যেন সময় থেমে গিয়েছিল মায়ামির চেজ স্টেডিয়ামে। বল পায়ের ছোঁয়ায় ফুটবলের মায়া ছড়াচ্ছেন লিওনেল মেসি। আর গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক তার প্রতিটি ছোঁয়ায় উল্লাসে ফেটে পড়ছে। এমনই এক জাদুময় রাতে ইন্টার মায়ামি ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিল আটলান্টা ইউনাইটেডকে। আর মূল পার্থক্যটা গড়ে দিলেন সেই চিরচেনা জাদুকর লিওনেল মেসি।

মেসি গোল করলেন দুটি, অ্যাসিস্ট করলেন একটি। আর তারই হাত ধরে মায়ামি ছুঁয়ে ফেলল পরিপূর্ণ জয়। এই জোড়া গোলের সঙ্গে মৌসুমে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ২৬।

আরো পড়ুন:

মেসির তিন অ্যাসিস্টে আর আলবার জোড়া গোলে মায়ামির দাপুটে জয়

মেসির জোড়া গোলে মায়ামির জয়

তবে রাতটা ছিল বিশেষভাবে জর্ডি আলবার জন্যও। মেসির দীর্ঘদিনের বার্সেলোনা সতীর্থ নিজের ক্লাব ক্যারিয়ারের শেষ ঘরের মাঠের ম্যাচ খেললেন। আর স্টেডিয়ামজুড়ে দর্শকেরা তাকে দাঁড়িয়ে বিদায় জানালেন।

ম্যাচের ২১ মিনিটে মেসির কাছাকাছি দূরত্ব থেকে নেওয়া শট ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক জেডেন হিবার্ট। কিন্তু ৪০তম মিনিটে আর থামানো যায়নি তাকে। বালতাসার রদ্রিগেজ প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নেওয়ার পর মেসি দারুণ এক কার্লিং শটে বল পাঠান জালের ওপরের কোণা দিয়ে। অতুলনীয় এক গোল!

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে তার নিখুঁত পাস থেকে লুইস সুয়ারেজের ভলি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মেসি আবারও আলো ছড়ান। ৫২ মিনিটে তার লম্বা ক্রসফিল্ড পাস পেয়ে আলবা এগিয়ে গিয়ে হিবার্টকে লব করে দারুণ এক গোল করেন। শেষ দুই ম্যাচে এটি ছিল আলবার তৃতীয় গোল!

৬১ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন সুয়ারেজ। ফাফা পিকল্টের ক্রস প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা ঠিকভাবে দূরে সরাতে পারেননি। সেই বলেই অসাধারণ এক ভলিতে গোল করেন উরুগুইয়ান কিংবদন্তি। এই গোলেই সুয়ারেজের পেশাদার ক্যারিয়ারের গোলসংখ্যা ছুঁয়ে ফেলল ৬০০। যা তার দুর্দান্ত ক্যারিয়ারের আরেক মাইলফলক।

ম্যাচের শেষদিকে, ৮৭তম মিনিটে মেসি এবার আলবার কাছ থেকেই পেলেন এক চমৎকার লফটেড বল। বুকে নিয়ন্ত্রণে এনে এক ঝলকে শট এবং গোল! স্কোরলাইন ৪-০। আর স্টেডিয়ামজুড়ে কেবল একটাই নাম মেসি!

এই জয়ে মেসি গড়লেন নতুন এক রেকর্ড। এমএলএস ইতিহাসে এক মৌসুমে নয়টি ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হলেন তিনি।

ম্যাচ শেষে ইন্টার মায়ামির কোচ ও সতীর্থরা প্রশংসায় ভাসালেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে। মেসি এখন জাতীয় দলের শিবিরে যোগ দেবেন পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে মঙ্গলবারের ম্যাচের আগে। 

ঢাকা/আমিনুল

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ফ টবল গ ল কর আলব র

এছাড়াও পড়ুন:

ফ্যাসিবাদী কাঠামো রেখে দিতে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে: ডাকসু ভিপি

পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রেখে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। আজ শনিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ ও জুলাই স্মৃতি: শাবিপ্রবি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শাখা ছাত্রশিবির। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিপ্লব হয়েছিল ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপ করা, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণ করার জন্য। কিন্তু আজকে দেখতে পাচ্ছি, ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রেখে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো বলতে শুরু করেছে যে নির্বাচিত সরকার এলে গণভোট, সংবিধান, সংস্কারগুলো হবে কি হবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, এই জুলাই শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য হয়েছে। সব ফ্যাসিবাদী কাঠামো, ফ্যাসিবাদের দোসর ও খুনি হাসিনার বিচার করা ছাড়া এই প্রজন্ম থামবে না।’

সব ছাত্রসংগঠনকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘সেটা যে-ই হোক, ছাত্রদল হোক বা ছাত্রশিবির—বাংলাদেশপন্থী সবাইকে এক হতে হবে। এখন যারা আমাদের শত্রু, তাদের মোকাবিলা না করে যদি নতুন বাংলাদেশে আবারও স্পেস দেওয়া হয়, তাহলে সামনে আরও বড় ষড়যন্ত্র হবে। জুলাইকে নানা উপায়ে ছোট দেখানোর চেষ্টা চলছে। বলা হচ্ছে, এটা নাকি শুধু একটা আন্দোলন কিংবা ক্ষমতার পালাবদল।’

দলমত-নির্বিশেষে জুলাই বিপ্লব হয়েছে উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘যখন সব রাজনৈতিক দল এককভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে, তখন সব সাধারণ ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দল একত্রে দল ও মতকে ঊর্ধ্বে রেখে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু আজ আমরা সেই মুহূর্তকে ভুলে যাচ্ছি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই আমাদের সবাইকে নতুন বাংলাদেশ গড়তে এক ও একতাবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।’

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি তারেক মনোয়ারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