খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় আলোচিত শিশু জিসান হত্যা মামলায় আসামিদের বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে স্থানীয়রা। এ মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের মা ও বাবাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারাও এ মামলার আসামি। 

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর জিসানের (৭) লাশ মাটি খুড়ে উদ্ধার করে পুলিশ। শিশু জিসানের বাবা আলমগীর হোসেন দেয়াড়ায় অবস্থিত জুট টেক্সটাইল মিলে (মন্ডল মিল) মেকানিক্যাল পদে চাকরি করেন।

আরো পড়ুন:

মুন্সীগঞ্জে হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন

চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই: ৪ আসামি গ্রেপ্তার  

আজ রবিবার (১২ অক্টোবর) সকালে দেয়াড়া গ্রামে ফয়সালের বাড়িতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হামলা করে। এ সময় তারা বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।

হত্যার ঘটনায় জিসানের বাবা আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে ফয়সাল, ফয়সালের মাহিনুর বেগম ও বাবা হান্নান শেখকে আসামি করে হত্যা ও গুমের অভিযোগ এনে দিঘলিয়া থানায় মামলা করেন।

মাহিনুর বেগম ও হান্নান শেখকে লাশ মাটির নিয়ে চাপা দিয়ে লাশ গুম করতে ছেলেকে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর দৌলতপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে, জিসান হত্যার বিচারের দাবিতে রবিবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলার দেয়াড়া খেয়াঘাট মোড়ে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। 

এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মনিবুর রহমান, শেখ আবু জাফর, শেখ মামুন আলম, মোল্লা নাজমুল হক, শেখ মিল্টন, মোল্লা রাজু আহমেদ, আব্দুল কাদের জনি, মোহাম্মদ আলী টুটুল, আনোয়ার হোসেন, মোল্লা মাহমুদুল হাসান মিঠু, হালিম খলিফা, সোহেল জাফর মঈন, রাজীব আহমেদ প্রমুখ।

দিঘলিয়া থানার ওসি এইচ এম শাহীন হত্যাকাণ্ডের কারণ জানাতে গিয়ে বলেন, ‘‘গ্রেপ্তার যুবক ফয়সাল মাদকাসক্ত। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের অসংলগ্ন কথা বলছেন। কখনো বলছেন, তাকে গালি দেওয়ার কারণে ক্ষোভে তিনি হত্যা করেছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তাদের মধ্যে পূর্বশত্রুতার তথ্য পাওয়া যায়নি।’’ 

ওসি আরো বলেন, ‘‘শিশু জিসানকে কুপিয়ে হত্যার পর হত্যাকারী ফয়সালকে বাঁচাতে তার মা-বাবা লাশটি মাটিতে পুতে গুম করতে সহযোগিতা করেন বলে তারা স্বীকার করেছেন। এ কারণে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায়ে জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন।’’

পুলিশ জানায়, গত ৯ অক্টোবর বিকাল থেকে শিশু জিসান নিখোঁজ হয়। তার খোঁজ না পেয়ে জিসানের বাবা দিঘলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে সিসিটিভির ফুটেজে পার্শ্ববর্তী দেয়াড়া গ্রামের হান্নান শেখের ছেলে ফয়সালের সঙ্গে জিসানকে সর্বশেষ তাকে দেখা যায়। ফয়সালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।  

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহিন বলেন, ‘‘ফয়সালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জিসানকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করেন। সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন হবে।’’
 

ঢাকা/নুরুজ্জামান/বকুল 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর হত য এল ক ব স হত য র ন হত য

এছাড়াও পড়ুন:

রাজশাহীর আরডিএ কমপ্লেক্সের ইজারা বাতিল করে সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র করার দাবিতে মানববন্ধন

