ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর গুজবটি যেভাবে ছড়িয়েছিল
Published: 11th, November 2025 GMT
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন বলিউড তারকা ধর্মেন্দ্র। আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর আসে ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কবি–চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারসহ বিভিন্নজন শোকবার্তাও দেন। এসবের ভিত্তিতে অন্য দেশগুলোর সংবাদমাধ্যমেও খবর আসে। ৮৯ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবরে যখন গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সয়লাব, তখন তাঁর মেয়ে এষা দেওল জানান, তাঁর বাবা এখনো বেঁচে আছেন।
ভারতের বিভিন্ন সংবাদপত্রের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই খবরটি প্রথম আসে সোমবার দিবাগত রাত তিনটা দশ মিনিটে। ইন্ডিয়া টুডে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে পোস্ট দেয়—‘বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র মঙ্গলবার মারা গেছেন বলে তাঁর টিম নিশ্চিত করেছে।’
এখানে ইন্ডিয়া টুডে সূত্র হিসেবে ‘ধর্মেন্দ্রর টিম’কে ব্যবহার করলেও কারও নাম উল্লেখ করেনি।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘আজ তক’ মিডিয়া তাদের প্ল্যাটফর্মে একই সংবাদ প্রকাশ করে। তবে সেখানে কোনো সূত্র উল্লেখ ছিল না—সংবাদের শুরুতেই লেখা হয়, ‘বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আজ মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে মারা গেছেন।’
এই দুটি সংবাদই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে। এরপর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য ইকোনমিক টাইমস, দ্য ফাইন্যান্স টুডে, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ডেইলি জাগরণ, দ্য ওয়্যার, জি নিউজ, টাইমস নাও, হিন্দুস্তান টাইমস, ইটিভি ভারত, এবিপি লাইভ ইংলিশ, নিউজ ১৮, ইন্ডিয়া.
ভারতীয় সংবাদপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে বর্ষীয়ান এই অভিনেতার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়।
গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরপরই ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে ‘রিপ ধর্মেন্দ্র’ হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করতে শুরু করে। ভক্তদের পাশাপাশি সাংবাদিক ও সাধারণ ব্যবহারকারীরাও শোকবার্তা দিতে থাকেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গুজবটি পুরো উপমহাদেশে ভাইরাল হয়ে যায়।
তার মধ্যে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও তাঁর অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে শোকবার্তা দেন। বিজেপি থেকে একসময় লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। সে কথা স্মরণ করে রাজনাথ সিং লেখেন, ‘বর্ষীয়ান অভিনেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ধর্মেন্দ্র জির মৃত্যুসংবাদে গভীরভাবে শোকাহত। তিনি ছিলেন এক বহুমুখী শিল্পী, যিনি ভারতীয় সিনেমাকে সমৃদ্ধ করেছেন।’
ধর্মেন্দ্রর সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা ‘শোলে’–এর চিত্রনাট্যকারদের একজন জাবেদ আখতারও এক্সে লেখেন, ‘ধরমজির সঙ্গে ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক যুগের অবসান ঘটল। তিনি ছিলেন শক্তি ও কোমলতার নিখুঁত সমন্বয়। তাঁকে চিরকাল মিস করব।’
এই দুই হাইপ্রোফাইল পোস্ট মৃত্যুর খবরটি সবার কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতজুড়ে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যু ‘অফিশিয়াল সংবাদ’ হিসেবে প্রচারিত হতে থাকে।
এরপর সকালে মুখ খোলেন ধর্মেন্দ্রর মেয়ে অভিনেত্রী এশা দেওল। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন—‘মিডিয়া অতিরিক্ত উৎসাহী হয়ে ভুল সংবাদ ছড়াচ্ছে। আমার বাবার অবস্থা স্থিতিশীল, উন্নতির দিকে।’
ধর্মেন্দ্রর স্ত্রী অভিনেত্রী হেমা মালিনীও ক্ষোভ প্রকাশ করে এক্সে লেখেন, ‘দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম কীভাবে এমন মিথ্যা খবর প্রচার করতে পারে, যখন তিনি চিকিৎসার সাড়া দিচ্ছেন? এটি সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অসম্মানজনক।’
ধর্মেন্দ্রর ছেলে সানি দেওলের টিম একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ‘মি. ধর্মেন্দ্র স্থিতিশীল আছেন এবং তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অনুগ্রহ করে গুজবে কান দেবেন না এবং পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান করুন।’
