সঠিক পরিকল্পনায় ফুসফুস ক্যানসারের চিকিৎসা হলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমিয়ে আনা সম্ভব
Published: 10th, November 2025 GMT
ফুসফুস ক্যানসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা হলো বায়োপসি। এতে আক্রান্ত টিস্যু সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করা হয়, যা ক্যানসারের ধরন ও প্রকৃতি নিশ্চিত করে। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এই ক্যানসারের চিকিৎসা হলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমিয়ে আনা সম্ভব।
‘বিশ্বমানের ক্যানসার-চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনায় কথাগুলো বলেন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের রেডিয়েশন অনকোলজির সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা.
এবারের আলোচনায় ফুসফুস ক্যানসার নির্ণয়, স্টেজিং, চিকিৎসাপদ্ধতি এবং রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, প্রতিরোধ ও ফলাফল তুলনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শ দেন চিকিৎসক। পর্বটি গত বুধবার (৫ নভেম্বর) সরাসরি প্রচারিত হয় প্রথম আলো ডটকম এবং প্রথম আলো, এসকেএফ অনকোলজি ও এসকেএফের ফেসবুক পেজে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থাপক জানান, বিশ্বব্যাপী ফুসফুস ক্যানসার সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসারগুলোর একটি। এ কারণে এ রোগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানামুখী গবেষণা ও চিকিৎসা উদ্ভাবনের প্রচেষ্টা। গ্লোবোকানের তথ্যানুযায়ী, প্রতিবছর বাংলাদেশে ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। তবে আশার বিষয় হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারলে ফুসফুস ক্যানসার রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশের বেশি।
এক্স-রে দিয়ে কি ফুসফুস ক্যানসার ধরা যায়? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. আরমান রেজা চৌধুরী বলেন, এক্স-রে সহজলভ্য এবং প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ে ব্যবহার করা হয়, তবে সব সময় ফুসফুস ক্যানসার ধরা যায় না। বিশেষ করে ছোট বা এমন স্থানে থাকা টিউমার যেটি এক্স-রে ইমেজে স্পষ্ট দেখা যায় না, তা মিস হতে পারে। নিশ্চিত ডায়াগনসিসের জন্য সিটি স্ক্যান বা পেট-সিটি স্ক্যান প্রয়োজন।
সিটি স্ক্যান ও পেট-সিটি স্ক্যানের পার্থক্য প্রসঙ্গে ডা. আরমান রেজা চৌধুরী বলেন, সিটি স্ক্যান টিউমারের আকার, অবস্থান ও আশপাশের কাঠামো দেখায়। পেট-সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে টিউমারের ফাংশনাল তথ্য বা কোষের সক্রিয়তা বোঝা যায়। এতে ক্যানসার কতটা সক্রিয় এবং শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়েছে কি না, তা জানা যায়। পেট-সিটি সবচেয়ে নির্ভুল, তবে ব্যয়বহুল।
ব্রঙ্কোস্কপি বা ফাইবার অপটিক টেস্ট কেন করা হয়? জবাবে ডা. আরমান রেজা চৌধুরী বলেন, এটি সেন্ট্রাল ফুসফুস ক্যানসারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শ্বাসনালির ভেতরে ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে টিউমার দেখা যায় এবং সরাসরি বায়োপসি নেওয়া সম্ভব। পেরিফেরাল বা দূরবর্তী টিউমারের জন্য সাধারণত সিটি-গাইডেড কোর বায়োপসি ব্যবহার করা হয়।
পাশাপাশি মলিকিউলার বা জিন টেস্টের গুরুত্ব নিয়ে ডা. আরমান রেজা চৌধুরী বলেন, বায়োপসির পর ক্যানসারের ধরন ও ড্রাইভার মিউটেশন বোঝার জন্য এটি প্রয়োজন। ‘পিডি-এল১’ বা অন্যান্য জিন টেস্ট অনুযায়ী নির্দিষ্ট টার্গেটেড থেরাপি দেওয়া যায়, যা চিকিৎসার কার্যকারিতা বাড়ায় এবং অপ্রয়োজনীয় কেমোথেরাপি এড়ায়। এখন এই টেস্টগুলো বাংলাদেশে সম্ভব।