রাজশাহীর আরডিএ কমপ্লেক্স একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র করার দাবিতে ‘রাজশাহী নগরবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে নগরীর তালাইমারী মোড়ে অবস্থিত ওই কমপ্লেক্সের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র হিসেবে ভবনটি নির্মাণ করা হলেও এটি এখন সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে না। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) একটি জনবিরোধী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এটিকে লিজ দিয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বক্তারা অবিলম্বে এই ইজারা বাতিল করে ভবনটিকে ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, রাজশাহীতে জুলাই অভ্যুত্থানের আন্দোলনের সময় মতিহার চত্বর, তথা তালাইমারী মোড় ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যেখান থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট, রাজশাহী কলেজ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নাগরিক সমাজ ও আমজনতা আন্দোলন সংঘটিত করে। ভবনটিকে জুলাই ইতিহাসসহ এই অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাস, বরেন্দ্র ভূমির ইতিহাস এবং ১৯৪৭ থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলার আন্দোলন–সংগ্রাম, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাস উপস্থাপন এবং সংরক্ষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে আরডিএ কমপ্লেক্স ভবনের জনবিরোধী ইজারা বাতিলের দাবি জানান এবং এর নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র’ করার দাবি জানান।

নদীগবেষক ও লেখক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নই। শিক্ষানগরীর ধারাবাহিকতা আমরা রাখতে চাই। কিন্তু ভবনটি নির্মিত হয়েছিল ইতিহাস সংরক্ষণ ও সংস্কৃতিচর্চার উদ্দেশ্যে, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়।’

জুলাই ৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী বলেন, ‘৫ আগস্ট পরিবর্তনের পর আমরা আশা করেছিলাম, দখলবাজি ও অন্যায়ের অবসান হবে। কিন্তু ভবনটি নানা কৌশলে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। আমরা রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে এখানে ইতিহাস সংরক্ষণ ও সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় ছাত্র-জনতা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।’

রাজশাহী মহানগর ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাদিম সিনা বলেন, ‘ভবনটি হওয়ার কথা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যেখানে অডিটরিয়াম, আর্ট গ্যালারি, ও নাট্যশালা থাকবে। রাজশাহীতে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধার অভাব আছে। অথচ এটিকে একটি বেসরকারি স্কুলকে লিজ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, এটি তার মূল উদ্দেশ্যে ফিরে আসুক।’

আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর তালাইমারী মোড়ে ১২ হাজার ৫১৮ বর্গমিটার জমিতে ৬০ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এটি ‘বঙ্গবন্ধু স্কয়ার’ নামে শুরু হলেও পরে নাম পরিবর্তন করে ‘আরডিএ কমপ্লেক্স’ রাখা হয়। সম্প্রতি ২৯ হাজার ৫০০ বর্গফুট স্পেস মাসে ৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকায় ১০ বছরের জন্য দেবাশীষ প্রামাণিক নামের এক ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়া হয়, যিনি পরবর্তী সময়ে এটি একটি স্কুলকে ভাড়া দেন। ইতিমধ্যে স্কুলটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক হোসেন আলী পিয়ারা, নারীনেত্রী ঈশিতা ইয়াসমিন, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাসের সভাপতি শামীউল আলীম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মী ওয়ালিউর রহমান প্রমুখ।

এর আগে ৫ নভেম্বর ৩৬ জুলাই ছাত্র পরিষদ নামে একটি সংগঠন ইজারা বাতিল চেয়ে মানববন্ধন করে।

আরডিএ কমপ্লেক্স স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল তারিক বলেন, ‘আজ কারা কর্মসূচি পালন করেছেন, তা মাত্র জানলাম। এ বিষয়ে জেনে পরে মন্তব্য করতে পারব।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • রাজশাহীর আরডিএ কমপ্লেক্সের ইজারা বাতিল করে সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র করার দাবিতে মানববন্ধন
  • হাসপাতালে ভিড় না করতে ফখরুলের অনুরোধ
  • হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার খবর নিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা
  • বাবা হলেন নিলয় আলমগীর
  • বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে শেখ সাদীর কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ
  • বাউলদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব
  • ভোলা-বরিশাল সেতুসহ ছয় দফা দাবিতে ভোলায় মানববন্ধন
  • খুলনায় আপ বাংলাদেশের নেতা ফাইজুল্লাহ শাকিলকে দল থেকে অব্যাহতি
  • ভোলা পৌরসভার কর্মীদের বিক্ষোভ, ‘সন্ত্রাসীদের ধরে দে, নইলে গাড়ি কিনে দে’ স্লোগান
  • বাউল আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে খুলনায় মানববন্ধনে হামলা, মারধর