও পড়ুন:

সংবাদ প্রকাশের পর সিদ্ধিরগঞ্জের শীর্ষ মাদকের ডিলার কানা আক্তার গ্রেপ্তার

সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী ৭নং ওয়ার্ড কদমতলী এলাকার ঐতিহ্যবাহী সলিমখাঁর বাড়ি এখন মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। এই বাড়িকে কেন্দ্র করে মাদকের রমরমা কারবার চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন পরই, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে শীর্ষ মাদক ডিলার কানা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে। এসময় তার কাজ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ মাদক ডিলার কানা আক্তার ও তার বাহিনী ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটিকে মাদকের পাইকারি ও খুচরা বিক্রির আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিল। সন্ধ্যা নামলেই এখানে মাদকের প্রকাশ্য হাট বসতো এবং রাতভর চলতো মাদক কারবারিদের আনাগোনা।

কদমতলী এলাকাটি স্কুল-কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রকাশ্য মাদক বিক্রির কারণে ছাত্রছাত্রীরা মাদকের দিকে ঝুঁকছিল।

কানা আক্তারের বাহিনীর সদস্য হিসেবে জলিল, আনুর ছেলে আলামিন, চুন্নুর ছেলে সুমন, বাবু, ও নয়নসহ আরও কয়েকজন সরাসরি মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত ছিল বলে জানা যায়।

সাধারণ মানুষ সলিমখাঁর বাড়ির মালিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন, কারণ একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। স্থানীয়দের দাবি ছিল, অবিলম্বে মাদক ডিলার কানা আক্তার, তার সহযোগী ও আশ্রয়দাতা সলিমখাঁসহ সকল মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি শাস্তির আওতায় আনা হোক।

স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জনদাবির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালায় এবং শীর্ষ মাদক ডিলার কানা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয়রা এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • সংবাদ প্রকাশের পর সিদ্ধিরগঞ্জের শীর্ষ মাদকের ডিলার কানা আক্তার গ্রেপ্তার