১ ফেব্রুয়ারি থেকে একুশে বইমেলা করার দাবি বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের
Published: 11th, November 2025 GMT
পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকেই অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের সাংস্কৃতিক কর্মীরা। একই সঙ্গে এবারের মেলায় স্টল ভাড়া কমানোর দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে লেখক, পাঠক, প্রকাশক, শিল্পী–সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখান বক্তারা এসব দাবি জানান।
কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান বলেন, সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ সরকারের পক্ষ থেকে বইমেলা স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্ত মানে না। তারা (সরকার) জানিয়েছে সুরক্ষা দেওয়ার মতো ফোর্স তাদের নেই। সরকারের লাখ লাখ লোক আছে প্রতিরক্ষা দেওয়ার মতো। সেখানে মেলার নিরাপত্তার জন্য কেন ৪ থেকে ৫ হাজার দেওয়া যাবে না।
প্রকাশক ও লেখক সাঈদ বারী বলেন, এখন সংস্কৃতির নামে ড্রোন শো হয়, কিন্তু বইমেলা পড়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। বাংলা একাডেমি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কিন্তু তাদের দেখলে মনে হয় সবটাই মন্ত্রণালয় চালায়।
একাডেমি ডিসেম্বরে মেলা করতে চায় বই বাণিজ্য করার জন্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেলা ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই হতে হবে। একই সঙ্গে মেলার স্টল ভাড়া কমাতে হবে।
উদীচীর একাংশের সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার বলেন, মনে হচ্ছে বইমেলা না হলে সরকার বেঁচে যায়। শিশুদের সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করা হচ্ছে। এসব তো হাসিনার নীতি। তিনি বলেন, সরকারকে ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই বইমেলা আয়োজনের উদ্যোগ নিতে হবে। এ দাবি নিয়েই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
স্মারকলিপি পাঠ করে শোনান খন্দকার শাহ আলম। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন প্রকাশক দেলওয়ার হাসান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বিবর্তনের মফিজুর রহমান লাল্টু, চারণের কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, ভাসানী পরিষদের হারুন অর রশীদসহ কয়েকজন সংস্কৃতিজন। তাঁরা সবাই ২০২৬ অমর একুশে বইমেলা ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু করার দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনা অভিমুখে রওনা হলে শাহবাগে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। এরপর তাঁদের মধ্য থেকে দশজন প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁও কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি পৌঁছে দেন।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
২০২৬ সালে চাকরিতে বেতন বাড়াতে চান? চার দক্ষতার অনুশীলন শুরু করুন এখনই
বছর শেষে ডিসেম্বর মাস এলেই প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কাজের গতি অনেকটাই কমে আসে। কর্মস্থলে চলে মন্থরগতিতে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মাসটিই হতে পারে নতুন বছরে পেশাগত সাফল্যের জন্য এগিয়ে থাকার সেরা সময়। মনে রাখবেন আপনার প্রতিষ্ঠান নতুন বছরে নিয়োগের পরিকল্পনা, পদন্নোতি ও বাজেট কিন্তু চূড়ান্ত করছে। ফলে আপনি যদি নিজেকে ঠিকঠাক দক্ষ করে তুলতে পারেন, তবে তা সরাসরি আপনার ভবিষ্যৎ বেতন ও কর্মজীবনের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করবে।
বিশেষ করে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে কিছু দক্ষতা দ্রুত অপরিহার্য হয়ে উঠছে। যেমন টমস গাইডের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যাঁরা দৈনন্দিন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করেন, তাঁরা সহকর্মীদের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি উপার্জন করেন। লাইটকাস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, এআই দক্ষতার উল্লেখ থাকা চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণত ২৮ শতাংশ বেশি বেতন দেওয়া হয়।
অনুশীলন শুরু করুন এখনই, ২০২৬ সালে ফল পাবেন—এআই প্রম্পটিংয়ে দক্ষতা বাড়ান—
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এখন আর কেবল ভবিষ্যতের ধারণা নয়; বর্তমানে প্রায় প্রতিটি আধুনিক প্রতিষ্ঠান এটির ব্যবহার শুরু করেছে। নিয়োগকর্তারা এখন এমন কর্মী খুঁজছেন, যারা জটিল ডেটা থেকে নতুন ধারণা তৈরি করতে পারে। পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় করতে এআই টুলস কার্যকরভাবে ব্যবহার করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
আপনার হাতের কাছে থাকা এআই টুলস যেমন চ্যাটজিপিটি বা জেমিনি দিয়ে শুরু করুন। প্রতিদিনের একটি পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ (যেমন রুটিন রিপোর্ট বা ইমেল টেমপ্লেট তৈরি) বেছে নিন। এরপর সেই কাজটির মান উন্নত করতে দুইটি ভিন্ন প্রম্পট ব্যবহার করে দেখুন। উদাহরণস্বরূপ, দীর্ঘ ই–মেইলকে সংক্ষিপ্ত বার্তায় পরিণত করতে মডেলকে নির্দেশ দিতে পারেন। এক মাসের মধ্যে আপনি দেখবেন, আপনার কাজের গতি বেড়েছে এবং আপনি ধারাবাহিকভাবে উচ্চ মানের আউটপুট তৈরি করতে পারছেন। এটি কর্মস্থলে আপনার মূল্য সরাসরি বাড়িয়ে দেবে।
ছবি: রয়টার্স