কৃষকদের ব্যবসায়ী সাজিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে আজ মঙ্গলবার মামলাগুলো করা হয়।

দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, চার কৃষককে ব্যবসায়ী সাজিয়ে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পারিবারিক মালিকানাধীন ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ঋণ অনুমোদন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলাগুলো করা হয়। সই ছাড়া ভুয়া মুঠোফোন নম্বর দিয়ে ব্যাংক হিসাবগুলো খোলা হয়।

চার মামলায় সাইফুজ্জামান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন তাঁর স্ত্রী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমিলা জামান, ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী, আসিফুজ্জামান চৌধুরী, বোন রোকসানা জামান চৌধুরী এবং ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ।

একটি মামলার অভিযোগে বলা হয়, ইউনুস নামের এক কৃষককে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ইউনাইটেড ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স গ্রহণ করা হয়। পরে সেটি দেখিয়ে সই ছাড়া ও ভুয়া মুঠোফোন নম্বর দিয়ে একটি হিসাব খুলে ৯ কোটি ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ঋণ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। এ মামলায় ইউসিবিএলের সাবেক পরিচালক বশির আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলায় ভূমিমন্ত্রীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী, আসিফুজ্জামান চৌধুরীসহ ব্যাংক কর্মকর্তা ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নুরুল বশর নামের এক কৃষককে বশর ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ইলেকট্রনিক পণ্যের আমদানিকারক সাজিয়ে আট কোটি টাকা ঋণ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী রুকমিলা জামান, ভাই আনিসুজ্জামান, আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামানসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ফরিদুল আলম নামের আরেক কৃষককে ইউনিক এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ইলেকট্রনিক, কসমেটিকস ও খাদ্যপণ্যের আমদানিকারক সাজিয়ে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তাঁর স্ত্রী রুকমিলা জামান, ভাই আনিসুজ্জামান রনি, আসিফুজ্জামানসহ ১৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

আইয়ুব নামে এক কৃষককে মোহাম্মদীয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ইলেকট্রনিক ও খাদ্যদ্রব্যের আমদানিকারক সাজিয়ে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন এবং আত্মসাতের অভিযোগে করা হয় আরও এক মামলা। ওই মামলায় আনিসুজ্জামান, রোকসানা জামান, আসিফুজ্জামানসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত বছরের ৭ অক্টোবর আদালত জাবেদ ও তাঁর স্ত্রীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। এরপরও তাঁরা বিদেশে পালিয়ে যান। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জাবেদের ৯টি দেশে বিপুল সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে ২২৮টি, যুক্তরাষ্ট্রে ১০টি বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ায় একাধিক সম্পদ রয়েছে।

দুদকের কর্মকর্তাদের মতে, দেশের ভেতর থেকে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছেন জাবেদ ও তাঁর পরিবার। এভাবে বহু দেশে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তাঁরা।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: স ব ক ভ ম মন ত র আস ফ জ জ ম ন ন ম র একট ন ম র এক ক ক ষকক

এছাড়াও পড়ুন:

অনলাইনের যেকোনো তথ্য যাচাই করতে হবে

ভুয়া বা ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের এই সময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো—প্রশ্ন করার অভ্যাস ও তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা। পাশাপাশি অনলাইনে পাওয়া যেকোনো কনটেন্ট (আধেয়) শুরুতেই সন্দেহের চোখে দেখতে হবে; প্রথম দেখাতেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যাবে না।

অনলাইনে দ্রুত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কৌশল শেখাতে প্রথম আলো বন্ধুসভার বিশেষ কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা। আজ শুক্রবার ‘কোয়েশ্চেন এভরিথিং ইউ সি অনলাইন: ট্রেইনিং অন কুইক ফ্যাক্ট-চেকিং অ্যান্ড ভেরিফিকেশন (অনলাইনে যা দেখবেন, প্রশ্ন করবেন: তথ্য যাচাই পদ্ধতিবিষয়ক প্রশিক্ষণ)’ শিরোনামে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ও ডিসমিসল্যাবের সহযোগিতায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে কর্মশালা চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মল্লিকের সঞ্চালনায় প্রথম সেশনে ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বিষয়ে আলোচনা করেন ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কোনো ভুল তথ্যকে যদি সঙ্গে সঙ্গে সঠিক না করেন তাহলে এই তথ্যকে একসময় মানুষ সত্যি মনে করবে। এখন সেই ব্যবসা তত বড়, যে ব্যবসায় তথ্য বেশি। যাদের কাছে তথ্য বেশি তারা এগিয়ে যায়। যাচাই করার সক্ষমতা বর্তমানে অনেক বেশি জরুরি হয়ে গেছে। যেকোনো তথ্যে দেখবেন সূত্র উল্লেখ আছে কি না। সূত্র না থাকলে তথ্য সঠিক মনে করা যাবে না।’

স্বাগত বক্তব্যে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রশ্ন করতে হবে। তথ্য সত্য কি না, যাচাই করতে হবে। জগৎটা এখন অনেক বেশি তথ্যের।’

তথ্যের সত্যতা যাচাই, ছবি যাচাই এবং অনলাইন আর্কাইভিং বিষয়ে আলোচনা করেন ডিসমিসল্যাবের গবেষণা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম। কীভাবে মুহূর্তেই নির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য, ছবি, ভিডিও, তথ্য প্রকাশের তারিখ ও ডকুমেন্ট ফাইল খুঁজে বের করতে হবে; মোবাইলে রিভার্স ইমেজ সার্চ, ছবির মেটা ডেটা যাচাই কীভাবে করা যাবে এবং এ–সংক্রান্ত বিভিন্ন এআই টুলের ব্যবহার বিষয়ে হাতে–কলমে সেশন পরিচালনা করেন তিনি।

আর এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ছবি ও ভিডিও কীভাবে যাচাই করা যাবে; কোনটা এআই ভিডিও, কোনটা বাস্তব—কীভাবে শনাক্ত করা যাবে এবং এআই চিহিৃতকরণ কয়েকটি টুলের ব্যবহার দেখান ডিসমিসল্যাবের আরেকজন গবেষণা কর্মকর্তা আহমেদ ইয়াসীর আবরার।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের উপদেষ্টা উত্তম রায় বলেন, ‘অনলাইনে কোনো কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই রিঅ্যাক্ট করা যাবে না। যাচাই করতে হবে, সময় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।’

ডিসমিসল্যাব ও দেশি-ফুডসকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, ‘আমাদের একটি বড় সমস্যা হলো জেনে না জেনে অপতথ্যের প্রচার করা। অনেকের মধ্যেই ডিজিটাল শিক্ষা খুবই কম। এর কারণ হলো প্রযুক্তি অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। কোনটা এআই, কোনটা সত্য—তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। তাই অনলাইনে যা কিছুই দেখবেন, সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করবেন।’

দেশি-ফুডসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজের রহমান ও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা রুপা খাতুন। বন্ধুসভার সঙ্গে থাকতে পেরে প্রথম আলো ও বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানান মাহফুজের রহমান। অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।

দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পারসোনাল ব্র্যান্ডিং’, ‘আইইএলটিএস ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা’, ‘গ্রাফিক ডিজাইন’সহ এ নিয়ে চারটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হলো। পুরো আয়োজনের সমন্বয় করেছেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের প্রশিক্ষণ সম্পাদক সামছুদ্দোহা সাফায়েত। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