এ পর্যায়ে টিস্যু বায়োপসি ও লিকুইড বায়োপসির পার্থক্য সম্পর্কে ডা. আরমান রেজা চৌধুরী বলেন, টিস্যু বায়োপসি মূল এবং নির্ণয়ের ভিত্তি। তবে কখনো রোগটি এমন স্থানে থাকে, যেখানে বায়োপসি ঝুঁকিপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে লিকুইড বায়োপসি রক্তের নমুনা থেকে ক্যানসারের তথ্য ও মলিকিউলার পরিবর্তন শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
ফুসফুস ক্যানসারের স্টেজিং কীভাবে নির্ধারণ করা হয়? উত্তরে ডা. আরমান রেজা চৌধুরী বলেন, প্রথমে বায়োপসি দিয়ে ক্যানসারের ধরন নিশ্চিত করা হয়। এরপর বুক, পেট, মস্তিষ্কের সিটি/এমআরআই ও পেট-সিটি স্ক্যান মিলিয়ে আমেরিকান জয়েন্ট কমিটি অন ক্যানসার (এজেসিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী স্টেজ নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি স্টেজ অনুযায়ী চিকিৎসাপদ্ধতি ভিন্ন।
উপস্থাপক জানতে চান কেমোথেরাপি কখন প্রয়োজন হয় এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী? উত্তরে ডা. আরমান রেজা চৌধুরী বলেন, ‘স্টেজ অনুযায়ী কেমোথেরাপি প্রি-অপারেটিভ বা পোস্ট-অপারেটিভ দেওয়া হয়। এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে খাওয়ার অরুচি, বমি ভাব, ক্লান্তি, চুল পড়া, রক্তের কণিকা কমা। আধুনিক ওষুধে এগুলো অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
কেমোথেরাপি ছাড়া ফুসফুস ক্যানসারের আর কী চিকিৎসা আছে? উত্তরে ডা. আরমান রেজা চৌধুরী বলেন, ‘সার্জারি, ইমিউনোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি। আধুনিক প্রযুক্তি যেমন এসবিআরটি দিয়ে আর্লি স্টেজেও সফল চিকিৎসা সম্ভব।’ সঙ্গে রেডিওথেরাপি শুরু করার আগে প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সিটি সিমুলেশন, প্ল্যানিং ও প্রেসক্রিপশন, মেডিকেল ফিজিসিস্ট প্ল্যান, অনকোলজিস্ট অনুমোদন ও প্রতিদিনের চিকিৎসা—এই প্রস্তুতিগুলো ক্রমান্বয়ে নিতে হবে। আর এ পুরো প্রক্রিয়া ৫-৭ দিনের মধ্যে শেষ হয়।
বাংলাদেশে ফুসফুস ক্যানসারের বর্তমান পরিস্থিতি, রোগনির্ণয়, ডায়াগনসিস ও চিকিৎসাসুবিধা বিষয়ে পরামর্শ দেন ডা. আরমান রেজা চৌধুরীউৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: আরম ন র জ র জন য অন য য়
এছাড়াও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ফতুল্লা থানা কৃষকদলের গণদোয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন তিন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ফতুল্লা থানা শাখার উদ্যোগে গণদোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে ফতুল্লার শিয়াচর তক্কার মাঠ এলাকায় ফতুল্লা থানা কৃষকদলের আহবায়ক জুয়েল আরমানের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব সুমন মাহমুদের সঞ্চালনায় ও ফতুল্লা থানা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ইব্রাহীমের সার্বিক তত্বাবধায়নে এই আয়োজন করা হয়।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মোল্লা, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক দলের সভাপতি শাহিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আলম মিয়া , ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার, থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল খালেক টিপু, ফতুল্লা থানা তাতীদলের আহবায়ক ইউনুস, ফতুল্লা থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক শাহ আলম, ফতুল্লা থানা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সাগর সিদ্দিকী, যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল ইসলাম রবিন ,যুগ্ম আহবায়ক সোহেল মোল্লা,ইদ্রিস আলী, বিল্লাল হোসেন আশিক,সাকিল গাজী, মারুফ আহম্মেদ,দিদার হোসেন,আমিনুল ইসলাম , শাহাদাত চৌধুরী, আহম্মেদ আলী রনি,সোহেল রানা,রেমন রাজিব, সজল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।