কৃষক দল নেতার বাড়ির পাশ থেকে অস্ত্র উদ্ধার, পুলিশ বলল, ‘ফাঁসাতে কেউ রেখে গেছে’
Published: 13th, July 2025 GMT
ময়মনসিংহের ভালুকায় কৃষক দল নেতার বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র আছে—এমন খবরে গতকাল শনিবার মধ্যরাত থেকে আজ রোববার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। বাড়িতে থাকা ঘরগুলোয় তন্ন তন্ন করে খুঁজেও অস্ত্র পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির পাশের একটি বাগানে পাওয়া যায় একটি নাইন এমএম বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও পাঁচটি গুলি।
পুলিশ বলেছে, ওই নেতাকে কেউ ফাঁসাতে তাঁর বাড়ির কাছে অস্ত্র ফেলে রেখে গেছে। তাই এ ঘটনায় ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়নি।
কৃষক দলের ওই নেতার নাম মো.
মো. হাফিজ উদ্দিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে হঠাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁর বাড়িতে এসে বলতে থাকেন, এখানে অস্ত্র আছে। তাঁরা বাড়ির চারটি কক্ষ ও একটি রান্নাঘর তন্ন তন্ন করে খোঁজেন। কিন্তু কোথাও অস্ত্র পাননি। পরে বাড়ির ১০০ থেকে ১৫০ গজ দূরের বাগানে কাপড়ে মোড়ানো একটি পিস্তল পাওয়া যায়। এটি নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অস্ত্রটির ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে তাঁদের বলেন।
কৃষক দল নেতা হাফিজ উদ্দিনের দাবি, ‘আমাকে ফাঁসাতে এমনটি করা হয়েছে। কিন্তু কারা করছে, বুঝতে পারছি না। যে কাজ হয়েছে, তা খুবই নোংরা। গত এপ্রিলে আমার ছেলে সাবাব সরকারকে মেরে বাড়ির পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটির নিচে ফেলে যায়। কোন শত্রু, কী কারণে এমনটি করছে জানতে পারলে ছেলে হত্যায় মামলা করতে পারতাম।’
ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্রটি যার বাড়ির পাশে যাওয়া যায় তাঁকে সন্দেহ করে। পরে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়, জঙ্গলে অস্ত্রটি রেখে হাফিজ উদ্দিনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁকে কারা ফাঁসাতে পারে বা কেন তাঁর বাড়ির পাশে অস্ত্রটি পাওয়া গেল, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন বন্ধ্যাত্বে ভুগছেন: ডব্লিউএইচও
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রথমবারের মতো বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ, সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা উন্নত করার জন্য গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। ডব্লিউএইচও তাদের প্রতিবেদনটি শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) প্রকাশ করেছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফিপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মালয় টাইমস।
আরো পড়ুন:
পুতুলকে নিয়ে ভাবমূর্তি সংকটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
কোভিড-১৯ এর টিকার নতুন সুপারিশমালা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
ডব্লিউএইচও’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন তাদের জীবদ্দশায় বন্ধ্যাত্বের সম্মুখীন হয়ে থাকে। এই অবস্থা সব অঞ্চল এবং আয়ের স্তরের ব্যক্তি এবং দম্পতিদের প্রভাবিত করে। কিন্তু তারপরও নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই কম।
ডব্লিউএইচও’র যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান প্যাসকেল অ্যালোটি সাংবাদিকদের বলেন, বন্ধ্যাত্বের বিষয়টি ‘অনেক দিন ধরে’ অবহেলিত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নতুন গাইডলাইনটি একীভূত ও প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করবে যাতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিরাপদ, কার্যকর ও সকলের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য হয়।
ডব্লিউএইচও-এর মতে, বন্ধ্যাত্ব হলো পুরুষ ও নারী প্রজনন ব্যবস্থার একটি অবস্থা, যা ১২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত অরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরে গর্ভধারণ করতে অক্ষমতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এই পরিস্থিতি বড় ধরনের দুর্দশা, কলঙ্ক ও আর্থিক সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ডব্লিউএইচও বলেছে, বেশ কয়েকটি দেশে বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষা ও চিকিৎসার বেশিরভাগ খরচ রোগীদের বহন করতে হয়, যা প্রায়শই ‘বিপর্যয়কর আর্থিক ব্যয়’ ডেকে আনে। কিছু পরিস্থিতিতে, এমনকি ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) এর একটি রাউন্ডের খরচও গড় বার্ষিক পরিবারের আয়ের দ্বিগুণ হতে পারে।
বন্ধ্যাত্বের ওপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শুক্রবার প্রকাশিত প্রথম গাইডলাইনে ৪০টি সুপারিশ রয়েছে। যা বন্ধ্যাত্বের সাধারণ কারণ খুঁজে বের করার জন্য নির্দিষ্ট রোগ বা অবস্থা জানার জন্য একটি যত্ন, নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য প্রমাণ-ভিত্তিক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কে বয়সের ব্যবধান, যৌন সংক্রমণ সম্পর্কিত বিষয়ে অসচেতনতা, দ্বন্দ্ব, দুর্দশা এবং আর্থিক কষ্টের কারণ বন্ধ্যাত্ব বাড়ছে বলে প্রতিবেদেন উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের সেবা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে আরো বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাদ্য, শারীরিক কার্যকলাপ এবং তামাক ব্যবহার বন্ধের মতো জীবনধারার ব্যবস্থাগুলো সুপারিশ করা হয়েছে।
ঢাকা/ফিরোজ