নির্বাচন নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে: হাওলাদার
Published: 10th, November 2025 GMT
জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখন দেশের রাজনীতিতে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর চরম অনৈক্যের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশানের হাওলাদার টাওয়ারে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় রুহুল আমিন হাওলাদার এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না, আগামী ফেব্রুয়ারিতে আদৌ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না। সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে এই সংশয় ও অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে।
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক। কোনো কারণে যদি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হয়, তাহলে নির্বাচনের পর দেশ আরও গভীর সংকটে নিমজ্জিত হবে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব আরও বলেন, ‘অতীতের রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে আজ সর্বক্ষেত্রে অনৈক্য বিরাজমান। আমাদের ওই ধরনের আচরণ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে; না হলে বিশ্বদরবারে জাতি হিসেবে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব না।’
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, রাজনীতিতে মতের পার্থক্য থাকতে পারে, অবস্থানগত দূরত্বও থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিহিংসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক চর্চায় ও নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফকরুল আহসান শাহজাদা, ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হাওলাদার, নাসির উদ্দিন সরকার, কেন্দ্রীয় নেতা সিরাজুল আরেফিন, আব্দুস সাত্তার, আলমগীর হোসেন, জিয়াউর রহমান ও আল মামুন।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: র জন ত
এছাড়াও পড়ুন:
ব্রাকসু কমিশনারের প্রতি ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী সংসদের অনাস্থা
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ব্রাকসু) কমিশনারের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী সংসদ’। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরের দক্ষিণ পাশে সংবাদ সম্মেলনে এই অনাস্থা জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের বহুল প্রত্যাশিত ব্রাকসুর গঠনতন্ত্র অনুমোদন হলেও শুরু থেকে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের চরম অযোগ্যতা ও ব্যর্থতার কারণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ আজ হাস্যকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শীতকালীন ছুটির দাবি পাশ কাটিয়ে একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গঠনতন্ত্র ও ভোটার তালিকায় অসংখ্য ভুলত্রুটি নিয়ে তড়িঘড়ি করে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
আরো বলা হয়, ব্যর্থতার দায় নিয়ে দুইবার পদত্যাগ ও একবার নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করার পর তারা কথা দিয়েছিলেন ভোটার তালিকায় বিদ্যমান ত্রুটিগুলো সংশোধন করে পরবর্তী কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। কিন্তু, অত্যন্ত দুঃখের বিষয়; তারা ত্রুটিগুলো নিয়ে আবারো অধিকাংশ শিক্ষার্থীর শীতকালীন ছুটির বিষয়টিকে উপেক্ষা করে একটি পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে একটি প্রহসনমূলক নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিতর্কিত প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন।
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী সংসদের পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি উল্লেখ করে বলা হয়, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শীতকালীন ছুটি বহাল রেখে যৌক্তিক সময়ে সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ অংশগ্রহণমূলক ব্রাকসু নির্বাচন হোক, ভোটার তালিকায় বিদ্যমান ত্রুটিগুলো সংশোধন করা হোক, প্রার্থীদের অবশ্যই ডোপ টেস্ট ও হল ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে, নির্বাচনী আচরণবিধি দৃঢ়ভাবে কার্যকর করতে হবে, মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমরা অনাস্থা প্রকাশ করছি কারণ এই কমিশনের সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেওয়ার সক্ষমতা নেই।
ঢাকা/সাজ্জাদ/রাজীব