২৮০ আসন কমেছে সরকারি মেডিকেল কলেজে
Published: 10th, November 2025 GMT
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের আসন কমাচ্ছে। আজ সোমবার একটি স্মারকে সরকারি মেডিকেল কলেজে ২৮০টি আসন কমানোর কথা বলেছে মন্ত্রণালয়। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের আসন কমানোর স্মারকও খুব শিগগির প্রকাশ হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজ আছে ৩৭টি। এই কলেজগুলোতে আসন ছিল ৫ হাজার ৩৮০টি। এর মধ্যে ১৪টি মেডিকেল কলেজের মোট ৩৫৫টি আসন কমানো হয়েছে। অন্যদিকে তিনটি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন ৭৫টি বাড়িয়েছে। ফলে দুই মিলিয়ে আসন কমছে ২৮০টি।
দেশের আটটি পুরোনো সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন ছিল ২৫০টি করে। এদের প্রতিটি থেকে ২৫টি করে আসন কমানো হয়েছে। এই কলেজগুলো হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ।
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে আসন ছিল ২৩০টি, তা থেকে ৫টি কমানো হয়েছে। হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে আসন ছিল ১০০টি, কমিয়ে ৫০টি করা হয়েছে।
নেত্রকোনা, নওগাঁ, মাগুরা ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে আসন ছিল ৭৫টি করে। প্রতিটি থেকে ২৫টি করে আসন কমানো হয়েছে।
গাজীপুরের তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে আসন ২৫টি করে বাড়ানো হয়েছে। ২৩টি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত আছে।
দেশে মোট মেডিকেল কলেজ ১১০টি। সরকারি ৩৭টি বাদে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ৬৭টি। এ ছাড়া একটি আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ও পাঁচটি বেসরকারি আর্মি মেডিকেল কলেজ আছে।
গতবার মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএসে ভর্তিতে প্রতিটি আসনের জন্য প্রার্থী ছিলেন ২৫ জন।
আরও পড়ুনমেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, নম্বর কাটাসহ যে যে পরিবর্তন৩০ অক্টোবর ২০২৫.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ম ড ক ল কল জ র আসন ছ ল ব সরক র
এছাড়াও পড়ুন:
হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে এই মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন, ট্রান্সপোর্ট, চৌরঙ্গী হয়ে উপাচার্য বাসভবন পর্যন্ত যায়। এ সময় জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষকদের দ্রুততম সময়ে বিচারের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মিছিলে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী কাজল মিয়া।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘হাদি ভাইকে গুলি করে, ইন্টেরিম কি করে’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘হাদি ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, সন্ত্রাসীদের বিচার চাই’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “আজ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশে গুলি করা হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং প্রশাসনের গড়িমসির ফলেই এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা হাদি ভাইয়ের সুস্থতা কামনা করি ও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দ্রুততম সময়ে অপরাধীকে শনাক্ত করে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।”
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উপস্থিতিতেই জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝোলানোর ঘোষণা দেন তিনি।
জাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়; অভ্যুত্থানপন্থী সরকার বা প্রশাসন দাবি করলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। আমরা এই প্রশাসনকে ধিক্কার জানাই। স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, যে প্রশাসন রক্তের বিচার করতে পারে না সেই প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কোনো সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকতে পারে না।”
তিনি আরো বলেন, “আজ হাদি ভাইয়ের ওপর গুলি হয়েছে, কাল আমার ওপর হবে, পরশু আপনার ওপর হবে। প্রশাসন চেয়ারে বসে তামাশা দেখবে, তা হতে পারে না। এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও জবাবদিহিতার অভাবের ফল।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিচার যেমন করেছি, শিক্ষকদেরও করব। ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধের ঘটনা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়, আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
ঢাকা/হাবীব/জান্নাত