লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে কালোমুখ হনুমানের দল
Published: 10th, July 2025 GMT
খুলনার ডুমুরিয়ায় হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে ১৫ সদস্যের কালোমুখ হনুমানের একটি দল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হনুমানের দলটিকে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজনের ধারণা, টানা বর্ষণের কারণে খাবার সংকটে যশোরের কেশবপুর থেকে হনুমানগুলো এই এলাকায় চলে আসে।
উপজেলার খর্নিয়া বাজারের মহাসড়কের পাশে একটি টিনের চালায় প্রথম দেখা যায় হনুমানের দলটিকে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি শাবকও রয়েছে। তবে বাজারের লোকজন জানিয়েছেন, মানুষ কোনো খাবার দিলে সেগুলো নিচ্ছে না হনুমানেরা। উল্টো তারা খাবারের দোকানে হানা দিচ্ছে। বাগানে ঢুকে পেয়ারা, কলা, আমড়া, বেগুনসহ অন্যান্য সবজিক্ষেত নষ্ট করছে।
খর্নিয়ার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকাল থেকে হনুমানের দলটি খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে শোভনা ও শৈলগাতিয়া সড়ক, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। মাঝেমধ্যেই এগুলো দোকানপাট থেকে রুটি, কলা ও বিস্কুট ছিনিয়ে নিচ্ছে।
খর্নিয়া বাজারের চা দোকানি জাহাতাব হোসেন জানান, প্রাণীগুলোকে খুবই ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছে। তবে মানুষের দেওয়া খাবার হনুমানগুলো খাচ্ছে না। বরং মুখ নিচে নামিয়ে নিচ্ছে। এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে খাদ্য সংকটে পড়েই হনুমানগুলো এ এলাকায় আসতে পারে।
একই রকম মন্তব্য করেন ডুমুরিয়ার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন বন্ধ্যাত্বে ভুগছেন: ডব্লিউএইচও
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রথমবারের মতো বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ, সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা উন্নত করার জন্য গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। ডব্লিউএইচও তাদের প্রতিবেদনটি শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) প্রকাশ করেছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফিপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মালয় টাইমস।
আরো পড়ুন:
পুতুলকে নিয়ে ভাবমূর্তি সংকটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
কোভিড-১৯ এর টিকার নতুন সুপারিশমালা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
ডব্লিউএইচও’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন তাদের জীবদ্দশায় বন্ধ্যাত্বের সম্মুখীন হয়ে থাকে। এই অবস্থা সব অঞ্চল এবং আয়ের স্তরের ব্যক্তি এবং দম্পতিদের প্রভাবিত করে। কিন্তু তারপরও নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই কম।
ডব্লিউএইচও’র যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান প্যাসকেল অ্যালোটি সাংবাদিকদের বলেন, বন্ধ্যাত্বের বিষয়টি ‘অনেক দিন ধরে’ অবহেলিত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নতুন গাইডলাইনটি একীভূত ও প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করবে যাতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিরাপদ, কার্যকর ও সকলের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য হয়।
ডব্লিউএইচও-এর মতে, বন্ধ্যাত্ব হলো পুরুষ ও নারী প্রজনন ব্যবস্থার একটি অবস্থা, যা ১২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত অরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরে গর্ভধারণ করতে অক্ষমতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এই পরিস্থিতি বড় ধরনের দুর্দশা, কলঙ্ক ও আর্থিক সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ডব্লিউএইচও বলেছে, বেশ কয়েকটি দেশে বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষা ও চিকিৎসার বেশিরভাগ খরচ রোগীদের বহন করতে হয়, যা প্রায়শই ‘বিপর্যয়কর আর্থিক ব্যয়’ ডেকে আনে। কিছু পরিস্থিতিতে, এমনকি ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) এর একটি রাউন্ডের খরচও গড় বার্ষিক পরিবারের আয়ের দ্বিগুণ হতে পারে।
বন্ধ্যাত্বের ওপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শুক্রবার প্রকাশিত প্রথম গাইডলাইনে ৪০টি সুপারিশ রয়েছে। যা বন্ধ্যাত্বের সাধারণ কারণ খুঁজে বের করার জন্য নির্দিষ্ট রোগ বা অবস্থা জানার জন্য একটি যত্ন, নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য প্রমাণ-ভিত্তিক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কে বয়সের ব্যবধান, যৌন সংক্রমণ সম্পর্কিত বিষয়ে অসচেতনতা, দ্বন্দ্ব, দুর্দশা এবং আর্থিক কষ্টের কারণ বন্ধ্যাত্ব বাড়ছে বলে প্রতিবেদেন উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের সেবা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে আরো বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাদ্য, শারীরিক কার্যকলাপ এবং তামাক ব্যবহার বন্ধের মতো জীবনধারার ব্যবস্থাগুলো সুপারিশ করা হয়েছে।
ঢাকা/ফিরোজ