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর গুজবের এই ঘটনায় দেখা যায়, ভারতের গণমাধ্যমগুলো যাচাই একটি ‘ভাইরাল সূত্র’ অনুসরণ করেছে। কোনো সংবাদই প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক বা অফিসিয়াল প্রতিনিধির মন্তব্য সংগ্রহ করেনি।
এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর সম্পর্কিত প্রতিবেদন সংশোধন করেছে।
ধর্মেন্দ্র এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে। শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার কারণে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। শাহরুখ খান, সালমান খান, আমিশা প্যাটেলসহ বলিউডের বহু তারকা হাসপাতালে গিয়েছিলেন তাকে দেখতে।
এর আগে গতকাল সোমবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়ায় যে ধর্মেন্দ্রকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। পরে তাও ভুয়া বলে জানানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: র ম ত য র খবর প রক শ ইন ড য় ট ইমস
এছাড়াও পড়ুন:
সংস্কারের উদ্দেশ্য ভালো না হলে তার ভবিষ্যৎ নেই: রেহমান সোবহান
অতীত অভিজ্ঞতার ওপর দৃষ্টিপাত করে রাষ্ট্র সংস্কারের পরিকল্পনার চেয়ে তা বাস্তবায়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান। আবার সংস্কারের উদ্দেশ্য যদি ভালো না হয়, তাহলে তার ভবিষ্যৎও থাকবে না বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং তা পূরণের উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে আজ রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে সংস্কার নিয়ে কথা বলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’ উদ্বোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। অনুষ্ঠানে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা চলে। এরপর সমাপনী বক্তব্য দেন রেহমান সোবহান।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধানসহ নানা ক্ষেত্রে সংস্কারের ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে জুলাই সনদ। সংবিধানসহ রাষ্ট্র কাঠামোর মৌলিক সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও হবে।
বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য রেহমান সোবহান বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে সবকিছুই শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে। বাস্তবে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা হলো বাস্তবায়নের ব্যর্থতার ইতিহাস। তিনি জোর দিয়েই বলেন, যত সংস্কার প্রস্তাবই টেবিলে রাখা হোক না কেন, যদি উদ্দেশ্য ভালো না হয়, তাহলে তার ভবিষ্যৎ প্রশ্নবিদ্ধই হবে।
এ সময় সামরিক শাসন থেকে গণতন্ত্রে ফেরার পর্বে ১৯৯০ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে নিজের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশন (ইসি), এমনকি কোনো ক্ষেত্রেই কোনো সংস্কার করিনি। আমরা তখন অস্ত্রধারী লোকদের কাছ থেকে অস্ত্রও সংগ্রহ করতে পারিনি। সবকিছুই নির্ভর করেছিল প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সৎ উদ্দেশ্যের ওপর।’
উদ্বোধন হয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’। এই ওয়েবসাইটে সংস্কারের খাতভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য, সংস্কারবিষয়ক নথি ও দলিল, কোন সংস্কারের কতটুকু বাস্তবায়ন হলো, সংস্কারের অগ্রগতি পর্যালোচনা—এসব তথ্য পাওয়া যাবে।সেই অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরাও স্বাধীনভাবে নির্বাচিত ছিলেন না জানিয়ে রেহমান সোবহান বলেন, তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট দ্বারা মনোনীত ছিলেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার সততা ও একাগ্রতা ছিল বলেই সম্ভবত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন করা গিয়েছিল; যেখানে বন্দী থাকা সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদও তাঁর দল নিয়ে নির্বাচন করতে পেরেছিলেন এবং পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিতও হয়েছিলেন।
ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আজ রোববার নাগরিক প্ল্যাটফর্মের রিফর্ম ট্র্যাকার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন