বিএনপি নেতার জামিন নামঞ্জুর, আইনজীবীর উপর হামলার চেষ্টা
Published: 14th, October 2025 GMT
নোয়াখালীতে চাঁদাবাজির মামলায় বিএনপি নেতা আবদুল কাদের জসিমের পুনরায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এতে আসামির অনুসারীরা আদালত চত্বরে বাদীপক্ষের আইনজীবী বোরহান উদ্দিনের উপর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেয় তারা।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) জেলা ও দায়রা জজ ড.
আরো পড়ুন:
ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী, বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার
জিসান হত্যা: আদালতে জবানবন্দি দিলেন ৩ আসামি
জামিন নামঞ্জুরের পর বাদীপক্ষের আইনজীবী গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সময় আসামিপক্ষের অনুসারীরা তার উপর চড়াও হয়। এ সময় তারা সংবাদ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘‘আসামির জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় তার অনুসারী সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর চড়াও হয়। এ সময় আমি গণমাধ্যমে কথা বলতে গেলে তারা সাংবাদিকদের কাজেও বাধা সৃষ্টি করে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘কবিরহাট উপজেলার সৌদি প্রবাসী ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন আসামির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। এরপর আসামিরা হাজির না হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে আসামিরা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন। গত ৫ অক্টোবর তারা নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে পিবিআইর তদন্ত সাপেক্ষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) আসামি পক্ষ পুনরায় জামিন আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে আসামির পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’’
আসামি আবদুল কাদের জসিম নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়নে সৌদি প্রবাসী মহিউদ্দিনের পরিবারের কাছে প্রভাব খাটিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন জসিম। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় মহিউদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। গত ১ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি নেতা জসিমের দুই সহযোগী প্রবাসীর বাড়ি থেকে চাঁদাবাজির ২০ হাজার টাকা নেয়। ওই টাকা গ্রহণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে রাখে ভুক্তভোগী পরিবার।
এরপর বিএনপি নেতা জসিম বাকি ৮০ হাজার টাকা তার সহযোগীদের দিতে প্রবাসী পরিবারকে মুঠোফোনে চাপ প্রয়োগ করেন। গত ৭ মার্চ বিএনপি নেতা জসিমের চাঁদাবাজির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা বিএনপি তাকে বাটাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহিত দেয়। পরে অবশ্য সেই অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় প্রবাসী বাদী হয়ে মামলা করেন।
ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই'র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ বলেন, ‘‘বিএনপি নেতা জসিম, তার সহযোগী সহিদ উল্যাহ সুজন এবং জাহাঙ্গীর আলম পরস্পর যোগসাজশে জোরপূর্বক টাকা গ্রহণ, প্রাণে হত্যার হুমকি প্রদান, চাঁদা দাবি এবং দাবিকৃত চাঁদা আদায়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।’’
ভুক্তভোগী প্রবাসীর ছোট ভাই অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘‘আসামি জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় কারাগারে বসে তার অনুসারী সন্ত্রাসীদের দিয়ে আমাদের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করছেন। এমনকি হত্যার হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছেন। এতে পরিবারের নারী ও শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’’
নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, ‘‘স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুরোধে বিএনপি নেতা জসিমের অব্যাহতি তুলে নেওয়া হয়। তাকে বিচারক একটি মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে শুনেছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।’’
ঢাকা/সুজন/বকুল
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ব এনপ র অন স র ব এনপ র আইনজ ব উদ দ ন পর ব র আস ম র র পর ব প রব স র উপর
এছাড়াও পড়ুন:
ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি লেভিটের ভাইয়ের সাবেক স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে আইস
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত এক নারীকে চলতি মাসের শুরুতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই যা আইস নামে পরিচিত) হেফাজতে রয়েছেন।
ব্রাজিলের নাগরিক ব্রুনা ক্যারোলিন ফেরেইরা হচ্ছেন ক্যারোলিন লেভিটের ভাই মাইকেল লেভিটের সাবেক স্ত্রী। তাঁদের একটি সন্তান রয়েছে। বর্তমানে ফেরেইরা ও মাইকেল লেভিট আলাদা রাজ্যে বসবাস করেন। ওই নারীকে ১২ নভেম্বর ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী বোস্টনের কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তাঁর আইনজীবী টড পোমারলিউ জানিয়েছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ফেরেইরার ১১ বছর বয়সী ছেলে জন্ম থেকেই তার বাবা মাইকেল লেভিটের (ক্যারোলিন লেভিটের ভাই) সঙ্গে নিউ হ্যাম্পশায়ারে থাকে। সূত্র আরও জানায়, ফেরেইরা ও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির মধ্যে বহু বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, ফেরেইরার ১৯৯৯ সালের জুনে দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভ্রমণ ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান। মুখপাত্র বলেন, ফেরেইরা ‘মারধরের এক ঘটনায় আগে একবার গ্রেপ্তার হয়েছেন’। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়নের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন।
তবে ফেরেইরার আইনজীবী পোমারলিউ বলেন, তিনি একসময় ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালসের (ডিএসিএ) সুবিধাভোগী ছিলেন। এই কর্মসূচির আওতায় শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে নির্বাসন থেকে সুরক্ষা দেয়।
পোমারলিউ বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে এই কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করেন। ওই সময় ফেরেইরা তাঁর ডিএসিএ স্ট্যাটাস নবায়ন করতে পারেননি। বর্তমানে তিনি মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য ‘আইনগত অভিবাসনপ্রক্রিয়া’র মধ্যে রয়েছেন।
পোমারলিউ সিএনএনকে বলেন, নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে তাঁর ছেলেকে আনতে যাওয়ার সময় ফেরেইরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেরেইরা ও মাইকেল লেভিটের একসময় বাগদান হয়েছিল। তাঁদের ১১ বছর বয়সী সন্তান তাঁদের দুজনের কাছেই থাকে।
সিএনএনের সহযোগী সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএমইউআরকে মাইকেল লেভিট বলেন, ফেরেইরা তাঁদের ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু গ্রেপ্তারের পর থেকে ছেলেটি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেনি। তিনি পরিস্থিতিটিকে কঠিন বলে বর্ণনা করে বলেন, তিনি কেবল তাঁর ছেলের জন্য সেরা বিকল্পটাই চান।
ফেরেইরার আইনজীবী জানান, গোফান্ডমি (GoFundMe) পেজের মাধ্যমে ফেরেইরার বোন গ্রাজিয়েলা ডস স্যান্তোস রদ্রিগেস আইনি ফি ও অন্যান্য খরচের তহবিল সংগ্রহ করছেন। আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত ১৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
ফেরেইরার বোন গোফান্ডমি ক্যাম্পেইনে লিখেছেন, ‘ব্রুনা ফেরেইরা ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে যখন শিশু ছিল, তখন আমাদের মা–বাবা আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছিলেন। তার পর থেকে তিনি এখানে স্থিতিশীল, সৎ জীবন গড়তে তার সাধ্যের সবকিছু করেছেন।’
স্যান্তোস রদ্রিগেস আরও উল্লেখ করেন, ফেরেইরা ডিএসিএর মাধ্যমে তাঁর আইনি স্ট্যাটাস বজায় রেখেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ডিএসিএ বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, তাঁর প্রশাসন এটি করতে সঠিক পদক্ষেপ নেয়নি। তবে বর্তমান প্রশাসনে ব্যাপকভাবে অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরুর পর ডিএসিএ সুবিধাভোগী অনেকেও গ্রেপ্তার হয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সহকারী সচিব ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ওবামা-যুগের কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীরা ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাসন থেকে সুরক্ষিত নন’। তিনি যোগ করেন, ডিএসিএ এ দেশে কোনো ধরনের আইনি মর্যাদা দেয় না।